কবি রফিক আজাদ আর নেই


‘ভাত দে হারামজাদা নইলে মানচিত্র খাবো’- কালজয়ী এ পংক্তির স্রষ্টা মুক্তিযোদ্ধা কবি রফিক আজাদ আর নেই। আজ শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএমএসএসইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)। একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারজয়ী এই কবির বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

কবির স্বজনরা জানান, মস্তিস্কে রক্তক্ষরণের পর রফিক আজাদ প্রায় দুই মাস ধরে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন। আইসিইউর ডাক্তারের বরাত দিয়ে তার বড় ভাইয়ের মেয়ে ড. নিরু শামসুন্নাহার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত জানুয়ারিতে রফিক আজাদের ‘ব্রেইন স্ট্রোক’ হলে তাকে প্রথমে বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গতকাল শুক্রবার বিকালে পুনরায় তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এখানেই আজ দুপুর সোয়া ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

কবির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তার দুই ছেলে অভিন্ন আজাদ ও অব্যয় আজাদ কানাডায় থাকেন। তারা বাবাকে দেখতে দেশে এসেছিলেন। ১০ মার্চ বাবাকে দেখে অভিন্ন আজাদ আবার কানাডা চলে যান। গতকাল তিনি কানাডায় পৌঁছান। আজ মৃত্যুর খবর শুনে অভিন্ন আবারও দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন। পৌঁছাবেন আগামী সোমবার। এরপর মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে কবির মরদেহ দাফন করা হতে পারে রফিক আজাদকে।

১৯৪১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কবি রফিক আজাদ। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময়ই ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বাবা-মার কঠিন শাসন উপেক্ষা করে ভাষা শহীদদের স্মরণে খালি পায়ে মিছিল করেন তিনি।

চিরদিনই প্রতিবাদী এই কবি তার দ্রোহকে শুধু কবিতার লেখনীতে আবদ্ধ না রেখে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন জাতির চরম ক্রান্তিকালে, ১৯৭১ এ হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গনের সৈনিক হিসেবে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নেন তিনি। কর্মজীবনে রফিক আজাদ বাংলা একাডেমির মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘উত্তরাধিকার’র সম্পাদক ছিলেন। ‘রোববার’ পত্রিকাতেও রফিক আজাদ নিজের নাম উহ্য রেখে সম্পাদনার কাজ করেছেন। এছাড়া টাঙ্গাইলের মওলানা মুহম্মদ আলী কলেজের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনাও করেন তিনি। 

কবি রফিক আজাদ দৈনিক আমাদের সময়ের ভাষা বিষয়ক উপদেষ্টা সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

রফিক আজাদের প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে, ‘অসম্ভবের পায়ে’, ‘সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে’, ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এ কাব্যের জন্য ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও ২০১৩ সালে একুশে পদক পান তিনি। সাহিত্যে অবদানের জন্য পেয়েছেন হুমায়ুন কবির স্মৃতি (লেখক শিবির) পুরস্কারসহ আরও বেশ কয়েকটি পুরস্কার।
সূত্র : আমাদের সময়

Post a Comment