পানির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে হতাহতদের রক্ত


ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের প্রধান বিমানবন্দর। রক্তাক্ত বিমানবন্দরে পড়ে রয়েছে ছিন্ন-ভিন্ন অনেক দেহ। প্রথম বিস্ফোরণের মাত্র ১০ মিনিট আগে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে ওই বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান জ্যাচ মোজুয়ান।


ফ্রান্সের বিএফএম টেলিভিশনকে বিস্ফোরণের পর বিমাবন্দরের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, এটা ছিল নৃশংস, ভবনের ছাদ ধসে পড়ছে; সর্বত্রই রক্ত, আহত মানুষ ও ব্যাগ পড়ে আছে। দ্বিতীয় বিস্ফোরণে বিমানবন্দরের পানির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে হতাহতদের রক্ত।

আমার ধ্বংস্তুপে হাঁটছিলাম, এটা ছিল একটা যুদ্ধের দৃশ্য-বলেন জ্যাচ। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে ব্রাসেলসের ইয়াভেন্তে বিমানবন্দরের বহির্গমন এলাকা জোড়া বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায় বিমানবন্দর।

ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাসেলসের জাভেন্তেম বিমানবন্দরে বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হয়েছে। বিস্ফোরণের পর বিমাবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ট্রেন ও বিমানের সব ধরনের সেবা স্থগিত করা হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা। বিমানবন্দরের ভেতরের লোকজনকে বাইরে বের হতে নিষেধ করছে কর্তৃপক্ষ।পাকিস্তানি দৈনিক পাকিস্তান টুডে অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে বলছে, ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে ব্রাসেলসের প্রধান বিমানবন্দর ও মেট্রোরেল স্টেশন। এতে ২৭ জন নিহত ও ১৩০ জন আহত হয়েছে।

অপরদিকে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভবনের কাছে পৃথক বিস্ফোরণে ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

বার্তা সংস্থা এপির একজন প্রতিনিধি ইইউর ভবনের কাছে মেট্রোরেল স্টেশনে বিস্ফোরণে বেশ কিছু মানুষকে শরীরের উপরের অংশে জখম অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছেন। তিনি বলেন, এদের মধ্যে অন্তত দুজনকে স্ট্রেচারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।

৩২ বছর বয়সী অ্যালেক্সান্দ্রে ব্রানসের মুখ রক্তে ছেয়ে গেছে। কান্না করতে করতে তিনি বলেন, ম্যালবেক স্টেশন থেকে মেট্রোরেল ছাড়ার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এটা সর্বত্রই আতঙ্ক তৈরি করে। এটা সর্বত্র আতঙ্ক তৈরি করে। মেট্রোতে অনেক মানুষ ছিলেন।
প্যারিস হামলার সন্দেহভাজন সালাহ আবদেসলাম ব্রাসেলস শহর থেকে আটক হওয়ার মাত্র চারদিনের মাথায় এই বিস্ফোরণ ঘটলো। তবে বিস্ফোরণ দু’টির কারণ এখনো জানা যায়নি। এছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠীই ব্রাসেলসের এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি।

এর আগে গত নভেম্বরে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ছয়টি স্থানে ভয়াবহ হামলায় ১৩০ জন নিহত হয়। ওই হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। এরপর প্যারিস হামলার মূল হোতা সালাহ আবদে সালাম প্যারিসে পালিয়ে যায়। পরে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে আবদেসালামকে আটক করে বেলজিয়াম পুলিশ। এরপরই ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো ব্রাসেলস।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment