**TRY FREE HUMAN READABLE ARTICLE SPINNER/ARTICLE REWRITER**

জ্বলজ্বলে সবুজ চোখের মাছ


বেশ চমকে গিয়েছিলেন কানাডার নোভা স্কশিয়ার তরুণ জেলে স্কট টার্নার। তিনি ঠিক দেখছেন তো? পরে নিশ্চিত হলেন, ভুল নয়। ট্রলারের জালে আটকে পড়া মাছটির চোখজোড়া আসলেই জ্বলজ্বলে সবুজ। তাঁর সঙ্গী অন্য জেলেরাও এমন অদ্ভুত মাছ দেখেননি কখনো।

নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের কাছাকাছি উপকূলে ট্রলার নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে ঘুরছিলেন ২৩ বছর বয়সী টার্নার ও তাঁর সঙ্গীরা। উদ্দেশ্য, কড মাছ ও রেডফিশ ধরবেন। সেখানেই অদ্ভুত মাছটির দেখা মেলে। সবুজ চোখের মাছটির ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছেন টার্নার। আর তাতে বিস্ময় জানিয়ে নানা মন্তব্য করেছেন অনেকে। এসবের মধ্যে মুগ্ধ কৌতূহল যেমন আছে, তেমনি আছে বিতৃষ্ণাও। যুক্তরাজ্যের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকা লিখেছে, ‘কোন জাহান্নামের প্রাণী এটা?’ সংবাদপত্রটির বর্ণনায়, মাছটির দৃষ্টি ‘অশুভ’।

মাছটির লেজ বেশ লম্বা। নাকটা তলোয়ারের মতো। আরও আছে পাখির ডানার মতো জোড়া পাখনা। একে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে গত মঙ্গলবার অন্তত ৭০০ মন্তব্য করা হয়েছে। ‘দুঃস্বপ্নের মতো মাছটিকে’ কেউ কেউ ‘সাগরেই ফেলে দেওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছেন!

হ্যালিফ্যাক্সের মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক অ্যান্ড্রু হেবডা বলেন, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে কাইমেরা গণভুক্ত তিনটি প্রজাতির মাছ রয়েছে। সবুজ চোখওয়ালা অদ্ভুত মাছটি সম্ভবত তাদেরই একটি। তরুণাস্থিধারী এই আদি জাতের মাছের সঙ্গে হাঙরের অনেক মিল আছে। কাইমেরার চোখের রেটিনার গঠনটাই এমন, যাতে সাগরতলের খুব কম আলোয়ও এরা খাবার খুঁজে পায়। আর বেশি আলোয় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের উজ্জ্বলতা কমতে শুরু করে এদের।

ট্যানার বলেন, জালটা ট্রলারে তুলে আনার পরপরই মাছটি মরে যায়। সম্ভবত পরিবেশের আকস্মিক পরিবর্তন সইতে পারেনি। কয়েকটি ছবি তোলার পর তাঁরা মাছটির ওজন মাপেন (সাড়ে চার কেজি)। তারপর সেটিকে আবার সাগরে ফেলে দেন।

হেবডা মনে করেন, এ রকম মাছ দেখে জেলেদের অবাক হওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ, এগুলো খুব কমই ধরা পড়ে বা দেখা যায়। মহাসাগরে দুই হাজার থেকে তিন হাজার মিটার গভীরে এদের আবাস। বেঁচে থাকে ছোট ছোট সামুদ্রিক প্রাণী ও পোকামাকড় খেয়ে।

কাইমেরা মাছ খাওয়া যায়। তবে এদের জাদুঘরে সংরক্ষণ করাটাই বেশি যৌক্তিক বলে মনে করেন হেবডা। ট্যানারও এ বিষয়ে একমত, ‘মাছটি খেয়ে ফেলার কথা মাথায়ই আসেনি আমার।’
সূত্র : আমাদের সময়

Post a Comment