আসাদকে চাপে রাখতেই রুশ সৈন্য প্রত্যাহার!


প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর রাশিয়ার সেনাবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া ছাড়তে শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকালে রুশ সেনা বহনকারী প্রথম বিমান মস্কোর উদ্দেশ্যে সিরিয়ার মাইমিম বিমান ঘাঁটি ত্যাগ করেছে।

সোমবার পুতিন বলেন, সিরিয়ায় তাদের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। আর এ কারণে তারা সেখান থেকে রুশ বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের পরও রাশিয়া সিরিয়ায় কিছু বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রাখবে। যা সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কাজে ব্যবহার করবে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ রাশিয়ার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। পশ্চিমা কর্মকর্তারা রাশিয়ার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, এটি শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সিরিয়া সরকারের ওপর চাপ তৈরি করবে।

সৈন্য প্রত্যাহারে রাশিয়ার এই ঘোষণা এমন সময় এলো যখন জেনেভাতে সিরিয়া বিষয়ে নতুন করে শান্তি আলোচনা দুই দিনের মতো আজ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্তাফান দ্য মিস্তুরা রাশিয়ার এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের এই ঘোষণা মীমাংসা আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
প্রেসিডেন্ট আসাদের অন্য যে প্রধান মিত্র ইরান তারাও রুশ সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এখন অস্ট্রেলিয়া সফরে রয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, রুশ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিরিয়ায় একটি যুদ্ধবিরতি আংশিক হলেও কাজ করছে। এটাই ইরান গত তিন বছর ধরে চাইছে। রাশিয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক কারণ তারা হয়তো মনে করছে নতুন করে শক্তি প্রয়োগের আর দরকার হবে না। তবে প্রেসিডেন্ট আসাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া শোনা যায়নি।

সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় রাশিয়ার বিমান অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে সামরিক ভারসাম্য একেবারে বদলে যায়। বিদ্রোহীদের পিঠ অনেকটাই দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাদের হাত থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে সরকারি বাহিনী। কিন্তু এ সময় হঠাৎ করেই পুতিন কেনো সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেন, তা নিয়ে অনেকেই মাথা চুলকাচ্ছেন।

দামেস্ক থেকে বিবিসির লিস ডুসেট বলেন, রাশিয়া এখন বিশেষভাবে চাইছে সিরিয়ার যুদ্ধ শেষ হোক। সামরিক সাফল্যের সুযোগে সিরিয়ার সরকার যাতে শান্তি মীমাংসায় কট্টর অবস্থান না নিতে পারে সেটাই হয়তো রাশিয়া নিশ্চিত করতে চাইছে। তবে সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। সিরিয়ায় বিমান হামলার পাশাপাশি রুশ বিমান ও নৌ ঘাটি এখনই সরিয়ে নেয়া হচ্ছে না বলে মস্কো জানিয়েছে।

Source : jagonews24

Post a Comment