আইসিটি এক্সপোতে নজর কেড়েছে ওয়ালটন প্যাভিলিয়ন


এবারের তথ্যপ্রযুক্তি মেলায় ক্রেতা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন। সবর্শেষ তথ্যপ্রযুক্তির খোঁজখবর নিতে  বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা ভিড় করছেন ওয়ালটন মেগা প্যাভিলিয়নে। ‘

মিট ডিজিটাল বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বৃহৎ মেলা ’বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো-২০১৬’। মেলায় ২০টির বেশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পাশাপাশি দেশীয় শতাধিক তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন অংশ নিয়েছে। মেলা চলবে আজ শনিবার পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মেলায় ওয়ালটন মেগা প্যাভিলিয়নে ছিল ক্রেতা-দর্শণার্থীদের ব্যাপক ভিড়। যেখানে বিক্রি ও প্রদর্শিত হচ্ছে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের বিশ্ব মানসম্পন্ন ইলেকট্রনিক্স ও ইলেট্রিক্যাল পণ্যসামগ্রী। যার মধ্যে রয়েছে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, কম্প্রেসার, এলইডি টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন,  জেনারেটর, লাইটবক্স সহ অসংখ্য ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল হোম এ্যাপ্লায়েন্সেস। এছাড়াও, প্রদর্শণ করা হচ্ছে বেশকিছু আরএনডি পণ্যের। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল, ট্যাব ও এলইডি টেলিভিশন উৎপাদনের প্রধান উপকরণ মাদারবোর্ড।

ওয়ালটন আইটি বিভাগের অ্যাডিশনাল পরিচালক প্রকৌশলী লিয়াকত আলী বলেন, ওয়ালটনের নিজস্ব কারখানায় ইতোমধ্যে প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (মাদারবোর্ড) তৈরির জন্য একটি লাইন স্থাপন করা হচ্ছে। চলতি বছরেই নিজস্ব কারখানায় তৈরিকৃত উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন মাদারবোর্ড দিয়ে ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, কম্পিউটারের মনিটর, মোবাইল ও ট্যাব উৎপাদন করবে ওয়ালটন, তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর ফলে, ওয়ালটন ব্র্যান্ডের বর্তমান প্রোডাক্ট লাইনে নতুনভাবে যুক্ত হবে ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও কম্পিউটার মনিটরের মতো উচ্চ প্রযুক্তির পণ্যে। লিয়াকত আলী মনে করেন, এসকল পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশকে আরো একধাপ এগিয়ে নেবে ওয়ালটন। এবারের এক্সপোতে দর্শক-ক্রেতাদের জন্য ওয়ালটনের নতুন চমক হলো বিশ্বের সর্বাধুনিক ইনভার্টার প্রযুক্তির কম্প্রেসার সম্বলিত নো-ফ্রস্ট ফ্রিজ। ব্যাপক ভিত্তিক বিদ্যুত সাশ্রয়ী এই ফ্রিজের কম্প্রেসার নিয়ন্ত্রিত হয় মাদারবোর্ডের মাধ্যমে। যা বাংলাদেশে একমাত্র ওয়ালটনই ব্যবহার করছে। ইতোমধ্যে ইনভার্টার প্রযুক্তির মোট ৮টি মডেলের নো-ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটর বাজারে ছেড়েছে ওয়ালটন। ৫২৬ লিটারের তিন দরজা বিশিষ্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির নো-ফ্রস্ট ফ্রিজটি ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ফ্রিজের পাশাপাশি ওয়ালটন দেশে তৈরি করতে যাচ্ছে বিশ্বমানের কম্প্রেসার। সেগুলোর আপকামিং কিছু মডেল মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে। রয়েছে ওয়ালটনের তৈরি সর্বোচ্চ গুণগতমানের সিলড লেড এসিড রিচার্জেবল ব্যাটারি, সুইস, সকেট, এলইডি বাল্ব, লাইটসহ অন্যান্য ইলেকট্রিক্যাল পণ্য সামগ্রী।

মেলায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তির স্মার্টটিভি এবং এলইডি টিভি নিয়ে এসেছে ওয়ালটন।  সেইসঙ্গে প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য থাকছে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের উচ্চ প্রযুক্তি এবং সকল সুবিধা সম্বলিত থ্রিজি ও ফোরজি জেনারেশনের এন্ড্রয়েড স্মার্ট ফোন। রয়েছে বিভিন্ন মডেলের ফিচার ফোনও। সাশ্রয়ী মুল্যে উচ্চমানের ওয়ালটন মোবাইল ফোন মেলায় হটকেকে পরিণত হয়েছে।

ওয়ালটন মেগা প্যাভিলিয়নে অন-লাইন সেলসেরও ব্যবস্থা রয়েছে। ক্রেতারা অন-লাইনে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল হোম এ্যাপ্লেয়েন্স কিনলে পাবেন সর্বোচ্চ পাচ শতাংশ মূল্য ছাড়। মেলা থেকে প্রযুক্তিপ্রেমীরা অনলাইনের মাধ্যমে ওয়ালটন মোবাইল কিনলে ২২ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য ছাড় পাবেন। আর নগদে মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে পাবেন সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বিশেষ মূল্য ছাড়।

প্রসঙ্গত, সরকারের আইসিটি বিভাগ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির যৌথ উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয়েছে দেশের প্রযুক্তিকেন্দ্রিক শিল্পের সবচেয়ে বড় এক্সপো। দেশি বিদেশি ৫৯টি প্যাভেলিয়ন ও ৭০টি ছোট-বড় স্টল রয়েছে। মেলাকে লোকাল ম্যানুফ্যাকচারার্স, প্রোডাক্ট শো- কেসিং, ইনোভেশন, মিট উইথ ইন্টারন্যাশনাল ম্যানুফ্যাকচারার্স, ডিজিটাল লাইফস্টাইল, মেগা সেল, বিজনেস টু বিজনেস ম্যাচমেকিং ইত্যাদি বিশেষায়িত অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।

ওয়ালটনের সূত্রমতে, মেলায় লোকাল ম্যানুফ্যাকচারিং জোনের আওতায় সবচেয়ে বড় ও দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়ন তৈরি করেছেন তারা। ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক (পিআর এন্ড মিডিয়া) ও মেলার প্রধান সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, প্রথম আইসিটি এক্সপোতে ওয়ালটন শুধুমাত্র মোবাইল ফোন ও কিছু আরএন্ডডি প্রোডাক্ট নিয়ে অংশগ্রহণ করেছিল। গতবার দর্শক-ক্রেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় এবার মোবাইলসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল হোম এ্যাপ্লায়েন্সেস নিয়ে বৃহৎ পরিসরে অংশ নিয়েছে ওয়ালটন। 

হুমায়ুন কবীর মনে করেন, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন কতটা অগ্রসর ক্রেতারা তা উপলব্ধি করতে পারবেন। বিশেষ করে বিদেশি ক্রেতারাও এখন বাংলাদেশ থেকে এসব উচ্চমানের পণ্য অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে পারবেন। তিনি দাবি করেন, মেলায় দর্শণার্থীদের প্রায় সবাই ওয়ালটন প্যাভিলিয়নে আসছেন। এটা স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য একটি পজিটিভি দিক।

মেলা প্রাঙ্গন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা। টিকিট ছাড়াই দর্শনার্থীরা প্রদর্শনীতে প্রবেশ করতে পারছেন। ক্রেতা ও দর্শণার্থীদের জন্য থাকছে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ। প্রদর্শনী উপভোগে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। থাকছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

প্রদর্শনী চলাকালে স্থানীয় পর্যায়ে প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ, ক্লাউড কম্পিউটিং, শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি, ই-স্বাস্থ্যসেবা, ই-গর্ভনেন্স, আইটি এনাবল্ড ও ট্রেড কর্মাসের সম্ভাবনা, তথ্য প্রযুক্তিতে মানবসম্পদের উন্নয়ন, ক্রস বর্ডার সাইবার ক্রাইম, ডিজিটাল নিরাপত্তা, ইন্টারেন্ট অব থিংস ইত্যাদি বিষয়ে ১৪টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, চীন, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ ১০টির বেশি দেশের তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, প্রোগ্রামাররা সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনায় অংশ নেবেন।
সূত্র : ঢাকাটাইমস২৪

Post a Comment