কষ্ট করেই জিততে হলো বাংলাদেশকে


১৫৩ রান কী কম হয়ে গেলো? এমনটাই প্রশ্ন ঘুরছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। যদিও বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল জানিয়ে দিয়েছিলেন, বোলাররা ভালো বোলিং করতে পারলে- এই রান রক্ষা করা অসম্ভব কিছু নয়। তবে, নেদারল্যান্ডসের মত দলের বিপক্ষে ১৫৩ রান রক্ষা করতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। শেষ পর্যন্ত ডাচদের ৮ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ।

এই দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাস খুব একটা ভালো ছিল না। হেড টু হেডে দু’দলই ছিল সমানে সমান। ওয়ানডেতে দু’বার মোকাবেলা করে একটি করে ম্যাচ জিতেছে উভয়ই। একই ঘটনা টি-টোয়েন্টিতেও। ২০১২ সালে দুই ম্যাচ মোকাবেলা করে একটি করে ম্যাচ জিতেছে দুই দল। তাই সামর্থ্য ও শক্তির বিচারে যত পার্থক্যই থাকুক, ইতিহাস বলে সমান কথা। সুতরাং, ধর্মশালার বৈরী কন্ডিশনে ডাচদের মোকাবেলা করতে নামার আগে বাংলাদেশের সমর্থকদের বুক ধুরু ধুরু করে কাঁপছিল বৈকিং

তবে তামিম ইকবালের অসাধারণ ব্যাটিংই আসলে সব শঙ্কা দূর করে দিয়েছিল। তবুও ডাচরা চ্যালেঞ্জ তৈরী করেছিল বোলারদের সামনে। শেষ দিকে এসে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই নানান শঙ্কার দোলাচলে দুলতে দুলতে শেষ পর্যন্ত জয়টা এলো। বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া ১৫৩ রানের জবাবে ডাচরাও ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান করে ফেলেছিল। ডাচদের পক্ষে বড় কোন স্কোর না হলেও ছোট ছোট কয়েকটি ইনিংসই তাদের সামনে জয়ের সম্ভাবনা তৈরী হয়েছিল। ২৯ রান করে সংগ্রহ করেন স্টিফেন মেইবুর্গ এবং পিটার বোরেন। ২০ রান করেন বেন কুপার। আল আমিন এবং সাকিব আল হাসান নেন ২টি করে উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন নাসির এবং মাশরাফি বিন মর্তুজা।

জয়ের জন্য ১৫৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দুই ডাচ ওপেনার স্টিফেন মেইবুর্গ এবং ওয়েসলি ব্যারেসি মিলে ২১ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছিলেন।

অবশেষে সেই শঙ্কা কাটিয়ে দিলেন আল আমিন হোসেন। বাংলাদেশকে অসাধারণ একটি ব্রেক থ্রু এনে দিলেন তিনি। ডাচদের দলীয় ২১ রানের মাথায় প্রথম উইকেটের পতন ঘটালেন আল আমিন। ৫ম ওভারের তৃতীয় বলেই সাব্বির রহমানের হাতে ওয়েসলি ব্যারেসিকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন আল আমিন। ১১ বলে ৯ রান করে আউট হন ব্যারেসি।

প্রথম উইকেটের পতন ঘটলেও দ্বিতীয় উইকেটে স্টিফেন মেইবুর্গ এবং বেন কুপারের ব্যাটে ভালোভাবেই জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল নেদারল্যান্ডস। দু’জন মিলে গড়ে ফেলেন ৩২ রানের জুটি। অবশেষে এই জুটির ওপর আঘাত আনতে সক্ষম হলেন নাসির হোসেন। ২৯ বলে ১৯ রান করে বাংলাদেশের সামনে আতঙ্ক হয়ে ওঠা স্টিফেন মেইবুর্গকে সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরে ফেরালেন নাসির হোসেন। 

৫৩ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটলেও ছোট ছোট জুটি গড়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা নেদারল্যান্ডসের। বেন কুপার আর অধিনায়ক পিটার বোরেন মিলে ২৪ রানের জুটি গড়ে সেই এগিয়ে যাওয়ার পথে রসদ জোগান। শেষ পর্যন্ত বেন কুপারকে বোল্ড করে ফেরালেন সাকিব। ১৫ বলে ২০ রান করেন কুপার।

টন কুপারও ১৮ বলে ১৫ রান করে শঙ্কা জাগিয়ে তোলে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে। মুদাস্সার বুখারি করেন ১৪ রান। তবে নিয়মিত বিরতিতে কয়েকটি উইকেট পড়ে যাওয়ার কারণেই শেষ পর্যন্ত জয়টা এলো বাংলাদেশেরই।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ: ১৫৩/৭, ২০ ওভার (তামিম ইকবাল ৮৩, সৌম্য সরকার ১৫, সাব্বির রহমান ১৫, মাহমুদুল্লাহ ১০, আরাফাত সানি ৮*; টিম ফন ডার গাটেন ৩/২১, পল ফন মেকেরান ২/১৭)।
নেদারল্যান্ডস: ১৪৫/৭, ২০ ওভার (মেইবুর্গ ২৯, পিটার বোরেন ২৯, বেন কুপার ২০, টম কুপার ১৫, মুদাস্সার বুখারি ১৪; আল আমিন ২/২৪, সাকিব ২/২৮, মাশরাফি ১/১৪, নাসির ১/২৪)।

ফল: বাংলাদেশ ৮ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা: তামিম ইকবা

Source : jagonews24

Post a Comment