নেকলেসে জানা যাবে ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ!


কী খাব বা কতটুকু খাব আর তা জানার জন্য আর বার বার ডাক্তারের দরজায় ছোটাছুটি করতে হবে না। কোন খাবার মুখে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাতে কি পরিমাণ ক্যলরি আছে তা জানিয়ে দিবে আপনার গলায় থাকা নেকলেস। সব সময় ক্যালোরি মেপে যাদের খেতে হয় বা ডায়াবেটিস, ওবেসিটি ও বদহজমের রোগীদের জন্য নেকলেসটি খুবই কাজের বলে জানিয়েছেন এর নির্মাতারা।

সদ্য উদ্ভাবিত এই ‘নেকলেস’টির নাম- ‘অটো-ডায়েট্রি’। এটি তৈরী করেছেন চিনের বাফালো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানী ওয়েনইয়াও শু’র নেতৃত্বে একদল গবেষক। তাদের এই নতুন উদ্ভাবন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘আইইইই-সেন্সর্স’ জার্নাল।

‘অটো-ডায়েট্রি: আ ওয়্যারেব্‌ল অ্যাকাউস্টিক সেন্সর সিস্টেম ফর ফুড ইনটেক রেকগনিশান ইন ডেলি লাইফ’ শীর্ষক ওই নিবন্ধে লেখা হয়েছে, আপেল, গাজর আর জামরুল যে শুধুই স্বাদে একে অন্যের চেয়ে আলাদা, তা-ই নয়। তাদের দাতে কাটার শব্দটাও আলাদা আলাদা। তার মানে, আপেল দাঁতে কাটলে যে শব্দটা হয়, গাজর কামড়ালে সেই শব্দটা হয় না। পেয়ারা কামড়ানোর শব্দটা আবার একেবারেই অন্য রকম। আবার জামরুল কামড়ানোর শব্দটা বাকি ফলগুলোর মতো নয়। ওই আলাদা আলাদা শব্দ চিনে বা তাদের কম্পাঙ্ক মেপেই এ বার আমার আপনার গলায় ঝোলানো ‘নেকলেস’ সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেবে, কত ক্যালোরির খাবার দাতে কেটেছি বা চিবিয়েছি। অথবা গলায় নিয়েছি।

বিভিন্ন পানীয়, ফল, হরেক রকমের খাবার খেলে বা কামড়ালে-চিবোলে কেমন কেমন শব্দ হয়, তা নিয়ে তার গবেষণাগারে একটি ‘লাইব্রেরি’ বানিয়েছেন শু। সেখানে প্রতিটি ফল, খাবারদাবার আর পানীয়ের হরেক কিসিমের শব্দ নিয়ে সেই ‘লাইব্রেরি’তে একটি ‘ক্যাটালগ’ বানিয়েছেন গবেষকরা।

বাফালো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক নৈঋত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এগুলোকে বলা হয় ‘ওয়্যারেব্‌ল ডিভাইজ’। ‘অটো-ডায়েট্রি’র মতো চরিত্রের ‘ওয়্যারেব্‌ল ডিভাইজ’ আরও আছে। যেমন- ‘ফিটবিট’।  কিন্তু সেগুলো পেটে (পড়ুন, পাকস্থলী) যাওয়ার পর যে পরিপাক হয়, তা থেকে তৈরি হয় প্রচুর তাপশক্তির। সেই তাপশক্তি মাপার ইউনিটই হল ক্যালোরি। সেই তাপশক্তি বিভিন্ন রকমের শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে আমাদের শরীরে বিভিন্ন রকমের কাজ করিয়ে নেয়। নানা রকমের রাসায়নিক বিক্রিয়া করিয়ে নেয়। ডায়াবেটিসের মতো রোগের ক্ষেত্রে ডাক্তাররা রোগীদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালোরির খাবার খেতে বলেন। বাজারে চালু ‘ওয়্যারেব্‌ল ডিভাইজ’গুলো শুধু সেই পাকস্থলীতে পৌঁছনো খাবার থেকে তৈরি হওয়া ক্যালোরির পরিমাণই মাপতে পারে। কিন্তু, তার আগে সেই ফল বা খাবার যখন আমি আপনি দাঁতে কাটছি, চিবোচ্ছি, বা তা সবে গলায় পৌঁছেছে, তখন কিন্তু কতটা ক্যালোরি আমাদের শরীরে ঢুকল, তা জানতে পারি না। ‘অটো-ডায়েট্রি’ সেই কাজটাই করবে। আর সেই কাজটা সে করবে আপেল, পেয়ারা, জামরুল, গাজরের মতো বিভিন্ন ফল আর খাবার দাঁতে কাটার হরেক রকমের শব্দের বাছ-বিচার করে। তাই ‘অটো-ডায়েট্রি’ পাকস্থলীতে নয়, কোনও খাবার থেকে কতটা ক্যালোরি আমাদের শরীরে ঢুকল, তা গলাতেই মাপতে পারবে। সে খাবার হজম হওয়ার আগেই। এখনও পর্যন্ত এই ধরনের যন্ত্র কেউ বানাননি।’

নৈঋত জানান, ‘একেবারে সাদমাটা নেকলেসের মতোই। যদিও তা ততটা সাদামাটা নয়। ওই ‘নেকলেসে’ রয়েছে খুব ছোট্ট্ একটা মাইক্রোফোন। একটা জিপার পুলের মতো দেখতে। ফল বা খাবার দাঁতে কাটলে বা চিবোলে যে শব্দ হয়, ওই মাইক্রোফোন তা রেকর্ড করে। ব্লু-টুথের মাধ্যমে সেই বিভিন্ন কম্পাঙ্কের শব্দকে পাঠানো হবে স্মার্টফোনে। সেখানেই রয়েছে সেই ‘লাইব্রেরি’, কোন কোন ফল বা খাবার দাঁতে কাটলে বা চিবোলে কেমন কেমন শব্দ হয়, তার সবিস্তার তালিকা। মাইক্রোফোন থেকে যে কম্পাঙ্কের শব্দ ব্লু-টুথের মাধ্যমে আমার আপনার স্মার্টফোনে এসে পৌঁছবে, তার ‘গুণ বিচার’ করে স্মার্টফোন জানিয়ে দেবে, যে ফল বা খাবার আমরা দাঁতে কেটেছি বা চিবিয়েছি, তার থেকে কতটা ক্যালোরি আমাদের শরীরে ঢুকল।’

সূত্র : আমাদের সময়

Post a Comment