বিয়ের প্রথম ৬ মাসে গুরুত্ব দিবেন যেসব বিষয়


প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো বিয়ে। বিয়ের আগে যখন প্রেম করে সময় কাটে তখন মনে নানা স্বপ্ন উঁকি দেয়। তা ক্যারিয়ার থেকে শুরু করে ফ্যাশনেবল পোশাক কেনা পর্যন্ত হতে পারে। তবে বিয়ের আগের সব স্বপ্ন আসলে পরে অধরাই থেকে যায়। বিয়ের মাধ্যমেই জীবনের প্রথম স্বপ্নটি পূরণ হয়। এরপর শুরু হয় স্বপ্ন পূরণের পালা। বিয়ের পর আগের অনেক স্বপ্নকে তখন অর্থহীন মনে হয়। তাই সদ্য বিবাহিতদের বিয়ের প্রথম ছয় মাসে এমন কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত যাতে পরবর্তীতে দাম্পত্যে শান্তি আসতে পারে।

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিয়ের প্রথম ছয় মাসের এই সুখের সময়টি দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যায়। তবুও সুখের কী আর শেষ আছে। তাছাড়া ছয় মাস পরও তো রয়েছে গোটা জীবন। তবে এই ছয় মাসের জীবন নিয়ে দুজনে আলোচনা করুন। এছাড়া এমন কিছু কাজ করুন যাতে আপনাদের সংসারে শান্তি ফিরে আসে।

অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন
দীর্ঘদিন পরস্পরকে জানাশোনার পর কিংবা পারিবারিকভাবেই আপনারা বিয়ে করেছেন।  বিয়ের পর প্রথম ছয় মাসেই দুজনের জীবন, ক্যারিয়ার, বন্ধুবান্ধব, পরিবার প্রভৃতি নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন। প্রথম থেকেই দুজনে মিলে আলোচনা করে নিলে অনেক কঠিন কাজই পরে সহজ হয়ে যায়। এতে পরবর্তীতে নানা উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়।

ভক্ত হয়ে উঠুন
বিয়ের প্রথম ছয় মাসে দুজন দুজনের প্রতি এমন একটা মনোভাব গড়ে তুলুন, যাতে মনে হয় সবসময় দুজন দুজনের পাশে রয়েছেন। এতে ভবিষ্যতে দাম্পত্য জীবনে একের প্রতি অন্যের বিতৃষ্ণা ভাব কখনই চলে আসবে না। সেইসঙ্গে সংসারেও শান্তি আসবে। যেমন, হানিমুন থেকে ফিরে আসার পর কাজে কর্মে মন নাও বসতে পারে। এক্ষেত্রে দুজন দুজনের সঙ্গে কথা বলে নিতে পারেন। দেখবেন আবারও সেই হারানো মনোযোগ ফিরে পাবেন।

উপহার দিন
উপহার পেতে কার না ভালো লাগে। আর সেটা যদি হয় প্রিয়জনের কাছ থেকে তাহলে তো কোন কথাই নেই। তবে প্রিয়জনকে যে সবসময় বড় উপহার দিতে হবে এমন কোন কথা নেই। ছোটখাট অনেক বিষয়েও তাকে উপহার দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এভাবে- একদিন তিনি ঘুমাচ্ছিলেন এবং তার স্বামী তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত একটি চাদর দিয়ে মুড়িয়ে দেন। ‘আমি জেগে ওঠার পর সে জানায়, একটি মশা অনেক জ্বালাতন করছিল আর সে জন্যই তে আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়। আমি ভীষণভাবে মোহিত হয়ে যাই। পরে আমাদের প্রথম বিয়ে বার্ষিকীতে যখন সে আমাকে একটি ডায়মন্ডের নেকলেস উপহার দেয়, তখন তো সোনায় সোহাগা। এই উপহারটি যতো ছোটই হোক না কেনো, আমার অনুভূতি একই রকম থাকতো’। আবার পরস্পরের কপালে চুম্বন খেয়ে ভালোবাসা প্রকাশও একটা উপহার বটে। কেননা এই ছোট বিষয়গুলো অনেক গভীর এবং আবেগময়।

সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখুন
বিয়ের পর শুধু নিজের নতুন পরিবার নিয়েই কিন্তু মেতে থাকলে চলবে না। সেইসঙ্গে বাবা-মায়ের পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গেও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখুন। এ সময় হয়তো আগের মতো তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা হবে না। তবে এ নিয়ে নিজের মধ্যে মন খারাপের কিছু নেই। অবশ্য অন্য বন্ধুরা বিবাহিত না হয়ে থাকলে তাদের জীবনযাপন আগের মতোই থাকবে। সেক্ষেত্রে তারা আগের মতোই আপনার সঙ্গে দাবি করতে পারেন এবং আপনি সে সময় না দিতে পারলে তারা কিছুটা মন খারাপ করতে পারেন। এতে আসলে প্রাথমিক অবস্থায় আপনার মন খারাপ হলেও তা মানিয়ে নিন।

সততার সঙ্গে বোঝাপড়া করুন
বিয়ের প্রথম ছয় মাসে অনেক কিছুই নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে দেখা দিবে। শুধু তাই নয়, নানা বিষয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে দুজনের কাছে নিজের যুক্তি তুলে ধরতে দুজনেরই আরো খোলামেলা ও সৎ হওয়া প্রয়োজন। মনে রাখবেন, যে কোনো কাজ দুজনে মিলে একটি দল হয়ে করাই ভালো। এখানে প্রতিটি পদক্ষেপে যার যার পরিকল্পনা অপরের কাছে তুলে ধরুন। এতে যে কোন কাজই সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াটাও হয়ে উঠবে চমৎকার।
সূত্র : আমাদের সময়

Post a Comment