কার্গো নিষেধাজ্ঞায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের শংকা


বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহনে যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের আশংকা করছে  ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।  সেই সঙ্গে বৈদেশিক রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে সংগঠনটি। 

রোববার সংগঠনটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এ কথা বলা হয়। 

বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশ বিমান প্রতি সপ্তাহে ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যে চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করে। প্রতিটি ফ্লাইটে প্রায় ২৫টন পণ্য পরিবহন করে। আর এসব পরিবহনে তৈরি পোষাকসহ শাক-সবজি ও কৃষিজাত পণ্য থাকে। 

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বিদ্যমান। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের রফতানিকৃত পণ্যের তৃতীয় আমদানিকারক দেশ। তাই যুক্তরাজ্যের বাজার বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

ঢাকা চেম্বার মনে করে, কার্গো পরিবহনের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানির উপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশ হতে তৈরি পোষাকের পাশাপাশি হিমায়িত মাছ সহ অন্যান্য পণ্য রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।   

ডিসিসিআই আরো মনে করে, বিভিন্ন কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমুদ্রপথে জাহাজযোগে পণ্য পাঠানো সম্ভব হয় না এবং সেক্ষত্রে রফতানিকারকদের নিজস্ব খরচে বিমানে করে পণ্য পাঠাতে হয়। যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের হংকং, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও দুবাই হয়ে পণ্য পাঠাতে হবে। যার ফলে ব্যবসায় ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগবে। যা বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতাও হারাবে।  

এ কারণে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদারের জন্য বিমান কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে ইতোমধ্যে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা যুক্তরাজ্য সরকারকে অবহিত করার পাশপাশি দুদেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানে কার্যক্রর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় ডিসিসিআই।

উল্লেখ্য, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যের বাজারে ৩২০ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে এবং এই সময়ে যুক্তরাজ্য থেকে ৩৩ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। 
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment