‘চোখ থাকতে চোখের মর্ম বুঝুন’


অন্ধত্ব ও চোখের রোগ এড়াতে সবাইকে চোখের প্রতি যতœশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চোখ থাকতে চোখের মর্ম বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ চোখ। চোখ দিয়ে আমরা দেখি। মানুষকে চোখের যতœ নেওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

বুধবার (১৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির ৪৩তম বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

গর্ভকালীন মায়েদের সচেতনতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জন্মগত অন্ধত্ব ও চোখের রোগ প্রতিরোধে গর্ভকালীন মায়েদের সচেতন হওয়া জরুরি।

সাধারণ মানুষের উন্নত চোখের চিকিৎসা প্রদানে প্রতি জেলা ও উপজেলায় চক্ষু বিশেষজ্ঞের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যেন সব সময় আলোকিত ভবিষ্যৎ দেখতে পায় সেভাবে কাজ করবেন।

মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। মানুষের মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়াই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য উন্নত দেশ গড়া। মানুষ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী না হলে উন্নত দেশ গড়া সম্ভব নয়।

নতুন রোগের বিষয়ে জনগণ ও চিকিৎসকদের আরো সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রোগ শোক এখন দেখা দিচ্ছে। সেগুলো কিভাবে মোকাবেলা করা যায়, সেগুলোর কিভাবে চিকিৎসা দেয়া সে বিষয়ে আরো সচেতনতা দরকার। 

৩২ প্রকার ঔষধ বিনামূল্যে প্রদানসহ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় কমিউনিটি ক্লিনিকের অবদানের কথা এ সময় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আরো কিছু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করছি। একটা চট্টগ্রামে। আরেকটা রাজশাহীতে। ভবিষ্যতে আমরা সিলেটেও একটা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করবো।

প্রতি জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বিবেচনা করে প্রতি জেলায় মেডিকেল কলেজ করার চিন্তা-ভাবনা আছে আমাদের।

চিকিৎসা সরঞ্জাম সহজলভ্য করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করেছি, কোন কোন ক্ষেত্রে শুল্ক মুক্ত করে দিয়েছি। সে হিসেবে চক্ষু চিকিৎসার সরঞ্জামও শুল্ক মুক্ত হওয়ার কথা। এটা যদি এখনো না হয়ে থাকে এটা করতে হবে।

মানুষ যেন মানসম্মত চিকিৎসা পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 

নার্সিং পেশার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নার্সিং সম্মানজনক পেশা এটা মানুষকে বোঝাতে হবে। মানুষকে সেবা করার এর চেয়ে বড় ও মহৎ পেশা আর হতে পারে না।

জাতীয় বার্ন ইউনিট ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সিটিটিউট প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা বার্ন ইউনিট করে দেই। পরবর্তীতে সেটা আর সেভাবে চালু হয়নি। পরে আমরা আবার ক্ষমতায় এসে এটা চালু করি। এখন আমরা এটিকে জাতীয় বার্ন ইউনিট ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট করে দিচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি-জামায়াত যেভাবে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে তারা যে অবস্থা সৃষ্টি করেছে তা ভাষায় বলা যাবে না।

তিনি বলেন, মানুষ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে এটা চিন্তারও বাইরে। কিন্তু তাদের আন্দোলন মানে মানুষ হত্যা, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। আগামী তিন এপ্রিল জাতীয় বার্ন ইউনিট ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট উদ্বোধন করা হবে বলে জানান তিনি। 

অনুষ্ঠানে ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হককে চোখের চিকিৎসায় অবদানের জন্য আলীম মেমোরিয়াল গোল্ড মেডেল ২০১৬ প্রদান করা হয়। এছাড়া ডা. শরফুদ্দিন আহমেদের লেখা চোখের রোগে করণীয় বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। 

বাংলাদেশ চক্ষু বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক শরফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহেদ মালেক, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা মোদাচ্ছের আলী প্রমুখ।
সূত্র : বাংলানিউজ২৪

Post a Comment