চট্টগ্রামে ভয়ঙ্কর তিন কিলার


পরনে জিন্স প্যান্ট। গায়ে আয়রন করা শার্ট। দেখে বোঝার ওপায় নেই। ওরা মানুষ খুন করে লুটে নেয় টাকা-পয়সা। কখনও যাত্রীবেশে সিএনজিচালককে হত্যা করে নিয়ে যায় গাড়ি। চট্টগ্রামে ধরা পড়া ৩ যুবককে নিয়ে এমনি চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে নগর পুলিশ। ভদ্রতার আড়ালে একজন সাইলেন্ট কিলার হয়ে অপরাধ জগতে কাজ করছিল তারা দীর্ঘদিন। শেষমেশ গ্রেপ্তার হয়েছে বায়েজীদ থানা পুলিশের হাতে। ধরা পড়া এই ৩ সন্ত্রাসী হলো রুবেল প্রকাশ ফারহান, কামরুল হাসান ও ইয়াকুব প্রকাশ মফু। যাদের সবার বয়স ২০ থেকে ২৫-এর মধ্যে। গত সোমবার রাতে তাদের ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়। চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই ও ডাকাতি করায় তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। বায়েজীদ থানা পুলিশ জানায়, প্রতিদিনই রাত হলে চট্টগ্রাম শহরের বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, চকবাজার, জিইসি, নিউমার্কেট, অলংকার কোতোয়ালিসহ একাধিক জায়গায় যাত্রীবেশে রাস্তায় ওত পেতে থাকে কিলার ফারহান, কামরুল ও ইয়াকুব। কৌশল হিসেবে প্রথমে সিএনজি ভাড়া করে তারা। এরপর শহরের নির্জন স্থানে নিয়ে ধারালো ছোরা দিয়ে চালকের পিঠে আঘাত করে সিএনজি নিয়ে চম্পট দেয়। এরপর সেই সিএনজি নগরীর আরেক প্রতারক সিন্ডিকেট চক্রের কাছে তা কমমূল্যে বিক্রি করে দেয়। কখনও সিএনজির পার্টস খুলে টাকার বিনিময়ে তা দিয়ে দেয় আরেক চক্রকে। এভাবে চালককে খুন ও শরীরে আঘাত করে গত ৩ বছরে তারা নগর গোয়েন্দা পুলিশের তালিকায় উঠে এসেছে আলোচনার শীর্ষে। ধরা পড়া সন্ত্রাসী ২৫ বছর বয়সী ফারহান বলে, আমার কাছে রয়েছে বেশ কয়েকটি অস্ত্র। তবে এর মধ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে চলন্ত অবস্থায় গাড়িচালককে পেছন থেকে আঘাত করি। এতে সে লুটিয়ে পড়লে তার হাত-পা বেঁধে রাস্তায় ফেলে দিয়ে নিজেরাই গাড়ি চালিয়ে চলে যাই। ৪০-৫০টি গাড়ি এভাবে সে ছিনতাই করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করে। সে আরও বলে, অনেক সময় চেতনানাশক ওষুধ লাগিয়ে দিয়ে চালককে পেছন থেকে ঝাপটে ধরা হয়। দু-একবার এমন অপরাধ করতে গিয়ে সে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল সকালে বায়েজীদ থানায় গেলে ৩ সাইলেন্ট কিলারকে নিয়ে পাওয়া যায় নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত সোমবার রাতে তারা পরিকল্পনা করে শহরের কুলগাঁও খন্দকিয়া হাট এলাকায় চালককে হত্যা করে সিএনজি ছিনতাই করবে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। বায়েজীদ থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন মানবজমিনকে বলেন, আমরা অনেকদিন থেকেই তাদের খুঁজছিলাম। শেষমেশ জানতে পারলাম একজন সিএনজিচালককে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করছিল কুলগাঁও এলাকায়। সেখানে সাধারণ বেশে তাদের ধরে ফেলি। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ফারহান, কামরুল হাসান ও ইয়াকুব এর আগেও অনেক চালককে ছুরিকাঘাত করেছে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। ওরা সিএনজি ছিনতাই করে তা আরেক চক্রের কাছে বিক্রি করে দিত।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment