সরকারি কমিটি থেকে মমতার পদত্যাগ


কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে নয় বরং উচ্চ পর্যায়ের সরকারি তিনটি কমিটির শীর্ষপদ থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করেন মমতা।

ওই পদগুলোর মধ্যে পুরস্কারপ্রদান এবং আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করা সংক্রান্ত পরামর্শদাতা কমিটি অন্যতম। অপরটি হল কয়েকটি বিষয়ের উপর নজরদারি সংক্রান্ত কমিটি। মমতার ইস্তফার ফলে কমিটিগুলির অস্তিত্ব থাকলেও সেগুলোর কাজ আপাতত বন্ধই থাকবে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একাংশের অভিমত, কমিটিগুলির দায়িত্ব ‘লাভজনক পদ’ (অফিস অফ প্রফিট) হিসাবে চিহ্নিত নয়। তাই সেগুলি থেকে পদত্যাগ করার কোনও প্রয়োজন ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী চাইলে ওই পদে থেকেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ভোটে লড়তে পারতেন।  তবে মমতা হয়তো বিতর্ক তৈরি হওয়ার কোনও সুযোগ রাখতে চাইছেন না। এ কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন প্রান্ত এবং স্তরের মানুষকে সরকারি সম্মানের আওতায় আনা হয়েছে। বিরোধী পক্ষের ঘনিষ্ঠ শিল্পীদেরও সম্মান জানিয়েছেন মমতা। ভবিষ্যতে তৃণমূল ক্ষমতায় এলে পুরস্কারপ্রদানের পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলে আগেই ঘোষণা করেন তিনি। সেদিক থেকে ভোট চলাকালীন ওই কমিটিতে থাকা মমতার জন্য মোটেও ‘স্বস্তিদায়ক’ হতো না। এসব কথা চিন্তা করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কোন ক্ষেত্রে সরকার আর্থিক অনুদান বা সহায়তা দেবে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট পরামর্শদাতা কমিটি। ‘রুগ্ন’ ক্ষেত্রগুলিকে চাঙ্গা করার জন্য ওই কমিটির সুপারিশে অর্থ সাহায্য দেয় সরকার। আর্থিক দিক থেকে গত পাঁচ বছরে রাজ্য সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলোর সমালোচনায় অনেক সময়েই সরব হয়েছে বিরোধীরা। ভোটের সময় যেন বিরোধীরা এসব বিষয় নিয়ে বিরোধীতা করতে না পারেন সেজন্য আগে থেকেই এসব কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন মমতা।

Source : jagonews24

Post a Comment