মানুষের একই রকম চেহারা কেন হয়?


প্রায়ই একই রকম দেখতে দু’জন মানুষের সন্ধান মেলে। কিংবা একজনের চেহারার সঙ্গে আরেকজনের চেহারার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু কেন এমনটা হয়? জমজ না হয়েও চেহারার মিল থাকার বিষয় নিয়ে নতুন এক গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। 

সিগমুন্ড ফ্রয়েড তাঁর যুগান্তকারী প্রবন্ধ ‘দ্য আনক্যানি’-তে জমজত্বের ঘটনাটকে ব্যাখ্য করেছিলেন মনস্তত্ত্বের বিন্দু থেকে। তার মতে, নিজের অবিকল প্রতিরূপ এক আতঙ্কের উৎস। এবং তা মনোবিকারের ফলেই জাত।

ফ্রয়েড যা-ই বলে থাকুন, সাম্প্রতিক গবেষণা কিন্তু একেবারেই উল্টো পথে হাঁটতে চাইছে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরো বায়োলজির গবেষক মাইকেল শিহান তাঁর এক গবেষণাপত্রে জানিয়েছেন, নিঃসম্পর্কিত দু’টি মানুষের অবিকল এক চেহারার অধিকারী হওয়ার পিছনে কোনও প্যারানর্মাল বিষয় কাজ করে না। কেবল চেহারার সাদৃশ্য নয়, নিঃসম্পর্ক জমজত্ব এত দূর গড়াতে পারে যে, এই হামশকলরা আচারে-আচরণেও পরস্পরের প্রতিরূপ হতে পারেন। এমনকী, কোনো তাসের ডেক থেকে তাদের তাস বাছতে বলা হলে তারা একই তাস তুলে নেন।

কী রয়েছে এই ‘লুক-অ্যালাইক’ রহস্যের পিছনে? শিহানের বক্তব্য, বংশগতির একটা খেলা এখানে অবশ্যই কাজ করছে। দুই ভিন্ন দেশে, ভিন্ন কালেও এই জমজ দেখা গিয়েছে। এর কারণ সুদূর অতীতে ঘটে যাওয়া গ্লোবাল মাইগ্রেশন, একই বংশবীজ দুই ভিন্ন ভূগোলে ভিন্ন এথনিসিটির মধ্যে বেড়ে ওঠা। 

সুতরাং, যদি কোথাও কখনো আপনার চেহারার মত দেখতে অন্য এক জনকে নজরে আসে তবে জানবেন, তিনি কোনো না কোনও সূত্রে আপনার আত্মীয়। নিকট না হলেও নিকটজন।

সূত্র : বাংলামেইল২৪

Post a Comment