কক্সবাজারে কার্গোবিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত : নিখোঁজ ২


কক্সবাজারের নাজিরাটেক এলাকায় বিসমিল্লাহ এয়ারলাইন্সের পোনাবাহী একটি কার্গোবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বুধবার সকালে নাজিরাটেক সমুদ্র পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। 

এসময় নিখোঁজ ৪ পাইলটের মধ্যে দুইজনকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের কক্সবাজার হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। নিহত পাইলট কুলিশ নোলরী ফ্লাইটের ইঞ্জিনিয়ার। 

আহত পাইলট হলেন, গাটারভ ওয়াদ। তার অবস্থাও সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

নিখোঁজ অন্যজন দুইজন পাইলট হলেন, বিমানের নেভিটের কালটুরভ কো-পাইলট জুলুডিমির। তারা চারজনই ইউরোপিয়ান।বিধ্বস্ত হওয়া পোনাবাহী এয়ারকার্গো বিমানটি কক্সবাজারের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন অ্যাকোয়াশপ গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগোনিউজকে বলেন, বিদেশি ৪ পাইলট নিয়ে এয়ারকার্গো বিমানটি পোনা বোঝাই করে যশোরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। বিমান চালু করে পাইলট সবকিছু ওকে আছে এমন সিগন্যাল দিয়ে যাত্রা শুরু করে। রানওয়ে থেকে উঠে একটু না যেতেই চোখের পলকে বিমানটি সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়ে যায়।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সাধন কুমার মোহন্ত জানান, পোনা বোঝাই করে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে রওয়ানা দিয়ে নাজিরারটেকের অদূরে গিয়ে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। এতে নিহত হন ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার কুলিশ নোলরী।

স্থানীয় কাউন্সিলর আকতার কামাল জানান, কক্সবাজার উপকূলের নাজিরারের প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা নজরে এলে তাৎক্ষণিক অন্তত অর্ধশত বোট নিয়ে স্থানীয় লোকজন ও জেলেরা দুর্ঘটনাস্থলে যায়। তারা প্রায় দেড়ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে দু’জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এর উপ-সহকারী পরিচালক জসীম উদ্দীন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। উদ্ধার করে তাদেরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া জানান, হাসপাতালে আনার বেশ আগেই ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার কুলিশ নোলরী মারা যান। আহত পাইলট গাটারভ ওয়াদের এর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তার মাথায় ও ডান পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। তার মাথা ও পায়ের অপারেশন করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তাদের তত্ত্বাবধানের তার চিকিৎসার চলছে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন সূত্র জানায়, সাগরে এখন পূর্ণ জোয়ার চলছে। তাই বিমানটির অবস্থান বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না। ভাটা হয়ে আসলে উদ্ধারকারি দল কাজে যোগ দেবে।

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বিমান বিধ্বস্ত ও পাইলট নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment