অফিস যখন সংসার ভাঙার কারণ


কর্মব্যস্ত জীবনে দিনের সিংহভাগ সময়ই কেটে যায় অফিসে। বাসায় ফিরলেও অফিসের দুশ্চিন্তা মাথায় থেকেই যায়। স্ত্রীর কাছে খুঁতখুঁতে স্বভাবের বস, বিরক্তিকর কিংবা কুটিল সহকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে শুরু করেন। এভাবেই কর্মক্ষেত্রের ঝামেলা প্রভাবিত করে ঘরের পরিবেশ। আপনজনদের সঙ্গে তিক্ততা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক সময় সম্পর্ক ভেঙেও দেয়।

একটি সম্পর্কবিষয়ক ওয়েবসাইটে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কর্মক্ষেত্র বিশেষজ্ঞ এবং ‘টেইম ইয়োর টেরিবল অফিস টাইয়ারান্ট: হাউ টু ম্যানেজ চাইল্ডিশ বস বিহেইভিয়ার অ্যান্ড থ্রাইভ ইয়োর জব’ বইয়ের লেখক লিন টেইলর বলেন, “সপ্তাহের অধিকাংশ সময় অফিসে কাটানোর ফলে কাজের প্রভাব সহজেই ব্যক্তিগত জীবনে পড়তে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “কাজের প্রভাব ঘরে পড়তেই পারে। তবে প্রায়ই এরকম হতে থাকলে সংসারে স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যেই মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে দাম্পত্যজীবন।”

তাই সাবধান হওয়ার জন্য কিছু বিষয় লক্ষ রাখা দরকার।

কাজের প্রতি বাড়তি গুরুত্ব: স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানো সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যেমন: একসঙ্গে সিনেমা দেখতে যাওয়া, আতœীয়-স্বজন কিংবা বন্ধুদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া কিংবা পরস্পরের সান্নিধ্য উপভোগ করা ইত্যাদি। তবে এই সময়গুলো যদি আপনি অফিসের পেছনে ব্যয় করা শুরু করেন তবে সম্পর্কে টানাপোড়ন সৃষ্টি হয়।

ক্লান্তি: আপনার সকল চঞ্চলতা যদি কর্মক্ষেত্রেই ফুরিয়ে যায় আর ঘরে যদি শুধু বিশ্রামই নেন তবে আপনার স্ত্রীর মন-মানসিকতার উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। 

স্ত্রী যখন থেরাপিস্ট: কর্মক্ষেত্রে আপনার পরবর্তী কর্মকাণ্ড কী হবে, কী করলে বসের শুভদৃষ্টি মিলবে— এসব নির্দেশনার জন্য নিয়মিত স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা উচিত নয়। এতে আপনার বৈবাহিক সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে।

কাজ ছাড়া বলার কিছু নেই: অফিসের আলাপ ছাড়া স্ত্রীকে বলার মতো আর কিছু যদি খুঁজে না পান তবে লক্ষণ ভালো নয়। কাজ আর ব্যক্তিগত জীবন আলাদা করতে না পারলে নিজের অজান্তেই অফিস কিংবা সহকর্মীকে নিয়ে আলাপ শুরু করার আশঙ্কা থাকে। এই অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

পারিবারিক অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা: কাজের ব্যস্ততার কারণে সন্তানের জন্মদিন, নিজেদের বিবাহবার্ষিকী ইত্যাদি অনুষ্ঠানে পৌঁছতে দেরি করা, অনুপস্থিত থাকা কিংবা ভুলে যাওয়া- ধীরে ধীরে সম্পর্কের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। স্ত্রীর মনে হতে পারে আপনি হয়ত সেচ্ছায় পরিবারের বদলে কাজকে বেছে নিচ্ছেন।

স্ত্রীর আগ্রহ কমে যাওয়া: অফিসের ঝামেলার প্রভাব ঘরে পড়ছে, সঙ্গীর এমনটা মনে হলে স্ত্রী আপনার সঙ্গে আলাপে জড়াতে নাও চাইতে পারেন। তার মনে হতে পারে নিজের ঘরোয়া ঝামেলা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে কথা বলা পণ্ডশ্রম। কারণ সবশেষে আলোচনা অফিসের দিকেই যাবে।

কলহ: ঘরের কলহ মাথায় নিয়ে অফিস থেকে ফিরলে মেজাজ অতিরিক্ত খিটখিটে হয়ে থাকতে পারে। ফলে সঙ্গীর উপর রাগ একটু বেশিই ঝেড়ে ফেলতে পারেন, তাও আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় নিয়ে।  

স্ত্রীর রক্ষণমূলক আচরণ: অফিস নিয়ে আলোচনা করলে স্ত্রী যদি আপনার চোখের দিকে না তাকায় কিংবা আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ না করে তবে বুঝতে হবে সে হয়ত নীরবে কোনো মানসিক কষ্টে ভুগছে। সেটা আপনাদের সম্পর্ক নিয়েও হতে পারে।  

নতুন বিষয় নিয়ে কলহ: কর্মক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন ঘটেছে যেমন- নতুন পদমর্যাদা, নতুন বস, নতুন বেতন ইত্যাদি। আর হঠাৎ করেই যদি নতুন বিষয় নিয়ে কলহ শুরু হয় যা নিয়ে আগে কখনই ঝগড়া হয়নি তবে বুঝে নিতে হবে এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়।

পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা কমে আসা: আপনার কাজের প্রতি স্ত্রীর বিরক্তি থাকলেও সবসময় তা প্রকাশ নাও করতে পারে। তবে এই বিরক্তি অন্য ক্ষেত্রে প্রকাশ পাবে। যেমন- অধৈর্য হওয়া কিংবা রগচটা হয়ে থাকার মাধ্যমে।

সামাজিকতায় অনিহা: স্ত্রীর প্রতি মনোযোগ না থাকলে সে সেটা বুঝতে পারেন। বাসায় ফেরার পর বা ছুটির দিনেও মাথায় কাজের চিন্তা ঘুরতে থাকলে নিজেকে নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ আটকে রাখার ইচ্ছে হতে পারে।

ফলে নিজেকে স্বাভাবিক সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরিয়ে রাখার পাশাপাশি আপনার সঙ্গীকেও বঞ্চিত করতে পারেন।

সবাইকে খুশি রাখতে বাড়তি আতœত্যাগ: আপনি কি সকালে অন্তত দুই ঘণ্টা আগে উঠছেন যেন তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে পারেন? ব্যক্তিগত ও কর্মক্ষেত্রে লক্ষ্যে পৌঁছতে নিজের শখ বিসর্জন দিচ্ছেন? এগুলো একসময় আপনার ভেঙে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

র্মক্ষেত্রেই সাচ্ছন্দ্য বেশি: কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য যদি ছুটি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন বা স্ত্রীর চাইতে বরং সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাতে বেশি মন চাইছে, তবে আপনি সমস্যায় ভুগছেন।

স্ত্রীর উপহাস: ‘ভাবছি এবারের অফিস ট্যুর থেকে ফিরলে বাচ্চারা তোমাকে চিনতে পারবে কিনা?’ স্ত্রীর মুখে এধরনের উপহাসমূলক বাক্য শুনলে সাবধান হতে হবে। এটা তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
সূত্র : বিডিনিউজ২৪

Post a Comment