রঙের উৎসবে মেতে উঠল ভারত


বুধবার রঙের উৎসবে মেতে উঠল পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দারা। পশ্চিমবঙ্গে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন থেকে শুরু করে পাড়ার অলি-গলি, সর্বত্রই রঙের ঘনঘটা। ভোরে বৈতালিকের পর বিশ্বভারতীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মেলামাঠ পর্যন্ত শোভাযাত্রা বের হয়। এদিন সকাল থেকেই পুরো শান্তিনিকেতন চত্বর ‘রাঙা হাসি রাশি রাশি অশোকে পলাশে’ বর্ণময় হয়ে ওঠে বসন্ত উৎসবে। আবির রঙে মেতে ওঠে গোটা শান্তিনিকেতন চত্বর। সঙ্গীত ভবন, কলাভবন সর্বত্রই ছিল রঙ উৎসবের আমেজ। ছাত্রীদের পরনে হলুদে শাড়ি, মাথায় রাঙা পলাশ আর ছাত্রদের পরনে ছিল সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি। শান্তিনিকতনে আসা বিদেশি পর্যটকরাও উৎসবে গা ভাসিয়ে দেন।  শান্তিনিকেতনের ধাঁচে কলকাতা, সল্টলেক ও রাজ্যটির অন্য জেলাতেও বসন্ত উৎসবের আয়োজন হয়েছিল। সকাল থেকেই বসন্তের রঙে নিজেদের ভাসিয়ে দেন সবাই। গুরুজনদের পা থেকে শুরু করে প্রেমিক-প্রেমিকাদের গালেও লাগে রঙের ছোঁয়া। মনের গভীরেও ছুঁয়ে যায় গাঢ় লাল আবির। এক কথায় হোলির সকালে রং ঝড়ালো বসন্তের আনন্দধারা।  বেহালায় নিজের বাসায় হোলি উৎসবে মেতে ওঠেন সৌরভ গাঙ্গুলীর স্ত্রী ডোনা ও মেয়ে সানা গাঙ্গুলীও। কখনও মা মেয়ের গালে কখনও মেয়ে মায়ের গালে কখনও বা বাসায় উপস্থিত একের অপরের গালে রঙ মাখিয়ে দেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী প্রত্যেকেই পুরো দেশবাসীকে হোলির শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।  

রঙের উৎসবে মেতেছে সীমান্তে পাহারারত ভারতীয় সেনা জওয়ানরাও। শত্রুতা ভুলে জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ, রাজৌরি, সেক্টরে এই একটি দিনের রঙ উৎসবে মেতে উঠলেন জওয়ানরা। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে রঙ মাখিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি চলে মিষ্টি মুখের পালা। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভার নির্বাচন উপলক্ষ্যে হোলিকে সামনে রেখেই নির্বাচনী প্রচারণা সেরে নেন ডান-বাম সব দলের প্রার্থীরাই। হাওড়ার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী লক্ষীরতন শুক্লা থেকে শুরু করে মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষ, বারাসতের ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় সকলেই পথে নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করার সাথে সাথেই হোলি উৎসবে যোগ দেন। 
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

Post a Comment