ওপার বাংলায়ও চলছে পহেলা বৈশাখ


অধিবর্ষ হওয়ার সৌজনে এ বছর একদিনেই প্রতিবেশী কলকাতা ও ঢাকায় চলছে বাংলা নতুন বছরের নানা আয়োজন-উৎসব। কলকাতার তাপমাত্র ৪০ ডিগ্রি ছুইছুই করছে। তাতে কি, আজ যে বাঙালির শতসহস্র বছরের প্রিয় উৎসব ’নববর্ষ’।

নতুন বছরের ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই কলকাতার পথে নেমে পড়েন বহু বাঙালি আট থেকে আশি। সারা দিন আজ কলকাতাসহ গোটা রাজ্যেই নতুন বছরের আয়োজন চলছে। এমন কি চলতি বিধানসভা ভোটে নির্বাচনী প্রচার হিসাবে আজ রাজনৈতিক প্রার্থীরা নববর্ষকে ব্যবহার করবেন।  

কলকাতার একাডেমি অফ ফাইন আটর্সে পান্তা শুটকি আয়োজন করছে ভাষা ও চেতনার সমিতি। এর আগে তাদের উদ্যোগেই রবীন্দ্রসদন মোড় থেকে বাংলা একাডেমি পর্যন্ত শোভা যাত্রায় পা মেলান বাঙালি ঐহিত্যে বিশ্বাসী বহু মানুষ। কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বীরভূমে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে নববর্ষের আয়োজন। এদিন সকালে ছাতিমতলায় প্রাথর্ণা সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া বৈশাখী আয়োজন শেষ হবে সন্ধ্যায় আম্রকাননে পথ নাটিকার মধ্যদিয়ে। শান্তিনিকেতনের ওই অনুষ্ঠানের বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীরাও অংশ নিচ্ছেন।

এছাড়াও আজ সন্ধ্যায় কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসেও বৈশাখী সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। দুই বাংলার গুণি শিল্পীরা ছাড়াও দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরাও বাংলা বছর বরণের আয়োজনে সামিল হবেন।  

পদ্মার ইলিশ বেশ কয়েক বছর ধরেই পশ্চিমবঙ্গে আসছে না। তবে চোরা পথে অনুপ্রবেশকারী ইলিশ আসা বন্ধ করতে পারেনি দুই দেশের কোনও প্রশাসন। বর্ষা মৌসুমে সেই অনুপ্রবেশকারি ইলিশ হিমায়িত করে রাখেন ব্যবাসীরা, বিশেষ দিন গুলোতে চড়া দামে বিক্রির লোভে। আর সেই হিমায়িত ইলিশ মাছ কিনতেই সকাল থেকে ভোজন রসিক বাঙালীরা লম্বা লাইন ধরেছেন কলকাতা সহ পার্শবর্তী এলাকার ছোট-বড় বাজারে। চোরা পথে আসা ইলিশ বিক্রি হচেছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫শ রুপি কেজি।

ইলিশ ছাড়াও খাসির দোকানেও মাংস কেনার ভিড় চোখে পড়ে সকাল থেকে। ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখা যাচেছ মিষ্টির দোকান গুলোতেও।

এদিকে আজ হালখাতাও। কলেজ স্ট্রিটের দোকান গুলোতে সকাল থেকেই নানা আয়োজন চলছে। কলকাতা ছাড়াও জেলা শহর বারাসত, কৃষ্ণনগর, চুচড়া, আসানসোল, দিনাজপুর সহ হাওড়া হুগলি শহরে বাংলা বছর উদযাপনে চলছে নানা আয়োজন।

Source : jagonews24

Post a Comment