যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানেরই মালিক প্রবাসী


অভিবাসীরাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত সমৃদ্ধ করেছেন। ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির উদ্যোক্তা-বিষয়ক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ৫১ শতাংশ টেক স্টার্টআপই গড়ে উঠেছে অভিবাসীদের হাতে। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

আর্লিংটনভিত্তিক ওই ফাউন্ডেশনের একদল গবেষকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেশিরভাগ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানেরই মালিক প্রবাসীরা। এসব প্রতিষ্ঠান দেশটির প্রযুক্তি খাত উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পর্ষদ অথবা পণ্য উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অভিবাসীরা। 

সমীক্ষাটি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে। এতে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠাতাদের জীবনচরিতও। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী প্রতিষ্ঠিত তিন শীর্ষ কোম্পানি হচ্ছে— গাড়ি সেবাদাতা উবার টেকনোলজিস, ডাটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান পালানটির টেকনোলজিস ইনকরপোরেশন ও রকেট নির্মাতা স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস ইনকরপোরেশন।

ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিবেদনের লেখক স্টুয়ার্ট অ্যান্ডারসন বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি প্রতিভাবান বিদেশী বংশোদ্ভূতদের হাত ধরে আরো সমৃদ্ধিশীল হয়ে উঠতে পারে। তবে এর জন্য ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সহজ করতে হবে। 

মার্ক জুকারবার্গ, বিল গেটসের মতো শীর্ষ টেক নেতারা বহুদিন ধরেই ভিসানীতি শিথিলের দাবি জানিয়ে আসছেন মার্কিন সরকারের কাছে। সুদক্ষ প্রবাসী কর্মীরা যাতে দেশেই থাকতে পারেন, সে লক্ষ্যে এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে তারা বলছেন, অভিবাসন টেক কমিউনিটির জন্য মঙ্গলকর। যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশী-বংশোদ্ভূতদের নিয়োগ দেয়া খুবই কঠিন। এছাড়া ভিসা জটিলতায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায় আগ্রহী হন না। 

তবে এর ভিন্ন মতও আছে। তাদের বক্তব্য, প্রযুক্তি নির্বাহীরা কেবল সস্তাশ্রম পেতেই প্রবাসীদের ওপর নির্ভরশীল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো অনেক মার্কিন রাজনীতিবিদই অভিবাসন নীতিমালা শিথিলের কঠোর বিরোধী। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে ওয়ার্ক ভিসা প্রোগ্রামের নীতিমালা কঠোর করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আরো দুই রিপাবলিকান প্রার্থী সিনেটর টেড ক্রুজ ও সিনেটর জেফ সেশন্স এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি পুনর্গঠনের কথা কলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগে। প্রতি বছর দেশটি ৮৫ হাজার ভিসা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রথম আবেদনকারী ৬৫ হাজার ব্যক্তিকে ভিসা দেয়া হয় কর্মী হিসেবে। বাকি ২০ হাজার শিক্ষার্থী। তারা উচ্চশিক্ষা লাভের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন । 

গত বছর মোট ২ লাখ ৩৩ হাজার এইচ-১বি টাইপ ভিসার আবেদন করেন। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দিয়েছে।

অ্যান্ডারসন প্রতিবেদনে এ নিয়ে বেশকিছু প্রশ্ন করা হয়েছে। তাতে বলা হয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ না হলে এর জন্য কীভাবে টাকা বাড়ানো সম্ভব? এছাড়া বিনিয়োগকারী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে না পারলে কীভাবে এখানকার প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করবেন?

জ্যোতি বানসাল ভিসা জটিলতায় ভুক্তভোগীদের একজন। সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান অ্যাপডায়নামিকস ইনকরপোরেশন কর্ণধার তিনি। অন্য কোম্পানিগুলোকে নেটওয়ার্ক-সংক্রান্ত অ্যাপ্লিকেশনে সহায়তা করাই তার প্রতিষ্ঠানের কাজ। অ্যাপডায়নামিকস প্রতিষ্ঠার আগে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সাত বছর। 

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১ বি ভিসা প্রাপ্তি নিয়ে অস্পষ্টতা থাকায় তিনি নতুন কোম্পানি শুরু করতে পারছিলেন না। এতে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে বেশি বিনিয়োগ করে থাকে ভারত, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল ও জার্মানির নাগরিকরা।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment