আমি পেশাদার অভিনেত্রী নই : সাবিলা নূর


ছোটপর্দার পরিচিত মুখ মডেল অভিনেত্রী সাবিলা নূর। শৈশবে বুলবুল ললিত কলায় নাচের তালিম নিয়েছেন। এরপর বিজ্ঞাপন থেকে টেলিভিশন নাটকে পা রাখেন। কাজ করছেন উপস্থাপিকা হিসেবেও।

সাবলীল অভিনয় আর গ্ল্যামারের জাদুতে তিনি বাজিমাত করে চলেছেন। বর্তমানে তাই ছোট পর্দায় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে রয়েছেন। বিশেষ করে টিনএনজদের কাছে সাবিলার গ্রহণযোগ্যতা আকাশ ছোঁয়া। তাই নির্মাতারাও চেষ্টা করেন টিএনএজদের নিয়ে নির্মিত নাটক-কনসেপ্টে তাকে কাজ করানোর।

অল্প দিনের ক্যারিয়ার হলেও বেশ কিছু সফল কাজ তিনি জমা করেছেন অভিজ্ঞতার ঝুলিতে। তারমধ্যে রেদোয়ান রনির ‘ইউটার্ন’, রাহাত রহমানের ‘ম্যাংকি বিজনেস’, মাবরুর রশিদ বান্নাহর ‘শত ডানার প্রজাপতি’সহ বেশ কিছু নাটক উল্লেখযোগ্য।

সম্প্রতি সাবিলা তার বর্তমান ব্যস্ততা, তারকা ও ব্যক্তি জীবন নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন বিভাগে সঙ্গে...

বর্তমানে কী কী নাটকে কাজ করছেন?
সাবিলা : ইমরাউল রাফাতের দেশ টিভি’র জন্য ‘কলিং বেল’, মাবরুর রশিদ বান্নাহর পরিচালনায় এনটিভিতে ‘হাউজ-৪৪’, এসএ টিভিতে হাসান মোর্শেদের ‘আদর্শলিপি’ ধারাবাহিকগুলোতে কাজ করছি। এছাড়া নাজনীন হাসান চুমকি আপুর ‘নাগরদোলা’, সৈয়দ শাকিলের ‘উল্টো স্রোত’, অনিমেষ আইচের ‘ভুবুনের সাত সতের’, রেদওয়ান রনির ‘ক্যান্ডি ক্রাশ’ নাটকগুলোতেও কাজ করছি।
খন্ড নাটক ও টেলিফিল্মের কাজ করছেন না?
সাবিলা : আপাতত না। তবে ঈদের জন্য কয়েকটি নাটকের স্ক্রিপ্ট হাতে পেয়েছি। পছন্দ হলে কিছুদিন পর কাজ শুরু হতে পারে।

কোনো কাজে হাত দেয়ার আগে কোন দিকগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন?
সাবিলা : স্টোরি, ডিরেক্টর, ক্যারেকটর- এই তিনটা জিনিস সবার আগে খেয়াল করি। যদি পছন্দ হয় তখনই সেই কাজটি করি।

এক ঘণ্টার নাটকে না ধারাবাহিকে- কোন মাধ্যমে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
সাবিলা : আমার ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি এক ঘণ্টার নাটকেই বেশি করতাম। পড়াশোনার চাপ ছিলো এবং এখনো সেটা আছে। তবে এখন আমি তো আমি একটু বেশি সিরিয়ালে কাজ করছি। আমার কাছে ধারাবাহিকের কাজ বেশ মজার। কাজ করতে করতে একটা পরিবারের মতো আবহ তৈরি হয়ে যায়। বেশ ভালো লাগে। তবে প্রথমে অনেকেই বলতেন সিরিয়াল করে কোনো লাভ নেই। কারণ এর মাধ্যমে নাকি ভালো রেসপন্স পাওয়া যায় না। কিন্তু আমি কনফিডেন্স নিয়ে কাজ করেছি এবং করে যাচ্ছি। আমি পজেটিভ রেসপন্স পাচ্ছি।

যে সিরিয়ালগুলোতে কাজ করছেন সবগুলোই কিন্তু শহুরে গল্পের। আপনাকে গ্রাম্য চরিত্রে তেমনভাবে দেখা যায়না। এর কারণ কী?
সাবিলা : এটা আসলে আমি নিজেও জানি না। আমার নির্মাতারাই ভালো বলতে পারবেন কেন তারা আমাকে গ্রামীন চরিত্রে ভাবেন না। তবে আমি সব সময়ই চেষ্টা করি নতুন নতুন চরিত্রে অভিনয় করতে, চরিত্রে ভিন্নতা আনতে। যেমন- কোথাও হুট হাট রেগে যাই,  আবার কোথাও হাবা গোবা, কোথাও বা রোমান্টিক আবার কোথাও মা-বাবার বাধ্য-আদুরে মেয়ে। আমার মনে হয় আমি এখন যে ধরণের গল্প বা চরিত্রে কাজ করছি দর্শকরা এগুলো সাদরেই গ্রহণ করছেন। এই ব্যাপারটা আমি বুঝেছি ফিডব্যাকের মাধ্যমে।

তাছাড়া আমি যে গ্রাম্য নাটকের চরিত্রে কাজ করিনি তেমনটিও নয়। কোনো কারণে হয়তো সেগুলো সবার নজরে আসেনি।
নাটক-বিজ্ঞাপনে আপনার উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। কালেভদ্রে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সঞ্চালনাও করে থাকেন। 

আবার একই সঙ্গে লেখাপড়াও চালিয়ে যাচ্ছেন। এতকিছু সামলান কিভাবে?
সাবিলা : আমার খুব বেশি কাজের তাড়া নেই। কেননা, আমি পেশাদার অভিনেত্রী নই। অর্থ উপার্জন করে সাংসারিক খরচার জন্য আমি কাজ করি না। অভিনয়টা আমার কাছে পুরোটাই ভালো লাগার একটা স্থান। এজন্য আমার কাজের চাপ থাকলেও সামলে নেই। যেটুকু ব্যস্ত থাকি তার ফাঁকেও পড়ালেখাটা চালিয়ে যেতে পারছি। সেক্ষেত্রে আমি যাদের সঙ্গে কাজ করি তারা আমাকে হেল্প করেন।

অবশ্য তারপরও আমাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। কারণ ভার্সিটিতে আমার খুব বেশি ক্লোজ ফ্রেন্ডস নেই। আর আমি সকলের সাথে সেভাবে মিশতেও পারিনা। বাধ্য হয়েই পড়াশোনা নিয়ে অনেক খাট খাটনি করতে হয়। তবে আমি চেষ্টা করি যখন যাই করি না কেন, সেটা শভাগ মনযোগ দিয়ে করার।

অ্যালেন শুভ্রকে জড়িয়ে আপনাকে নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। আপনাদের মধ্যে সম্পর্কটা নাকি বেশ গভীর। তা সেই সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলুন....
সাবিলা : কথা তো অনেক কিছুই উড়ে বেড়ায় শোবিজের বাতাসে। যারা সেইসব কথার বেলুনে গ্যাস দেন তারাই ভালো বলতে পারবেন এসবের সত্য-মিথ্যা নিয়ে। আমার জানা নেই। আমি শুধু বলবো অ্যালেন শুভ্র আমার বেশ ভালো বন্ধু। অন্য পাঁচটা সহকর্মীর মতোই ভালো বন্ধু। আর যেহেতু আমরা একসাথে কাজ করি তাই সম্পর্ক তো ভালো এবং গভীর হবেই। তাই না?

এখনকার নাটকগুলো নিয়ে আপনার মূল্যয়ন কী?
সাবিলা : একটা সময় ছিল দর্শক প্রচুর নাটক দেখতেন। এরপর তারা ভিনদেশি সংস্কৃতিতে আকৃষ্ট হয়ে নাটক বিমুখ হয়ে যান। আমার মনে হয় এখন আবার আমরা আগের মত নাটকের দর্শক ফিরে পাচ্ছি। আজকাল আমাদের এখানে খুব ভালো মানের ও সুন্দর গল্পের নাটক নির্মাণ হচ্ছে। তাছাড়া কিছু প্রতিবন্ধকতা যদি থেকেও থাকে তবে আমি মনে করি সেসব আস্তে আস্তে কেটে যাবে।
জাগো নিউজ : নিজের অভিনীত নাটকগুলো দেখা হয়?
সাবিলা : নাহ! আসলে আমি নিজের কাজগুলো দেখতে আনইজি ফিল করি। আর অন্যের সামনে হলে তো কথাই নেই। কেমন যেন লাগে (মুচকি লাজুক হাসি)। কেন যে এমন হয় সেটা আমার জানা নেই। তবে নাটক প্রচার হয়ে গেলে ইউটিউবে একা একা দেখার চেষ্টা করি।

আচ্ছা, চলচ্চিত্রে কাজের ইচ্ছা আছে নিশ্চয়ই?
সাবিলা : নাহ! চলচ্চিত্রে কাজের আপাতত কোনো ইচ্ছা আমার নেই। ছোট পর্দাতেই নিয়মিত কাজ করতে চাই।

বলেন কী? সবার মূল ডেসটিনেশন থাকে চলচ্চিত্র ঘিরে। আর আপনি বলছেন কোনো ইচ্ছা নেই। কিন্তু কেন?
সাবিলা : এটা সত্য চলচ্চিত্রে কাজ করাটা স্বপ্নের মতো ব্যাপার। সবাই চান নিজেকে বড় পর্দায় উপস্থাপন করতে। কিন্তু আমি নিজেকে চলচ্চিত্রের জন্য পারফেক্ট মনে করি না। আমার অ্যাক্টিংয়ে অতোটা ম্যাচিউরিটি এখনো আসেনি। তাছাড়া পড়াশোনাটা কমপ্লিট করতে চাই।

পাশাপাশি আমার পরিবারও চায় না আমি চলচ্চিত্রে কাজ করি। আমার বাবা তো প্রথমদিকে কোনো অভিনয়ই করতে দিতে রাজি হননি। তিনি চাইতেন না আমি মিডিয়াতে কাজ করি। কিন্তু ধীরে ধীরে তার ভাবনায় পরিবর্তন এসেছে। এখন বাবা আমার কাজের প্রশংসা করেন। তিনি চান আমি ছোটপর্দাতে কাজ করি। তাই আমিও ছোট পর্দা নিয়ে ব্যস্ত আছি।

Post a Comment