বরগুনায় কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে অপহরণের অভিযোগ

বঙ্গোপসাগরের মোহনায় রেনু পোনা শিকার করতে গিয়ে কোস্টগার্ড সদস্যদের লাঠিচার্জে দুই নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। এসময় এক গৃহবধূকে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে। তবে কোস্টগার্ড এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

নিখোঁজ ওই গৃহবধূর নাম আসমা বেগম (২৭)। আহতরা হলে, কদভানু (৪৫), তার ছেলে রাসেল (২৫) ও জবেদা বেগম (৩৫)। তারা সবাই তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। বুধবার বেলা ১২টার দিকে তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেতুলবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে তেতুলবাড়িয়া এলাকায় পায়রা নদীতে নারী ও শিশুরা কারেন্ট জাল দিয়ে রেনু (চিংড়ি) পোনা শিকার করছিলো। হঠাৎ করে ফকিরহাট ক্যাম্পের কোস্টগার্ড সদস্যরা সেখানে এসে তাদের বেধড়ক পিটিয়ে কারেন্ট জাল নিয়ে যায়। এসময় তাদের পিটুনিতে আহত হয়ে কদভানু ও তার ছেলে রাসেল নদীর তীরেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

এ ঘটনায় এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে চিৎকার শুরু করলে জবেদা বেগম ও তার বোনের মেয়ে আসমাকে কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের ট্রলারে তুলে দ্রুত চলে যায়। পরে নিদ্রার চর থেকে জবেদা বেগমকে উদ্ধার করা হলেও এ রিপোর্ট করা পর্যন্ত আসমার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ আসমা বেগমের খালা জবেদা বেগম জানান, কোস্টগার্ড সদস্যরা তাকে এবং তার বোনের মেয়ে আসমাকে ট্রলারে ওঠানোর পরে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে জ্ঞান ফেরার পর তাকে তুলে নেয়ার স্থান থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে নিদ্রার চরে নামিয়ে দেয় কোস্টগার্ড। তাকে ছেড়ে দেয়ার সময় কোস্টগার্ডের ট্রলারে আসমা ছিলোনা বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে কোস্টগার্ড ফকিরহাট ক্যাম্পের স্টেশন কমান্ডার শামীম জানানা, তারা অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করতে গেলে নারী ও শিশুরা তাদের উপর হামলা করে। এসময় তারা আত্মরক্ষার্থে লাঠিচার্জ করে।  

তিনি আরো বলেন, জবেদা বেগম তার জাল ফেরত নেওয়ারর জন্য কোস্টগার্ডের ট্রলারে উঠেছিলো। পরে কোস্পগার্ড তাকে নিদ্রার চরে নামিয়ে দেয়। তবে আসমা বেগমকে তাদের ট্রলারে নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি। 

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম মাতুব্বর জানান, কদভানু ও জবেদা বেগমকে আহত অবস্থায় প্রথমে তিনি তালতলী থানা ও পরে তালতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। বর্তমানে আহতদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তালতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকরতা (ওসি) বাবুল আক্তার জানান, থানায় যাওয়ার পর ওই দুই নারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment