স্বপ্নের ইডেনে অভিষেকটা স্মরণীয় করতে চান মাশরাফিরা


বুধবার বিকালে যখন বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটি মাঠে গড়াবে, তখন যেন একদফা স্বপ্ন পূরণ হয়ে যাবে বাংলাদেশের। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে যেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা খেলতে যেতে পারেনি, সেই ইডেন গার্ডেন্সে ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। যে ইডেনকে এক সময় বলা হতো হোম অব ইন্ডিয়া ক্রিকেট। এই স্টেডিয়ামে খেলার স্বপ্ন থাকে সব ক্রিকেটারেরই। গত ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশে কয়েক প্রজন্মের ক্রিকেটার এসেছেন, খেলেছেন। বিদায়ও নিয়েছেন। কিন্তু ইডেনে খেলা স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি কেউ। অবশেষে সেই স্বপ্নটাই এবার পূরণ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের।

ইডেনে খেলার স্বপ্নপূরণের চেয়েও এখন বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পাকিস্তান ম্যাচ। বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে নিজেদের বেশ ভালোভাবেই প্রমাণ করেছে টাইগাররা। তামিম-সাকিবদের ব্যাট ও বল হাতে জ্বলে উঠে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে মাশরাফি অ্যান্ড কোং।

মূল পর্বে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। সর্বশেষ ২৫ বছর আগে এই মাঠে খেলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। সেবার এশিয়া কাপ আসর হয়েছিল ভারতে। লর্ডস-মেলবোর্নের মতো ইডেনেও খেলার জন্য সবাই মুখিয়ে আছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। এই মাঠেই জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে চায় টাইগাররা।

এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর বেশ উজ্জীবিত টাইগাররা। এবারের বিশ্বকাপেও ব্যাট এবং বল হাতে জ্বলে উঠতে বাংলাদেশ শিবির। তবে পাকিস্তান দলে নেই সে রকম উদ্দীপনা। ‘পাকিস্তানের তুলনায় ভারতে বেশি ভালোবাসা পান’- বলেই বিতর্কে জড়িয়েছেন দলের অধিনায়ক অফ্রিদি। সেই বিতর্কের মধ্যেই তৈরী হয়েছে নতুন সংশয়। নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করার আগে আজ (মঙ্গলবার) সকালে দলের সবাই যখন অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন, তখন দেখা যায়নি অধিনায়ক শহিদ অফ্রিদিকে। জানা গেছে, জ্বরে ভুগছেন তিনি। সে কারণেই মূলতঃ আজ অনুশীলনে যোগ দিতে পারেননি পাক অধিনায়ক। ফলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদিকেই ছাড়া মাঠে নামতে হতে পারে পাকিস্তানকে।

অপরদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে ভুগছে পাকিস্তান। তবে স্বস্তির বিষয় হলো প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেছে মোহাম্মদ হাফিজ। দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে দলকে জয়ের স্বাদ দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ ইরফানের মতো পেস অ্যাটাক পাকিস্তানের জন্য আশা জুগিয়েছে। দলের প্রধান কোচ ওয়াকার স্পিন অ্যাটাক নিয়ে যথেষ্ট সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে আগামীকালের ম্যাচ বিষয়ে টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বলেছেন, ‘আমরা ইডেন গার্ডেনে এখনও খেলিনি। ফলে উইকেট নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকবে ‘ সম্প্রতি এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তবে তাই বলে পাকিস্তানকে সহজভাবে নিচ্ছেন না তিনি। তার মতে, ‘পাকিস্তান দারুণ টিম। ইতিহাস বলছে ওরা আমাদের থেকে বেশি ভালো দল। ওদের অভিজ্ঞতাও রয়েছে যথেষ্ট। টি-২০ ফরম্যাটে যে কোনও দিন যে কেউ জিততে পারে। তাই আমার সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।’

তবে বাংলাদেশের দুই বোলার আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদের বিরুদ্ধে আইসিসির অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের বিষয়টি সবাইকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। তবুও বাংলাদেশকে কুর্নিশ করছে পাকিস্তানের কোচ ওয়াকার ইউনিস বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ফালো ফর্মে রয়েছে। ওরা অনেক উন্নতি করেছে। এশিয়া কাপেও ভালো খেলেছ তারা। সুতরাং ওদের নিয়ে ভাবতেই হবে। ওদেরকে আমরা সম্মান করি। ওরা সত্যিই খুব ভালো দল হয়ে উঠেছে। কিন্তু এটা বড় মঞ্চ। পরিবেশটাও আলাদা৷ আমরা পজিটিভ ক্রিকেট খেলার ব্যাপারেই আশাবাদী।’

এদিকে পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের তুলনায় পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও সেদিকে নজর দিতে নারাজ টাইগাররা। ভালো খেলে নিজেদের সামর্থ্যের আরও একবার প্রমাণ দিতে চান তারা। তামিমের ধারাবাহিক পারফরমেন্স এক্ষেত্রে বেশ আশার আলো জাগিয়েছে। 

ASource : jagonews24

Post a Comment