স্মার্টফোন শপিংয়ে এগিয়ে এশিয়া


স্মার্টফোনে বন্ধু, আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা তো আছেই, সেই সঙ্গে আছে নেট ব্রাউজিং, গান শোনা এবং ভিডিও গেম খেলার পার্ট। সিঙ্গাপুরের জয় পাং নিজের স্মার্টফোনের মাধ্যমে আরো একটি কাজ করেন, সেটা হলো পণ্য বেচাকেনা। নতুন ই-কমার্স অ্যাপ ‘শপি’ ব্যবহার করে পাং তার অনলাইন ব্যবসাটিও পরিচালনা করেন। ২৯ বছরের প্রকৌশলী পাংয়ের মতো অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যকে নিয়ে যাচ্ছেন এক নতুন যুগে।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের করা গত বছরের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মার্কিন ভোক্তারা পণ্য কেনার চেয়ে স্মার্টফোন ডিভাইসটি গেম খেলায় ব্যবহার করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু এশিয়ার স্টার্টআপগুলো শপিং-সংক্রান্ত নানা অ্যাপ এনে বদলে দিচ্ছে বাণিজ্যিক চালচিত্র।

ইবের মতো বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সরাসরি পণ্য বেচাকেনা করতে পারবেন যে কেউ। তথাকথিত এ অনলাইন বাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারী ও কিছু প্রতিষ্ঠান। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও এ খাতে বিনিয়োগ হয়েছে ১০০ কোটি ডলারের বেশি।

এশিয়ায় বিশ্বের দুই শীর্ষ স্মার্টফোন বাজার চীন ও ভারত। এ অঞ্চলজুড়ে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী রয়েছে ১০০ কোটিরও বেশি। যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে তিনগুণ বেশি। হ্যান্ডসেট ব্যবহারের এ খতিয়ানই সহায়তা করছে অনলাইন ব্যবসার পরিসর বাড়াতে।

ব্রিটেন ভিত্তিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান উই আর সোশ্যাল এশিয়া স্মার্টফোনে শপিং নিয়ে এক সমীক্ষা করেছে। এতে দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৩ শতাংশ মানুষ জানুয়ারিতে স্মার্টফোন ব্যবহার করে পণ্য কিনেছে।

আগে অনলাইনে পণ্য বিক্রি করতে হলে বেশকিছু নিয়ম মেনে চলতে হতো। যেমন- পণ্যের ছবি নির্দিষ্ট ওয়েব পেজে আপলোড করা, পণ্যের বর্ণনা লেখা ও সর্বশেষে তা নিলামে তোলা। কিন্তু এখন শপি, জাপানের মেরকারি ও সিঙ্গাপুরের কারুউসেলের মতো অ্যাপ অনলাইন শপিং পদ্ধতি অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে। জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। 

গত বছরের নভেম্বরে তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় চালু হয় শপি। এখন ব্যবহারকারী ৩০ লাখের মতো। কর্মী সংখ্যা পৌঁছেছে ৫ হাজারে। শপি খুব কম লেনদেন ফি নিয়ে থাকে। এ অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন করা যায় বৈদ্যুতিক কেটলি, ডেনিম, আইফোন ৬এসের মতো বেশকিছু পণ্য। 

জাপানের মেরকারি অ্যাপ ব্যবহার করে পোশাক ও ভিডিও গেমসের মতো পণ্য বেচাকেনা করা যায়। তবে এসব পণ্যের বেশির ভাগই ব্যবহৃত। ২০১৩ সালে চালুর পর এ অ্যাপ ব্যবহারের পরিসর ক্রমেই বাড়ছে। 

মেরকারি জানায়, এ অ্যাপ জাপানে ২ কোটি ৫০ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে। বছরখানেক আগেও এর পরিমাণ ছিল ১ কোটি। এ অ্যাপের মাধ্যমে মাসিক ১ হাজার ইয়েনের বেশি লেনদেন হয়। তবে ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রকাশ করেনি স্টার্টআপ।

টোকিওর এ প্রতিষ্ঠানটি চলতি মাসে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে পেয়েছে ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। উই আর সোশ্যালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্মার্টফোনে শপিংয়ে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে ছয়টিই এশিয়ার। দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি রয়েছে চীন, হংকং, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর।

চীনের টেনসেন্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটও বলছে, এশিয়ার মোবাইল সার্ভিস পশ্চিমা বিশ্বের তুলনায় উন্নত হয়ে উঠছে। চীনের ই-কমার্স বাজারের আধিপত্য বিস্তার করে আছে আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিংস লিমিটেডের তাওবাও। গোল্ডেন গেট ভেঞ্চার্স, ইউএস ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম সিকুইয়াহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ৬০ লাখ ডলারের বেশি তহবিল পেয়েছে সিঙ্গাপুরের কারুউসেল। তবে প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য নিয়ে কোনো তথ্য দেননি প্রতিষ্ঠাতা সিউ রুই কুয়েক। সূত্র- ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment