**TRY FREE HUMAN READABLE ARTICLE SPINNER/ARTICLE REWRITER**


জামালপুরে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ঝাওলা গোপালপুরের ‘জামাই মেলা’। প্রায় দুইশ বছর থেকে চলে আসা এই মেলাকে ঘিরে পূর্ব জামালপুরের ৪টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামে গেরস্থের বাড়িতে বাড়িতে এখন মেয়ে-জামাই নিয়ে চলছে উৎসবের আমেজ। 

জামালপুরে ঝাওলা গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাত দিনব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’ শুরু হয়েছে মঙ্গলবার পহেলা চৈত্র থেকে। মেলাকে ঘিরে পূর্ব জামালপুরের বাঁশচড়া, নরুন্দি, ইটাইল, ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামে এখন চলছে উৎসবের আমেজ। এসব গ্রামের গেরস্থরা মেলা উপলক্ষে নাইওর নিয়ে এসেছে মেয়ে-জামাইকে। এই সাতটি দিন মেয়ে-জামাইকে নানা উপহার, সালামি দেয়া ছাড়াও সব ধরনের মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। এই উৎসব আনন্দে শরীক হতে দূরে বিয়ে দেয়া মেয়ে আর জামাইরা অপেক্ষায় থাকে সারা বছর। মেলা উপলক্ষে শশুড়বাড়ি এসে সব কিছুকে ছাড়িয়ে জামাইরা মন ভরে উপভোগ করে শশুর বাড়ির আদর-আপ্যায়ন।
প্রায় দুইশত বছর আগে এই মেলার প্রচলন করেছিল এই অঞ্চলে বসবাসকারী সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। ভারত বিভক্তির আগ পর্যন্ত বারুনি স্নান উপলক্ষে এখানে বসতো চৈত্র মেলা। মেলাকে ঘিরে হিন্দু-মুসলিম সকলেই মেতে উঠতো নানা উৎসব অনুষ্ঠানে। মেলাকে ঘিরে গেরস্থের বাড়িতে জামাই আগমনের সূত্র ধরে ভারত বিভক্তির পর এই মেলা পরিচিতি পায় জামাই মেলা হিসেবে। আবার অনেকে এই মেলাকে ইসলামী মেলা হিসেবেও অভিহিত করছে।

এবার বিশাল এলাকা জুড়ে বসা এই মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের সব কিছুর সঙ্গে গেরস্থের প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র, ফার্নিচার ছাড়াও ঐতিহ্যবাহী গোপালপুরের বিখ্যাত নানা রকমের মিষ্টির পসরা নিয়ে বসেছে দোকানিরা। বিশেষ করে মেলায় প্রতিটি এক থেকে তিন কেজি ওজনের বালিশ মিষ্টি দৃষ্টি কাড়ছে সকলের। এই মেলা চলবে ৭ চৈত্র সোমবার পর্যন্ত।মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারেক জানান, এই মেলাটি আমাদের ঝাওলা গোপালপুরের ঐহিত্যবাহী মেলা। পূর্বে এই মেলার নাম চৈত্র মেলা হলেও কালের পরিক্রমায় এটি জামাই মেলা হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে। এবারের মেলায় দুই হাজারের অধিক স্টল স্থান পেয়েছে। 
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment