রাস্তায় পড়ে আছে অগণিত টাকা, ছুঁইছে না কেউ


আশ্চর্য এক ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে। এমন ঘটনা সম্ভবত বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায়নি। সিউলের প্রাণকেন্দ্র সিউল স্কয়ারে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারী তার কাছে অগণিত পরিমাণ টাকা রাস্তায় ছুড়ে মেরেছে। পুরো রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য টাকার নোট। আর তার চেয়েও আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, এখন পর্যন্ত ওই নোটগুলোর একটিও ছুয়ে দেখেনি কেউ। না কোনো পথচারি, না আশপাশের কোনো বাসিন্দা।

দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম কোরিয়া হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাস্তার ওপরে ছড়িয়ে থাকা নোটগুলোর দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না কোনো পথচারি। অল্প সংখ্যক কিছু পথচারি নোটগুলোর তাকাচ্ছে। তবে তা শুধু একটি ছবি তোলার জন্য। সিউলের একটি বাণিজ্যিক এলাকাতে গত সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে ২০ লাখ উন (দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা) ছুড়ে ফেলে ৫৬ বছরের এক নারী। অথচ এতে নগরিতে কোনো বিশৃঙ্খলাই সৃষ্টি হয়নি বলে জানায় সিউলভিত্তিক গণমাধ্যমটি।

স্বাভাবিকভাবেই যে কেউ টাকার প্রতি আগ্রহী হয়। অথচ এতগুলো টাকা রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও কেউ তা ছুয়ে দেখছে না। কোরিয়ার আইন অনুসারে, কোথাও পড়ে থাকা মালিকবিহীন কোনো সম্পদ কেউ তুললে তাকে চুরির অপরাধে দায়ী করে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

সিউলের রাস্তায় পড়ে থাকা টাকাগুলো শেষ পর্যন্ত পুলিশকে উদ্ধার করতে হয়েছে। তবে কেউ যদি ঘোষণা করে তার সম্পদের মালিকানা ছেড়ে দেয় তবে তা কেউ তুলে নিলে কোনো অপরাধ হবে না। নোটগুলো ছুড়ে মারা ওই নারী স্বেচ্ছায় তার অর্থের মালিকানা ছেড়ে দিয়েছিল। এক্ষেত্রে নোটগুলো কেউ তুললেও অপরাধ হতো না। এরপরও কেউই নোটগুলো সংগ্রহ করেনি।

পুলিশের এক তদন্তে দেখা গেছে, কয়েকদিন আগে ওই নারী তার ব্যাংক হিসাব থেকে চার কোটি ২০ লাখ উন তুলেছিল। এগুলো দান করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে স্বামী কিংবা সন্তানেরা নিয়ে নিতে পারে- এমন শঙ্কায় কোনো একজন ব্যক্তিকে অর্থগুলো দান করতে ভয় পাচ্ছিলেন তিনি। আর এ কারণেই দানের উদ্দেশ্যে তিনি নোটগুলো রাস্তায় ছুড়ে মেরেছিলেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে ওই নারী কোনো হুমকিতে ছিলেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Source: banglarkhobor24
 

Post a Comment