রমজানে ছোলার দাম বাড়াতে কারসাজি শুরু


রোজা শুরু হতে এখনো আড়াই মাস বাকি। এরই মধ্যে রোজার অন্যতম উপকরণ ছোলার দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা কারসাজি। এমনিতেই ছোলা বিক্রি করে দ্বিগুণ মুনাফা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারপরও দাম আরও বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। দেশে ছোলার আমদানি ও মজুদ স্বাভাবিক থাকলেও পাইকারি বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ছোলার দাম বাড়াতে চায়।

রোজায় অন্যতম একটি উপকরণ ছোলা। এটি দিয়ে হরেক রকমের খাবার তৈরি করা হয়। ফলে রোজায় ছোলার চাহিদাও থাকে বেশি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বছরে দেশে ছোলার চাহিদা ৬ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত হয় মাত্র ১ লাখ টন। বাকি ৫ লাখ  টন বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। দেশে সারা বছরে যে পরিমাণ ছোলার প্রয়োজন হয় তার ৬০ শতাংশই রোজার মাসে ব্যবহার হয়। এ হিসাবে রোজার মাসে ৩ লাখ টনের বেশি ছোলার প্রয়োজন হয়। বাকি ৩ লাখ টনের কম ছোলা সারা বছরে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে পাওয়া গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়। যার দাম ৮১ লাখ ডলার। গত অর্থবছরে প্রায় ৮ লাখ টন ছোলা আমদানি করা হয়েছে। এলসি খোলা হয়েছে ২৮ হাজার টনের। চাহিদার তুলনায় আরও ২ লাখ টন বাড়তি থাকার কথা। এছাড়া সারাদেশে পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোয় প্রায় ১ লাখ টন ছোলা সরবরাহ অবস্থায় রয়েছে। এ হিসাবে রোজায় ছোলার কোনো সংকট হওয়ার কথা নয়।  

বিদেশে জাহাজ ভাড়াসহ আমদানির মূল্য হিসেবে প্রতিকেজি ছোলার দাম পড়ে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা। পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ও খুচরা ব্যবসায়ীর মুনাফাসহ প্রতিকেজিতে ৫ টাকার বেশি খরচ পড়ার কথা নয়। এ হিসাবে প্রতিকেজির দাম ৪৫ থেকে ৪৯ টাকা পড়ার কথা। কিন্তু খুচরা বাজারে বর্তমানে ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা। এ হিসাবে ব্যবসায়ীদের মুনাফা থাকছে ২৯ থেকে ৩০ টাকা।

এদিকে রোজা আসার প্রায় আড়াই মাস আগে থেকেই বাজারে এর দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে ১৫০ টাকা। গত এক সপ্তাহ আগে ৫০ কেজির বস্তা ৩ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা দরে। পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৬৯ টাকা দরে, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হয় ৭৫-৭৯ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ছোলা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৬৫-৬৬ টাকা কেজি দরে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, মোকাম থেকে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে বলে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে। মূলত আমদানিকারকরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এদিকে দেশে ছোলা আমদানিকারকরা জানান, বর্তমানে প্রতিটন ছোলার আমদানি মূল্য ৫০০ থেকে ৫৫০ ডলার। টাকার হিসেবে ছোলার মূল্য ৪০ হাজার থেকে ৪৪ হাজার টাকা। হিসাব অনুসারে প্রতিকেজি ছোলার আমদানিমূল্য ৪০ থেকে ৪৪ টাকা।

ছোলার দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ ডাল মালিক সমিতির সভাপতি শাফি মাহমুদ জানান, আমদানি কম থাকায় ছোলার ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। আমদানি বেড়ে গেলে দাম কমবে বলে আশা করা যায়। যে দাম বেড়েছে এটা কোনো ঘটনাই না। সব কিছুর দাম বাড়ছে। এমনিতেই রোজার সময় সব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ে। ছোলার দামও বাড়তে পারে। তবে বেশি বাড়বে না। এ জন্য চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। 

কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মিন্টু কাজী বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে বলেই খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। কেন দাম বাড়ল এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা বলছেন আমদানি কম। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বেশি দামে বিক্রি করছে। 

