**TRY FREE HUMAN READABLE ARTICLE SPINNER/ARTICLE REWRITER**

মেহরাব–আমিনুলের পর তামিম


এমনই এক মার্চ মাসের বিকেল ছিল সেটি, ১৭ বছর আগে, ১৯৯৯ সালে। কেন যেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সেদিন দর্শক খুব বেশি ছিলেন না। অল্প যাঁরা সেদিন গ্যালারিতে এসেছিলেন, তাঁরা সাক্ষী হয়েছিলেন এ দেশের ক্রিকেটের ঐতিহাসিক এক মুহূর্তের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মেহরাব হোসেনের ব্যাট থেকে এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম শতরান দেখল বাংলাদেশ।
২০০০ সালের নভেম্বর মাসের এক সকাল। আগের দিনই টেস্টের কুলীন কুলে পদচারণ শুরু করেছে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় দিন সকালেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হলেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের দর্শকেরা। আমিনুল ইসলাম পেয়ে গেলেন টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি।
মাঝখানে কেটে গেছে ১৬টি বছর। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৫টি সেঞ্চুরি, টেস্টে এসেছে ৪২টি সেঞ্চুরি। ক্রিকেটের শীর্ষ সব দলের বিপক্ষেই জেতা হয়ে গেছে বাংলাদেশের। ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের পা ফেলা গেছে। কিন্তু নতুন একটি ‘প্রথম’ আবারও উদ্বেলিত করল বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি চালু হওয়ার প্রায় ১০ বছর পর এই সংস্করণে দেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরিটি পেলেন তামিম ইকবাল। দেশের ‘প্রথম’ সেঞ্চুরিটি করে তামিম নিজেকে গর্বিত ভাবতেই পারেন। তৃপ্ত হতে পারেন এই ভেবে যে ‘ভয়ংকর’ এবি ডি ভিলিয়ার্স কিংবা বিরাট কোহলিও এখনো টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির দেখা পাননি।
দেশের হয়ে যেকোনো ‘প্রথম’ই অনন্য, অসাধারণ। তেমনই দুটি প্রথমের স্বাদ ১৭ বছর আগে পেয়েছিলেন মেহরাব, ১৬ বছর আগে আমিনুল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাই বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান তামিমের অনুভূতি বেশ ভালোই অনুভব করতে পারছেন তাঁরা। টেস্ট-ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টিতে ভবিষ্যতে আরও অনেক সেঞ্চুরি হবে, আরও অনেক ক্রিকেটার গৌরব-সিক্ত করবেন দেশকে। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—তিন ধরনের ক্রিকেটেই সেঞ্চুরি পেলেন তামিম। অনন্য এক রেকর্ড। রেকর্ড হয় ভাঙার জন্যই, কিন্তু তামিমের এই রেকর্ডটা কোনো দিন ভাঙবে না। টি-টোয়েন্টিতে আর কেউ বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি করতে পারবেন না। মেহরাব ও আমিনুলকে টপকে যেমন করে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে ও টেস্টের ‘প্রথম’ সেঞ্চুরি আর কারও হবে না!
দেশের হয়ে প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিটি মেহরাবের জীবনে সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনাই হয়ে আছে, ‘দেশের হয়ে প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি আমার, এটা চিন্তা করলেই শিহরিত হই। অন্য রকম এক অনুভূতি সৃষ্টি করে আমার মধ্যে। এটা তো আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা। অন্যভাবে দেখলে, ক্রিকেট খেলার সবচেয়ে বড় সার্থকতাও।’
আমিনুল এখন রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক টেলিফোনে সেখান থেকে প্রথমেই অভিনন্দিত করলেন তামিমকে, ‘এটা ওর প্রাপ্য ছিল। এ মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান তামিম। দারুণ পরিণত হয়েছে তার ব্যাটিং। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরির জন্য ওকে অভিনন্দন জানাই।’
মেহরাব-আমিনুল দুজনই মুগ্ধ ওমানের বিপক্ষে তামিমের সেঞ্চুরিটি দেখে। মেহরাবের আশা, তামিম ধরে রাখবেন এই ব্যাটিং ধারাবাহিকতা, ‘তামিমের দায়িত্ববোধ দেখে আমি সত্যিই খুব অবাক হচ্ছি। এটি সে অর্জন করেছে। অনেক পরিশ্রমের ফসল এটি। তামিমের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।’
আমিনুলও গলা মিলিয়েছেন মেহরাবের সঙ্গে, ‘ওর শট নির্বাচন দেখুন। গ্যাপ খুঁজে বের করার ব্যাপারটি দেখুন। সবকিছুতেই পরিপক্বতা। আশা করছি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনেও সে এই খেলা ধরে রাখবে।’
মেহরাব-আমিনুলের মতোই দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নামটা অমর করে রাখলেন তামিম।

Source : prothomalo

Post a Comment