পিছিয়ে থেকেও গার্দিওলার বায়ার্নের অবিশ্বাস্য জয়


২-০ গোলে পিছিয়ে। তাও আলিয়াঞ্জ এরেনায়। এক কথায় বলতে গেলে খোদ বাঘের ঢেরায় গিয়ে বাঘকেই চোখ রাঙানি দেয়ার সমতুল্য। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সম্ভাবনাই যে ফিকে হতে শুরু করেছিলো পেপ গার্দিওলার দল বায়ার্ন মিউনিখের! তাদের মাঠে গিয়েই খেলা ২৮ মিনিটের মধ্যে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল ইতালিয়ান সিরি-এ জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ।

ওই অবস্থায় শুধু ২ গোল শোধ করাই নয়, জয়ের জন্য আরও গোল করা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভাবারিয়ানদের জন্য। শেষ পর্যন্ত, তিন গোল নয়, গুনে গুনে চারবার জুভদের জালে বল জড়িয়ে (৪-২ ব্যবধানে) দুরন্ত জয় তুলে নিল বায়ার্ন মিউনিখ। একই সঙ্গে গত বছরের ফাইনালিস্ট জুভেন্তাসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালও নিশ্চিত করে ফেললো জার্মান জায়ান্টরা।

পল পগবা এবং হুয়ান কুয়ার্দাদোর গোলে ২৮ মিনিটেই যখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল, তখন জুভরা হয়তো এই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে শুরু করে যে, বায়ার্নাকে হারানিয়ে শেষ আটে ওঠার তো কম্ম সারা হয়ে গেছেই। সুতরাং, এবার রিল্যাক্স। তাদের এই রিলাক্সেশনের সুযোগই নিয়ে নিল বায়ার্ন মিউনিখ।

কিন্তু থমাস মুলার আর রবার্ট লেওয়ানডস্কির গোলে সমতায় ফেরে বায়ার্ন মিউনিখ। ফলে নাটকীয়তা জমে যায়। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত আধা ঘণ্টায় আরও দুই গোল করে অবিশ্বাস্য জয় চিনিয়ে নেয় বায়ার্ন। ১২০ মিনিটের খেলা শেষে ফল দাঁড়ায় বায়ার্ন ৪ এবং জুভেন্তাস ২। দুই লেগ মিলিয়ে দু’দলের গোল হলো বায়ার্ন ৬ : ৪ জুভেন্তাস।

খেলা শুরু হওয়ার ৫ মিনিটেই পল পগবার ডান পায়ের দুর্দান্ত শট জড়িয়ে যায় বায়ার্নের জালে। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় জুভেন্তাস। ২৮ মিনিটে আবারও গোল। এবার গোলদাতা হুয়ান কুয়ার্দাদো। আলভারো মোরাতার পাস থেকে গোল করে তিনি আরও এগিয়ে দেন জুভেন্তাসকে। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ ব্যবধান নিয়েই।

২ গোলে পিছিয়ে থেকে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বায়ার্ন। শেষ পর্যন্ত খেলার ৭৩ মিনিটে গোল করেন বায়ার্নের রবার্ট লেওয়ানডস্কি। ডগলাস কস্তার ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে ৬ গজ দুর থেকে হেড করেন লেওয়াডস্কি। শেষ পর্যন্ত সেটা জড়িয়ে যায় জুভেন্তাসের জালে। তবুও ২-১ ব্যবধানে জিতেই যাচ্ছিল জুভরা। কিন্তু খেলার শেষ বাঁশি বাজার খানিক আগে সমতাসূচক গোল করে বসলেন থমাস মুলার। ৯০+১ মিনিটে কিংসলে কোম্যানের ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে মুলার হেড করে সমতায় ফেরান বায়ার্নকে।

২-২ গোলে সমতা চলে আসায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ১৮তম মিনিট (খেলার ১০৮ মিনিটে) থমাস মুলারের পাস থেকে বল পেয়ে থিয়াগো আলকানতারার ডান পায়ের শট নেন, যেটা জড়িয়ে যায় জুভেন্তাসের জালে। এর দুই মিনিট পর আবারও গোল। এবার গোলদাতা কিংসলে কোম্যান। আরতুরো ভিদালের পাস থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের শট নেন কোম্যান। সেটাই নিশ্চিত জয় এনে দিল বায়ার্নকে।

Source : jagonews24

Post a Comment