বোলিংয়ের মতো ব্যাটিংটাও ভালো হয়নি


অনেক দিন পর একটা বাজে দিন গেলো আমাদের। টস হার থেকে শুরু করে, খেলার সব বিভাগেই আমরা পিছিয়ে পড়েছিলাম। যদিও এর আগে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই মাশরাফি টস জেতেননি। তবুও, আজকের দিনে টস হারটা খুব প্রভাব পড়েছিল। আর অনেক দিন পর আমাদের বোলাররা ভালো করতে পারেনি। শুধু তাই নয়, বোলাররা অনেক দিন পর এমন ফ্ল্যাট উইকেট পেলো বোলিং করার জন্য। যার ফলে বোলিংয়ে খুব বাজে দিন গেলো একটা আমাদের।

এশিয়া কাপ বলেন, বিপিএল বলেন এমনকি ধর্মশালার বাছাই পর্বের ম্যাচ বলেন- সব জায়গাতেই বোলাররা কোনো না কোনোভাবে উইকেটের সুবিধা পেয়েছিল। যে কারণে ভালো বল করতে পেরেছিল তারা। কিন্তু আজ ইডেনে একেবারেই বাজে বোলিং করলো তারা। উইকেটে তাদের জন্য কিছুই ছিল না। তার ওপর, প্রথম ওভারেই যখন আল আমিনের কাছ থেকে ১৮ রান নিলো পাকিস্তান, তখনই বোলাররা মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়ে। মোমেন্টামটা ওদের হাতে চলে যায় পুরোপুরি। এরপর আর কামব্যাক করতে পারেনি বাংলাদেশ।

মাশরাফি আজ আরও ভালো ক্যাপ্টেন্সি করতে পারতেন। বোলিং চেঞ্জিংটা কেমন যেন ম্যাচের সঙ্গে খাপ খায়নি। বিশেষ করে মাহমুদুল্লাহকে দিয়ে বোলিং করাতে পারতো। এই উইকেটে তো স্লো বোলার ব্যবহার করলেই লাভ হতো বেশি। কারণ, পেস বোলাররা বেশি রান দিয়েছে। তাসকিন বাদ দিলে অন্যরা বেশি রান দিয়েছে। মাশরাফি নিজেও এতগুলো ওভার না করলেই বরং ভালো হতো।

বোলিংয়ে বাজে একটা দিন কাটানোর পর ব্যাটিং নিয়ে অন্তত একটা ভালো প্ল্যান করা প্রয়োজন ছিল। আমার মনে হয়, ব্যাটিং নিয়ে যে প্ল্যান করা হয়েছিল সেটা ভালো হয়নি। অন্তত চিন্তা করা উচিৎ ছিল যে, বাংলাদেশ যেহেতু এখনো টি-টোয়েন্টিতে ২০০ রান তাড়া করার রেকর্ড কখনো করেনি, প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলাম ১৯০। দ্বিতীয় ইনিংসে রান তাড়া করেছি সর্বোচ্চ ১৬৬। সুতরাং, ২০০ তাড়া করে যখন জয় সম্ভব মনে হচ্ছিলো না, তখন লক্ষ্যই করা উচিৎ ছিল যে, আমরা ১৭৫ থেকে ১৮০ রান অন্তত করবো। তাতে রান রেটটা অনেক বাড়তো। যেহেতু এই গ্রুপটা ডেথ গ্রুপ, সবারই সেমিতে যাওয়ার ক্ষমতা আছে। সে ক্ষেত্রে রান রেটে আমরা অনেক বেশি পিছিয়ে গিয়েছি।
আবার এই ম্যাচে একাদশ নিয়েও আমরা আপত্তি আছে। যে এগারজন নিয়ে আমরা আজ খেলতে নেমেছি, এই একাদশটা এমন উইকেটের সঙ্গে যায় না। এই উইকেটের সঙ্গে দু-তিনটি জায়গায় পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। যেমন মোহাম্মদ মিঠুন। যে খেলে টপ অর্ডারে। তাকে ৭ নম্বরে খেলিয়ে কোনো লাভ নেই। তার চেয়ে বরং, তাকে না খেলানোই ভালো ছিল। এটা যেহেতু ব্যাটিং উইকেট, সেহেতু মাশরাফির হাতে যত বেশি বোলার থাকতো, ততবেশি ইজি হয়ে যেতো তার কাজটা। সে ক্ষেত্রে মিঠুনের পরিবর্তে যদি নাসিরকে খেলানো হতো, তাহলে ইডেনের এই ফ্ল্যাট উইকেটে বোলার হিসেবেও তাকে মাশরাফি ব্যবহার করতে পারতো। স্লো বোলার হওয়ার কারণে তার তিন কিংবা চারটি ওভার রান কম দিতো এবং হয়তো পাকিস্তানের রান ১৮০ও হতো, তাহলে ম্যাচের চিত্র কিন্তু পুরোপুরি বদলে যেতো। যখন রান ২০০ প্লাস হয়ে গেলো, তখনই ম্যাচ আসলে আমাদের জন্য কঠিন হয়ে গেলো। খেলোয়াড়দের জন্যও এটা খুব চাপ হয়ে গেলো।

আর ব্যাটসম্যানদের কথা বলবো, আমোদের যে দলটা খেলছে, আমরা রেজাল্ট পাচ্ছি ভালো- এটা হয়তো ঠিক আছে। কিন্তু এই দলটির দিকে যদি দেখেন, বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যান কিন্তু পুরোপুরি অফফর্মে। এত বড় একটা টুর্নামেন্ট চলছে, অথচ সৌম্য সরকার অফফর্মে, মুশফিক অফফর্মে, মিঠুনকে তো খেলাচ্ছি অনেক নিচে। সাকিবও রান করছে, কিন্তু এ রানটা হচ্ছে বল টু বল। এশিয়া কাপের এক ম্যাচে ৩২ বরেছে ৩০ বলে। আজ ৫০ করেছে ৪০ বলে। শেষ ওভারে চার-ছক্কা মেরে স্ট্রাইক রেট ১২৫ করেছে। আমাদের ব্যাটসম্যারা যদি আর একটু হাতখুলে খেলতে না পারে, তাহলে টি-টোয়েন্টিতে তো ভালো কিছু করা যাবে না। কারণ, সামনে যেসব ম্যাচ রয়েছে, সেগুলোতে হাই স্কোরিং ম্যাচই হবে মনে হচ্ছে। পরের ম্যাচ যেমন বেঙ্গালুরুতে। সেখানেও উইকেট ভালো। সুতরাং, আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য সামনে আরও বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।

আগামী ম্যাচে মুস্তাফিজ যদি কামব্যাক করে, তাহলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হবে। কারণ, তার চারটা ওভার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে ফিরলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আশা করা যায় ভালো করতে পারবে বাংলাদেশ। কারণ, তার এক্সট্রা অর্ডিনারি কোনো স্পেল যদি হয়, তাহলে কোনো ম্যাচে জিততেও পারি। কারণ, আমরা যে গ্রুপে রয়েছি, তাদের মধ্যে পাকিস্তান ছাড়া আর কাউকেই টি-টোয়েন্টিতে হারাতে পারিনি। সুতরাং, আশা করছি, পরের ম্যাচগুলোতেও ভালোভাবেই কামব্যাক করবে বাংলাদেশ।

Source : jagonews24

0 Response to "বোলিংয়ের মতো ব্যাটিংটাও ভালো হয়নি"

Post a Comment