জিকা ভাইরাসের ঝুঁকি শনাক্তে গবেষণা করছে আইসিডিডিআর’বি


দেশে অতীতে কেউ এডিস মশাবাহী জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা জানতে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর’বি)। 

(আইসিডিডিআর’বি) এর ইর্মাজিং ইনফেকশনস প্রোগ্রাম বিভাগের পরিচালক ড. ইমিলি গারলির নেতৃত্বে একটি দল ডেঙ্গু ও চিরকুনগুণিয়া ভাইরাস শনাক্ত করতে অতীতে যে সব ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছিল সেই সংগৃহিত রক্তই পরীক্ষা করছে দলটি। 

জানা গেছে, ডেঙ্গু ও চিকুনগুণিয়া যেহেতু এডিস মশাবাহী তাই ওই নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে কেউ জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কিনা কিংবা আক্রান্ত হলো নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় তাই খতিয়ে দেখছে গবেষকরা। 

গবেষকরা বলছেন, এখনও পর্যন্ত দেশের কোথাও কারো এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ মেলেনি। জাইকা ভাইরাসের লক্ষণ ও উপসর্গ তেমন মারাত্মক না হওয়ায় অনেক সময় রোগটি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায় না। তাই রক্তের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে অতীতে কারো আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ পেলে তা ভবিষ্যতে জাইকার সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করবে। এ গবেষণার মাধ্যমে দেশের কোন এলাকায় কোন ধরনের জনসংখ্যা জিকা ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিতে পারে তা জানা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।

আইসিডিডিআরবির ওয়েবসাইটে বুধবার নতুন এ গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়। বর্তমানে বিশ্বে যে কয়েকটি রোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে জিকা ভাইরাস তার মধ্যে অন্যতম। ব্রাজিলে এ রোগে গর্ভবতী মায়েরা আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের গর্ভের সন্তানরা স্নায়ুসমস্যা ও ক্রুটিযুক্ত মাথা নিয়ে জম্মাচ্ছে। এডিস মশাবাহী এ রোগটি আন্তর্জাতিক জরুরি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে আর্বিভূত হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশকে রোগটি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। 

বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যেই জিকা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে নজরদারি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রধান গবেষক ড. গার্লি বলেন, জিকা ভাইরাসের উপসর্গ ও আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না। তবে সুষ্ঠু নজরদারি ও নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে সপ্তাহখানেকের মধ্যে রোগটি চিহ্নিত করা সম্ভব।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment