সহনশীলতা ইসলামের মৌলিক নীতি


ইসলামে সহনশীলতা নিছক একটি রূপকথা নয়। একজন মুসলিম বাস্তবে এ কথা বিশ্বাস করে যে, ইসলাম মানুষকে সহনশীল হতে এবং অন্যকে ক্ষমা করতে উপদেশ দেয়। কুরআন এবং সুন্নাহর নির্দেশিত পন্থাও তাই।

প্রকৃতপক্ষে ইসলাম রহমত তথা দয়ার ধর্ম। এ রহমত শুধুমাত্র মুসলমানের চলার পথকে সহজ করে দেয় না বরং অন্যদেরকেও পথ দেখায়। ইসলামের সুমহান শিক্ষা হচ্ছে, প্রতিশোধ গ্রহণ না করে ক্ষমা করা। এবং মানুষের প্রতি সহনশীল হওয়া, যখন সে ভুল করে।

সহনশীলতা ও ক্ষমা মুসলমানের ঈমানের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ঈমান কী? তিনি বললেন, ঈমান হচ্ছে ধৈর্য এবং সহনশীলতা। (সিলসিলা সহিহা)

সহনশীলতা ইসলামের একটি মৌলিক নীতি এবং ধর্মীয় নৈতিক কর্তব্য। এর মানে এই নয় যে, ইসলাম কোনো অন্যায়ের ব্যাপারে ছাড়, অনুকম্পা বা প্রশ্রয় দেয় এবং এটাও বুঝায় না যে, ইসলামে নীতির অভাব রয়েছে। ন্যায়ের পক্ষে গুরুত্বের অভাব রয়েছে।

ইসলাম সব সময় সহনশীল কিন্তু অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন, অন্যের অধিকার কেড়ে নেয়াসহ আল্লাহ তাআলার অধিকার লঙ্ঘনে ছাড় দেয় না।

পরিশেষেৃ
দুনিয়াতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহনশীলতা ও ধৈর্যের বিকল্প নেই। আর ইসলাম ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়সহ সকল ক্ষেত্রে সহনশীলতা শিক্ষা দেয়। যেমন-পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তান এবং ভাই-বোনের মধ্যে সহনশীলতা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মতামত ও চিন্তার ক্ষেত্রে সহনশীলতা, এমনকি ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মের মানুষের আন্তধর্মীয় সম্পর্ক, সংলাপ ও সহযোগিতার মধ্যে সহনশীলতার প্রয়োজন অত্যাধিক।

তাই দেশের রাজনৈতিক, আইনগত, সংস্কৃতিক, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের ক্ষেত্রে সহনশীলতার পথ অবলম্বন করা প্রত্যেক মানুষের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ন্যায়ের পথে সহনশীল ভূমিকা পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Source : jagonews24

Post a Comment