লালমাই পাহাড়ে নতুন প্রত্নস্থান ১৪৬ ফুট উঁচু হাতিগাড়া মন্দির


কুমিল্লার লালমাই পাহাড়। যেখানে মাটি খুঁড়লেই বেরিয়ে আসে প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন। সেই পাহাড়েই আবিষ্কৃত হয়েছে নতুন প্রতœস্থান 'হাতিগাড়া মন্দির'। সমতল থেকে ১৪৬ ফুট উঁচুতে এ মন্দিরের সন্ধান পেয়েছে প্রতœতত্ত্ব বিভাগ। মন্দিরটি এখন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। এটি একটি প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির বলে জানিয়েছে প্রতœতত্ত্ব বিভাগ। চলতি অর্থবছরের খনন বাজেটে এটি খনন করা হয়। ৪২ দিনের খনন শেষে মন্দিরটির সন্ধান পাওয়া যায়।

কুমিল্লা কোটবাড়ী এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) গেট থেকে পশ্চিম দিকে খুব কাছেই হাতিগাড়া মন্দিরটির অবস্থান।

প্রতœতত্ত্ব বিভাগ বলছে, অষ্টম শতাব্দীর এ স্থাপনাটি শালবন বৌদ্ধবিহারের ১৩তম নিদর্শন। দেশের প্রতœসম্পদ সংরক্ষণের কর্মসূচিতে ১৯৫৫ সালে লালমাই পাহাড়ে, বিশেষ করে কোটবাড়ী এলাকার বিশাল অঞ্চলজুড়ে ওইসব প্রতœস্থানের সন্ধান মেলে। প্রতœতত্ত্ব বিভাগ লালমাই-ময়নামতি রেঞ্জের কোটবাড়ী শালবন বৌদ্ধবিহারকে ঘিরেই ৫৫টি প্রাচীন স্থাপনার সন্ধান পায়। একই জায়গায় এতগুলো প্রতœস্থানের সন্ধান বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ায়তো নেই-ই, বিশ্বেও বিরল।

ওই কর্মসূচির আওতায় ষাটের দশকে প্রতœস্থানগুলো উদ্ধারে খননকাজ শুরু করে প্রতœতত্ত্ব বিভাগ। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের বরাদ্দে হাতিগাড়া মন্দিরের খনন কাজ করা হয়।

প্রতœতত্ত্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার কোটবাড়ীর শালবন বৌদ্ধবিহারকে ঘিরে পাওয়া ৫৫টি প্রাচীন স্থাপনার মধ্যে ২৩টি খননযোগ্য। বাকিগুলো ধ্বংস হয়ে খননযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। এ ২৩টির মধ্যে হাতিগাড়া মন্দিরসহ ১৩টি খনন করা হয়েছে দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছরে। বাকি ১০টি এখনো খননের কাজ শুরু করা যায়নি। খনন বাজেটে অর্থের অপ্রতুলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে ওই ১০টি মূল্যবান প্রতœস্থান খনন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি হাতিগাড়া মুড়া এলাকায় সমতল থেকে ১৪৬ ফুট উঁচুতে অনুসন্ধান চালায় প্রতœতত্ত্ব বিভাগের ৯ সদস্যের একটি দল। ২০ জন শ্রমিকের নিরলস প্রচেষ্টায় গত ১০ মার্চ একটি মন্দিরের অবকাঠামো ও তার প্রবেশদ্বারের সন্ধান পায় দলটি। অবকাঠামো বিবেচনায় এটিকে বৌদ্ধ মন্দির বলেই নিশ্চিত হয় প্রতœতত্ত্ব বিভাগ।

কুমিল্লায় অবস্থিত চট্টগ্রাম অঞ্চল প্রতœতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, মন্দিরটির দক্ষিণ দিকে একটি দরজার চিহ্ন এবং একটি প্রদক্ষিণ পথ পেয়েছি। এটি একটি মন্দির বলে আমরা আপাতত নিশ্চিত হয়েছি।

কুমিল্লা নিউ শালবন বিহারের প্রধান শীলভাদ্র মহাথের বলেন, যে সকল স্থাপনা এখনো উন্মোচিত হয়নি সেগুলো উন্মোচন করে বহির্বিশ্বে দ্রুত প্রকাশ করা জরুরি। এতে আমাদের দেশ ও জাতি, বিশেষ করে কুমিল্লার শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে অনন্য উদাহরণ হিসেবে থাকবে।

কুমিল্লা ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টডিয়ান আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, সরকার এ বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট সহায়তা করছে। প্রত্যেকটি প্রতœস্থাপনা আমরা যাতে প্রতি বছর উন্মোচন করতে পারি সেজন্য কাজ এগিয়ে চলছে।

এ নিদর্শনটিকে ঘিরে এখানে একটি পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে হাতগাড়া এলাকাবাসী। প্রাচীন এই নিদর্শনটি সংরক্ষণ করে দর্শনার্থী ও পর্যটক আকর্ষণে প্রচার বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও বৌদ্ধ নেতারা।
সূত্র : আামাদের সময়

Post a Comment