শত্রুতা ভুলে জোট বাঁধল নেকড়ে-হায়েনা


যা আগে কখনো দেখা যায়নি, তাই দেখা যাচ্ছে। নেকড়ে আর হায়েনার জোট। টিকে থাকার লড়াইয়ে চরম শত্রুভাবাপন্ন এই দুটি প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে মিল দেখা গেছে। ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে টিকে থাকতে হায়েনা আর নেকড়ে শত্রুতা ভুলে এখন একসঙ্গে শিকার করছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, নেকড়ে ও হায়েনার জোট বাঁধার ঘটনাতে স্পষ্ট যে মানুষ একমাত্র প্রাণী নয় যারা বিপদ থেকে রক্ষা পেতে শত্রুর সঙ্গেও হাত মিলাতে পারে।
নেগেভ মরুভূমিতে খাদ্যের সংকটে টিকে থাকতে মাংসাশী ডোরাকাটা হায়েনা ও ধূসর নেকড়ের জোট গবেষকেদের আশ্চর্য করেছে। দুটি প্রাণী তাদের চেয়ে বড় প্রাণীদের আক্রমণ করে। হায়েনাদের কখনো কখনো সিংহের সঙ্গেও লড়তে দেখা যায়।
চার বছর আগেই গবেষকেরা হায়েনা ও নেকড়ের একসঙ্গে পায়ের ছাপ খেয়াল করেছিলেন। তবে একসঙ্গে জোট বেঁধে শিকারের বিষয়টি তখন নিশ্চিত করতে পারেননি তাঁরা।
গবেষকেরা বলছেন, দুটি ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর এই জোট বাঁধার কারণ সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিত নন এবং তাঁদের আচরণে নতুন এ পরিবর্তন কেন এল জানতে পারেননি তাঁরা। তবে এ ধরনের আচরণ যদি পুরোনো হয়, তবে এত দিন তা অজানা ছিল।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ‘জুলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণা সংক্রান্ত নিবন্ধ। গবেষকেরা বলছেন, এই দুই প্রজাতির প্রাণী বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যায়। কিন্তু পানিবিহীন, সূর্যে ঝলসানো নির্মম পরিবেশেও এই প্রজাতির দুটি প্রাণী টিকে আছে।

গবেষক ভ্লাদিমির ডিনেটস বলেন, পাঠ্যবইয়ে প্রাণীর আচরণের যে চিত্র পাওয়া যায় তার তুলনায় প্রাণীর আচরণ প্রায়ই নমনীয় হয়। যখন দরকার পড়ে প্রাণীও তখন তাদের পুরোনো আচরণ বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন আচরণ শিখে নেয়। এটি মানুষের জন্য খুবই দরকারি দক্ষতা।

গবেষকেরা বলেন, পারস্পরিক সুবিধা নিতে দুটির প্রাণী জোট বেঁধেছে। বিশেষ করে হায়েনা অনেক দূর থেকে গন্ধ শুঁকে খাবারের সন্ধান দিতে পারে আর নেকড়ে বড় প্রাণীকে আক্রমণ করে পরাজিত করতে পারে।
সূত্র : প্রথম আলো

Post a Comment