প্রাচীন নক্ষত্রের পাশেও কি গ্রহের জন্ম হয়?


মহাবিশ্বের কিছুই হয়তো সে অর্থে মানুষের এখনো জানা হয়নি। বিজ্ঞানের আশীর্বাদে গ্রহের জন্মপ্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষ ধারণা পেলেও প্রাচীন কোনো নক্ষত্র থেকেও যে নতুন করে কোনো গ্রহ জন্ম নিতে পারে বিজ্ঞানীরা তা মনে করতেন না। তবে সম্প্রতি পাওয়া একটি ছবি থেকে সে চিন্তা এখন করতেই হচ্ছে। 
চিলিতে স্থাপিত সুবিশাল টেলিস্কোপ ইন্টারফেরোমিটার (ভিএলটিআই) থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পৃথিবী থেকে ৪ হাজার আলোকবর্ষ দূরের দ্বৈতনক্ষত্র (ডাবল স্টার) আইআরএএস ০৮৫৪৪-৪৪৩১ কে ঘিরে চাকতিসদৃশ (ডিস্ক) কিছুর অস্তিত্ব।  
এই চাকতিসদৃশ দৃশ্যের সঙ্গে নবীন নক্ষত্রগুলোর আশপাশে যেভাবে গ্রহের জন্ম হয়, সে দৃশ্যের মিল রয়েছে। ইন্টারফেরোমিটার থেকে পাওয়া ছবিটিকে বলা হচ্ছে, একটি পরিণত নক্ষত্রকে ঘিরে থাকা চাকতির যত ছবি এখনো পর্যন্ত পাওয়া গেছে তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে স্পষ্ট। আর গবেষকরা বলছেন, প্রাচীন নক্ষত্রের পাশে গ্রহগুলো আসলেও কোনো আকৃতি পায় কি না সেটি স্পষ্ট না হলেও এই ছবিটি তেমনটি হওয়ার সম্ভাবনারই একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই গবেষণার সঙ্গে জড়িত একজন বেলজিয়ামের ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমির হান্স ফান উইনকেল। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, আমাদের পর্যবেক্ষণ এবং মডেলিং এই ডিস্কগুলো নিয়ে গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচিত করেছে। একইসঙ্গে দ্বৈতনক্ষত্রের বিবর্তন সম্পর্কে জানতেও এ কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে আরো বলা হয়েছে, এই প্রথমবারের মতো স্থান-কাল বিবেচনায় ক্লোজ বাইনারি সিস্টেম (মহাশূন্যে কাছাকাছি থাকা দুটি বস্তু; যারা নিজেদের মধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে একে অপরকে ঘিরে ঘুরতে থাকে) এবং তাদের ধূলিময় পরিবেশের জটিল মিথষ্ক্রিয়ার বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।   
ছবিটি তুলতে বিজ্ঞানীরা বেশকিছু ভিএলটিআই টেলিস্কোপ, প্রেসিশন ইন্টিগ্রেটেড-অপটিক্স নেয়ার-ইনফ্রারেড ইমেজিং এক্সপেরিমেন্ট (পাইওনিয়ার) এবং নতুন একটি উচ্চগতির ইনফ্রারেড নির্ণায়ক ব্যবহার করেছেন। 
গবেষক দলের সদস্য ইংল্যান্ডের এক্সেটার ইউনিভার্সিটির জ্যাকুয়েস ক্লাসকা একই বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা বিস্ময়কর রকমের স্পষ্ট একটা ছবি পেয়েছি, ১৫০ মিটার (৪৯০ ফিট) ব্যাসবিশিষ্ট একটা টেলিস্কোপে যা দেখা যায়, এ ছবিটার স্পষ্টতা তার সমান। তিনি আরো বলেছেন, এ ছবিটার রেজ্যুলেশন এত বেশি যে, বলা যায়, আমরা ২ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে একটি ১ ইউরোর কয়েনের আকার-আকৃতি ধরতে পারবো। 
আইআরএএস ০৮৫৪৪৪-৪৪৩১ দ্বৈতনক্ষত্রে যে দুটি নক্ষত্র রয়েছে তার একটি হলো প্রাচীন লোহিত দানব (রেড জায়ান্ট স্টার) ও অন্যটি পরে সৃষ্টি হওয়া ‘সাধারণ’ নক্ষত্র। গবেষকরা বলছেন, ছবিতে যে চাকতি দেখা যাচ্ছে তা লোহিত দানব থেকে আসা ধূলিকণা দিয়ে তৈরি। 
গবেষণার নেতৃত্বে থাকা ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমির মাইকেঝঢ়ধপবল হিলেন বলেন, অপেক্ষাকৃত অনুজ্জ্বল একটা আভা দেখে আমরা খুবই অবাক হয়েছি। এই আভাটা সম্ভবত সাধারণ নক্ষত্রটিকে ঘিরে বাড়তে থাকা ছোট চাকতিটা থেকে আসছে। 

হিলেন আরো বলছেন, এখানে যে দুটি নক্ষত্র আছে, তা আমরা আগেই জানতাম। কিন্তু দ্বিতীয়টিকে সরাসরি দেখতে পাওয়ার আশা আমাদের ছিল না। দূরবর্তী এই নক্ষত্রের একেবারে আভ্যন্তরীণ এলাকার ছবি দেখতে পাওয়ায় আমরা পাইওনিয়ারের নতুন নির্ণায়কের কাছে কৃতজ্ঞ। 
হিলেন ও তার সহকর্মীরা তাদের গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স জার্নালে প্রকাশ করছেন। 
ভিএলটিআই টেলিস্কোপটি চিলির উত্তরাঞ্চলের ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজার্ভেটরির প্যারানাল অবজার্ভেটরিতে স্থাপিত। 
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment