দিনে গরম রাতে ঠান্ডা : অসুখে বিসুখে ভুগছে শিশুরা


আবহাওয়ার এই পরিবর্তনজনিত কারণে শিশুদের অসুখ বিসুখ বেড়েছে। দিনের বেলায় প্রচণ্ড গরম রাতে ঠান্ডা পড়ায় সম্প্রতি ঘরে ঘরে নানা বয়সী শিশুরা তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ (এআরআই), পানিবাহিত ডায়রিয়া ও জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও শিশু বিশেষজ্ঞদের প্রাইভেট চেম্বারে বাড়ছে অসুস্থ শিশু নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের ভীড়। ৬ মাসের কম বয়সী শিশুরা এআরআই রোগে অধিক সংখ্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। 

গতকাল (রোববার) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, তীব্র গরমের মধ্যে শিশু বহির্বিভাগের টিকেট কাটার জন্য শিশু নিয়ে অভিভাবকদের লম্বা লাইন। টিকেট বিক্রেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে শিশু রোগীর ভীড় বাড়ছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩০০-এর বেশি রোগী বহির্বিভাগে টিকেট কাটছে। 

ঢামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রাজেশ মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত কারণে শিশুরা বিশেষত ছয়মাসের কম বয়সী শিশুরা ঠান্ডা, কাশিসহ তীব্র শ্বাসতন্ত্রেও সংক্রমণজনিত রোগে অধিক সংখ্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া বিশুদ্ধ পানির অভাবে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এ সব রোগব্যাধি নিয়ে চিন্তিত হওয়ার তেমন কারণ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। রোববার সকালে পুরোনো ঢাকার নিমতলীর বাসিন্দা ইয়াসমিন তার ২০ মাস বয়সী মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে শিশু বহির্বিভাগে টিকেটের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি জানান, মেয়েটি গত কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা, কাশি ও জ্বরে ভুগছে। বুকের দুধ বা অন্যান্য খাবারের কোনটাই মুখে তুলছে না। বর্তমানে জ্বর না থাকলেও ঠান্ডা কাশি রয়ে গেছে। তাই ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। 

বংশাল সংলগ্ন পাকিস্তান মাঠ (বাংলাদেশ মাঠ) থেকে সাত মাস বয়সী মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন মা আকলিমা। তার মেয়েরও গত চার দিন ধরে মেয়ে অসুস্থ। প্রথমে ডায়রিয়ায় তারপর  ঠান্ডা জ্বর ও কাশিতে ভুগছে। তিনি জানান, গত ৩-৪ দিন ধরে বাচ্চা যা খাচ্ছে তাই বমি করছে। একটু পর পর কান্না করছে। ফার্মেসী থেকে ঠান্ডার ওষুধ কিনে খাওয়ালেও ভাল হয়নি তাই হাসপাতালে এসেছেন। 

ডা. রাজেশ মজুমদার শিশুদের অসুস্থ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে মায়েদের অধিকতর সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন। ছোট শিশুদের প্রতিদিন গোসল করানোর প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে রাজেশ মজুমদার বলেন, একদিন পর পর গোসল করালে শিশুরা ভাল থাকবে। দিনে রোদের কারণে শিশু ঘেমে গেলে কিংবা জ্বর আসলে তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিতে হবে। বেশি বেশি ফলমূল ও তরল পানীয় খাওয়াতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment