**TRY FREE HUMAN READABLE ARTICLE SPINNER/ARTICLE REWRITER**

কিছু কথা থাক গোপন


দুইজন মানুষের একান্ত সম্পর্কে গোপনীয়তা না রাখাই ভালো, তবে কিছু কথা আছে যেগুলো সামনে আসলে সুখ বিনষ্ট হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
পরিবার পরিচালনা যেহেতু দুজনে মিলে করতে হয় তাই সিদ্ধান্ত দুইজনে মিলেই নেওয়া লাগে। সেই সব সিদ্ধান্ত নিতে হলে একজনকে আরেকজনের মনের কথা, সুবিধা অসুবিধা জানতে হবে।

যেমন: পরিবারে একটা শিশু কবে আসবে অথবা চাকরির ভবিষ্যতের জন্য কতটা সময় দিতে হবে এই সব মনের বাসনা দুজনের মধ্যে খোলামেলা আলাপ হওয়াই ভালো।

তারপরও কিছু গোপন কথা থাকে যা কাউকে বলা যায় না। সম্পর্কের খুঁটিনাটি বিষয়ে কাজ করে এমন একটি ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, সম্পর্ক তখনই সুন্দর যখন এতে কিছু কথা গোপনও করা হয়।

কোন কথাগুলো গোপন করলে সেটাকে খারাপ না বলে বরং বুদ্ধিমত্তা ধরা হয় তার একটা বিশদ তালিকাও তারা প্রকাশ করে—

শ্রেষ্ঠ সঙ্গী না: সম্পর্কে একজনের আরেকজনের কাছে কিছু প্রত্যাশা থাকে। সম্পর্ক তৈরির আগেও সঙ্গীকে নিয়ে কিছু স্বপ্ন থাকে। স্বপ্ন এবং বাস্তবে চিরকালই কিছু তফাত থেকে যায়। তারমানে এই নয় সেটা নিয়েই অফসোস করতে হবে। যা আছে তা দিয়েই দিব্যি জীবন পার করে দেওয়া যায় এবং বেশ ভালোভাবেই যায়। এজন্য সঙ্গীকে জানানোর মোটেই প্রয়োজন নেই তিনি কল্পনার মতো নন। এমনকি কোনো ব্যবহারেও এই ভাব প্রকাশ করা উচিত না। এরকম আচরণ সম্পর্কে ছেদ তৈরি করে ফলে একে অন্যের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়, সম্পর্ক বিষিয়ে যায়।

সব চাওয়া পূরণ হওয়ার নয়: সঙ্গীকে শ্রেষ্ঠ মনে হয় না, এই সমস্যার একটা উল্টা দিকও আছে। ভালো না লাগা সঙ্গীকে নিজের পছন্দ মতো সাজিয়ে নেওয়ার একটা আপ্রাণ চেষ্টা। অনেক সময়ই এই চেষ্টা ভালো থাকার সংজ্ঞা বদলে দেয়। মনে রাখতে হবে প্রতিটা মানুষই আলাদা এবং অনন্য। তার নিজস্ব ব্যক্তি স্বাধীনতা আছে। একজনের মন মতো তৈরি হওয়ার তার ইচ্ছা নাও থাকতে পারে। চাইলেই একজন চুপচাপ মানুষকে রাতারাতি বদলে ফেলা যায় না। ছোটবেলা থেকে যেই মানুষটা একরকম পরিবেশে থেকে এসেছে, একরকম শিক্ষা পেয়েছে তা নতুন করে আবার শেখানো যায় না। তাই চেষ্টা করা উচিত মানিয়ে চলার।

কেউ নারী বলে মানিয়ে চলার আশা এককভাবে তার কাছেই করা ঠিক না। অথবা শুধু শুধুই একজন শান্ত নিরীহ পুরুষ বলে তাকেও মানিয়ে চলার চাপ দেওয়া ঠিক না।

একইভাবে একজনকে আরেকজনের থেকে ভালো জিনিসও শিখতে হবে। সঙ্গী শেখাচ্ছে বলেই শিক্ষা খারাপ এবং ‘আমি মানি না’ ধরনের মনোভাব সম্পর্কের বাঁধন আলগা করে ফেলে।

বাবা মায়ের প্রত্যাশা চাপিয়ে দেওয়া: প্রত্যেক বাবা মা তাদের সন্তানদের জন্য কিছু ভেবে রাখেন। আর যেহেতু আমাদের সমাজে এখনও দম্পতিকে পরিবারের অধীনেই থাকতে হয় তাই বাবা-মা কী চান এটাও কখনও কখনও সম্পর্কের মধ্যে এসে দাঁড়িয়ে যায়।

প্রত্যেককে জানতে হবে তার সঙ্গী কী চায় এবং দিন শেষে কীভাবে দুজনে ভালো থাকা যায়। দুজনের সম্পর্কে বাবা মায়ের মতামত পরামর্শ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে তবে, ছেলের বৌ চাকরি করবে কি-না, করলে কী চাকরি করবে, কখন বাড়ি ফিরবে অথবা মেয়ের জামাই তার ক্যারিয়ারে কোন সিদ্ধান্ত নেবে ধরনের সিদ্ধান্তে বাবা-মাকে ঢুকতে না দেওয়াই ভালো। এভাবে প্রত্যাশার চাপ তৈরি হয়।

একজন মানুষ তার সঙ্গীর মধ্যে আশ্রয় খুঁজে, সাহায্য খুঁজে, সহমর্মিতা খুঁজে। এসব বাদ দিয়ে যদি কেউ সঙ্গীর দোষ-গুণ মূল্যায়ন করতে থাকে তার কাছে সঙ্গী কখনও সহজ হতে পারবে না। দুজনের মধ্যেখানে প্রত্যাশা এবং দোষারোপের প্রাচীর ছাড়া কিছুই খুঁজে পাওয়া যাবে না।

অন্যের গোপনীয়তা গোপন: নিজের গোপন কথা সঙ্গীকে বলা যায় অনায়াসেই। কিন্তু অন্য কোনো বন্ধু যদি তার কোনো গোপন কথা বিশ্বাস করে বলে থাকে তবে তা সঙ্গীকে জানানো অনুচিত। এতে একদিকে তো বন্ধুর গোপনীয়তা ভঙ্গ হয় এবং তার অবিশ্বাস অর্জন হয়। পাশাপাশি সঙ্গীও একটা তথ্য পেয়ে যায় যে গোপনীয়তা রক্ষার মতো মানসিক দৃঢ়তার অভাব আছে। এথেকে সেও কিছুটা বিশ্বাস হারাতে পারে। তাই নিজের সম্মান রক্ষার্থেই তা গোপন রাখতে হবে।

ব্যক্তিগত আয় ব্যয়ের হিসাব: একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ যিনি নিজের আয়ে চলেন তিনি কী করবেন কীভাবে ব্যয় করবেন এর সিদ্ধান্ত একান্তই তার নিজের হওয়া উচিত। পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সঞ্চয়ের পরে তার নিজস্ব প্রয়োজনীয় বা শখের বিষয়ে তিনি কিছু অর্থ ব্যয় করতেই পারেন। সেটা যত তুচ্ছই হোক এই বিষয়ে অনধিকার চর্চা করা ঠিক না। তারপরও যদি কেউ এইসব বিষয়ে চর্চা করে থাকেন তবে নিজের ব্যক্তিগত কিছু শখ এবং প্রয়োজনীয় খরচের বিষয় সঙ্গীর কাছে লুকানো দোষের কিছু না। এথেকে অহেতুক হস্তক্ষেপ এবং সন্দেহ থেকে বাঁচা যাবে।
সূত্র : বিডিনিউজ২৪

Post a Comment