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৪ সালে প্রতিকেজি ছোলা ছিল ৭২ টাকা ৫০ পয়সা, ২০১৫ সালে এর দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯ টাকা ১৭ পয়সা। ওই বছরের তুলনায় দাম বাড়ে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। 
সূত্র : আামাদের সময়রোজা শুরু হতে এখনো আড়াই মাস বাকি। এরই মধ্যে রোজার অন্যতম উপকরণ ছোলার দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা কারসাজি। এমনিতেই ছোলা বিক্রি করে দ্বিগুণ মুনাফা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারপরও দাম আরও বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। দেশে ছোলার আমদানি ও মজুদ স্বাভাবিক থাকলেও পাইকারি বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ছোলার দাম বাড়াতে চায়।

রোজায় অন্যতম একটি উপকরণ ছোলা। এটি দিয়ে হরেক রকমের খাবার তৈরি করা হয়। ফলে রোজায় ছোলার চাহিদাও থাকে বেশি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বছরে দেশে ছোলার চাহিদা ৬ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত হয় মাত্র ১ লাখ টন। বাকি ৫ লাখ  টন বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। দেশে সারা বছরে যে পরিমাণ ছোলার প্রয়োজন হয় তার ৬০ শতাংশই রোজার মাসে ব্যবহার হয়। এ হিসাবে রোজার মাসে ৩ লাখ টনের বেশি ছোলার প্রয়োজন হয়। বাকি ৩ লাখ টনের কম ছোলা সারা বছরে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে পাওয়া গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়। যার দাম ৮১ লাখ ডলার। গত অর্থবছরে প্রায় ৮ লাখ টন ছোলা আমদানি করা হয়েছে। এলসি খোলা হয়েছে ২৮ হাজার টনের। চাহিদার তুলনায় আরও ২ লাখ টন বাড়তি থাকার কথা। এছাড়া সারাদেশে পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোয় প্রায় ১ লাখ টন ছোলা সরবরাহ অবস্থায় রয়েছে। এ হিসাবে রোজায় ছোলার কোনো সংকট হওয়ার কথা নয়।  

বিদেশে জাহাজ ভাড়াসহ আমদানির মূল্য হিসেবে প্রতিকেজি ছোলার দাম পড়ে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা। পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ও খুচরা ব্যবসায়ীর মুনাফাসহ প্রতিকেজিতে ৫ টাকার বেশি খরচ পড়ার কথা নয়। এ হিসাবে প্রতিকেজির দাম ৪৫ থেকে ৪৯ টাকা পড়ার কথা। কিন্তু খুচরা বাজারে বর্তমানে ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা। এ হিসাবে ব্যবসায়ীদের মুনাফা থাকছে ২৯ থেকে ৩০ টাকা।

এদিকে রোজা আসার প্রায় আড়াই মাস আগে থেকেই বাজারে এর দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে ১৫০ টাকা। গত এক সপ্তাহ আগে ৫০ কেজির বস্তা ৩ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা দরে। পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৬৯ টাকা দরে, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হয় ৭৫-৭৯ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ছোলা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৬৫-৬৬ টাকা কেজি দরে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, মোকাম থেকে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে বলে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে। মূলত আমদানিকারকরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এদিকে দেশে ছোলা আমদানিকারকরা জানান, বর্তমানে প্রতিটন ছোলার আমদানি মূল্য ৫০০ থেকে ৫৫০ ডলার। টাকার হিসেবে ছোলার মূল্য ৪০ হাজার থেকে ৪৪ হাজার টাকা। হিসাব অনুসারে প্রতিকেজি ছোলার আমদানিমূল্য ৪০ থেকে ৪৪ টাকা।

ছোলার দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ ডাল মালিক সমিতির সভাপতি শাফি মাহমুদ জানান, আমদানি কম থাকায় ছোলার ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। আমদানি বেড়ে গেলে দাম কমবে বলে আশা করা যায়। যে দাম বেড়েছে এটা কোনো ঘটনাই না। সব কিছুর দাম বাড়ছে। এমনিতেই রোজার সময় সব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ে। ছোলার দামও বাড়তে পারে। তবে বেশি বাড়বে না। এ জন্য চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। 

কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মিন্টু কাজী বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে বলেই খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। কেন দাম বাড়ল এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা বলছেন আমদানি কম। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বেশি দামে বিক্রি করছে। 

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৪ সালে প্রতিকেজি ছোলা ছিল ৭২ টাকা ৫০ পয়সা, ২০১৫ সালে এর দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯ টাকা ১৭ পয়সা। ওই বছরের তুলনায় দাম বাড়ে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। 
সূত্র : আামাদের সময়

Post a Comment