সহপাঠীর ছুরিকাঘাতেই সোহেলের মৃত্যু


চট্টগ্রামে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাসিম আহমেদ সোহেল তার সহপাঠী সোহানের ছুরিকাঘাতেই মারা গেছেন। মাত্র এক মিনিটের এ কিলিং মিশনে সোহান ছাড়াও সরাসরি অংশ নিয়েছে অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী এবং বহিরাগত।

বুধবার ঘটনার সময়ের সি সি টিভি'র ফুটেজ দেখে এদের প্রত্যেককেই শনাক্ত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত পাঁচজনসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে নিহতের পরিবার।

নগরীর প্রবর্তক মোড়ে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন এবং ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় তলায় লাগানো সি সি টিভি ক্যামেরার ফুটেজে পাওয়া গেছে সোহেল হত্যার পুরো চিত্র। মঙ্গলবার দুপুর ঠিক একটা এক মিনিটে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ছাত্রলীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা। তাদের সবারই হাতে ছিলো ধারালো অস্ত্র। ক্যাম্পাসে ঢুকেই প্রথমে প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীদের মারধর শুরু করে। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

এক পর্যায়ে নীল শার্ট পরিহিত সোহান তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে সোহেলকে উপূর্যপরি আঘাত করতে থাকে। এক মিনিটের মধ্যে তাকে গুরুতর জখম করে তারা চলে যায়। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার পর পরই সেই সি সি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ তুলে দিয়েছে পুলিশের হাতে।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আশরাফুল আলম আশরাফ, তামিমুল আলম তামিম, ওয়াহিদুজ্জামান নিশান, জিয়াউল হাসান চৌধুরী এবং এস এম গোলাম মোস্তাফাকে আটক করে। নিহত সোহেলের অনুসারীরা চকবাজার থানায় গিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার ব্যাপারে তাদের শনাক্ত করে।

সোহেলকে হত্যার ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরো ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামী করে চকবাজার থানায় মামলা করেছে তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আবু তাহের। আটককৃত ৫ জনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের এম বি এ’র শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের বিরোধের জের ধরে হামলায় নিহত হয় শিক্ষার্থী সোহেল। এ ঘটনায় আরো দু’জন আহত হয়েছে।
সূত্র : আমাদের সময়

Post a Comment