পাকিস্তানের দুঃখ শচীন-কোহলি


চীনে দুঃখ হোয়াংহো নদ। পাকিস্তানের দুঃখ কী? অনেক কিছুই উঠে আসবে। উগ্র জঙ্গিবাদ, সীমান্ত সমস্যা, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ অনেক কিছু। আরে ভাই, আলোচনা করছি তো ক্রিকেট নিয়ে। এখানে রাজনীতি টেনে আনছি কেন? ওওও, এই কথা। তাহলে তো চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায়, পাকিস্তানের দুঃখ শচীন টেন্ডুলকার আর বিরাট কোহলি।

একেবারে ঠিক ধেরেছেন। ক্রিকেট বিধাতাও কেমন যেন একটু হেঁয়ালি। ওয়ানডে ক্রিকেটের কথাই ধরুন না কেন- ভারত-পাকিস্তান এখনো পর্যন্ত ১২৭ বার মুখোমুখি হয়ে গেছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের জয় ৭২ ম্যাচে। আর ভারতের জয় ৫১ ম্যাচে। অর্থাৎ পাকিস্তান-ভারত ৭২:৫১। বাকি চার ম্যাচে খেলা হয়নি বৃষ্টির কারণে।

আপনি হয়তো এক্ষণে বলবেন, থামেন থামেন। এটা তো অভারঅল। এখন বিশ্বকাপ চলছে। বিশ্বকাপ নিয়েই আসেন কথা বলি। এ জায়গায় এসে চুপটি মেরে যাবে পাকিস্তানি ভক্তরা। এই একটি জায়গা যে এখনো পাকিস্তানের কাছে অজেয় ভারত! বিশ্বকাপের বিশ্বমঞ্চে যে কোনোভাবেই ভারতকে এখনো পর্যন্ত হারাতে পারেনি পাকিস্তান!

কী আশ্চর্য তাই না! ওয়ানডে বলুন আর টি-টোয়েন্টি, বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ১১ বার মুখোমুখি হলো ভারত-পাকিস্তান। ফলটা ভারতের পক্ষেই শতভাগ। ১১:০ ব্যবধান। ভারতকে বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনোই হারানোর স্বাদ নিতে পারেনি পাকিস্তান। না ইমরান খান পেরেছেন, না ওয়াসিম আকরাম, না ইনজামাম, না শহিদ আফ্রিদি। বরাবরই ভারতের কাছে বিশ্বকাপে পরাজিত দল পাকিস্তান। এ যেন এক জটিল ধাঁ ধাঁ।

পাকিস্তানের সামনে ধাঁধাঁটা তৈরি করেছেন কেবল মাত্র দুই জন ক্রিকেটারই। ওই যে ক্রিকেট বিধাতাকে হেঁয়ালি বললাম! কারণ, বিশ্বকাপে দুইজন মাত্র ক্রিকেটারের হাতে বারবার নাকাল হতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। প্রথম থেকে শচীন টেন্ডুলকার। ২০১১ বিশ্বকাপের পর শচীনের এই জায়গাটা দখল করে নিয়েছেন বিরাট কোহলি। সুতরাং, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দুঃখ শচীন-কোহলিই।

বিশ্বকাপে পাকিস্তান-ভারত দ্বৈরথ শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সাল থেকে। সেবার পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নই হয়েছিল। কিন্তু গ্রুপ পর্বে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সিডনিতে মুখোমুখি হয়েছিল দুদদল। পাকিস্তান হেরেছিল তরুণ শচীন টেন্ডুলকারের কাছে। শচীন টেন্ডুলকার করেছিলেন ৫৪ রান।

এরপর ১৯৯৬ বিশ্বকাপে আবারো মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। ব্যাঙ্গালোরের ওই ম্যাচে পাকিস্তানকে হারান শচীন এবং সিধু। শচীন করেন ৯০ এবং নভোজিৎ সিং সিধু করেন ৯৩ রান।

১৯৯৯ বিশ্বকাপে ম্যানচেস্টারে শুধুু শচীন পারফর্ম করতে পারেননি। এবারো ভারতের জয়। ব্যাট হাতে পারফরমার রাহুল দ্রাবিড় ৬১ এবং আজহার করেন ৫৯ রান। এরপর এলো ২০০৩ বিশ্বকাপ। দক্ষিণ আফ্রিকার সেঞ্চুরিয়ানে মুখোমুখি দুদদল। নিজের ক্যারিয়ারে সেরা একটি ইনিংস খেলনে শচীন। ৭৫ বলে করেন ৯৮ রান। তাতেই পরাজয় নিশ্চিত পাকিস্তানের।

এর মাঝে ২০০৭ সালে টি-২০ বিশ্বকাপে দুদবার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান। দুদবারই পাকিস্তানের পরাজয়। অথচ ওই ম্যাচে ছিলেন না শচীন কিংবা বিরাটের কেউ। শচীন দলে ছিলেন না। বিরাটের অভিষেকই হয়নি।

২০১১ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মোহালিতে মুখোমুখি আবার এই দুই দেশ। শচীন করেন ৮৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। এই ইনিংসের ওপর ভর করেই জিতেছে ভারত।

এরপর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ঢাকায় মুখোমুখি দুদদল। ওই ম্যাচে বিরাট ৩২ বলে খেলেন ৩৬ রানের ইনিংস। এ ইনিংসই জেতালো ভারতকে। ২০১৫ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি দুদদল। এমন ম্যাচেই সেঞ্চুরি মেরে দিলেন কোহলি। যেন শচীন নেই, তার জায়গাটা পূরণ করার দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে নিলেন তিনি। খেলেছিলেন ১০৭ রানের ইনিংস।

সর্বশষ কোহলির কাছে আবারো হারলো পাকিস্তান। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে পাকিস্তােনের ১১৯ রানের জবাব দিতে নেমে কোহলি একাই করে ফেললেন ৫৫ রান। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি।

Source : jagonews24

Post a Comment