**TRY FREE HUMAN READABLE ARTICLE SPINNER/ARTICLE REWRITER**

১৮ বিঘার পুকুর ২৬ হাজার টাকায় ইজারা!


নওগাঁর বদলগাছীতে ১৮ বিঘার অর্পিত (ভিপি) সম্পত্তির পুকুর বাৎসরিক মাত্র সাড়ে ২৬ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। ইজারার মূল্য কম দিয়ে প্রকাশ্যে ইজারা ডাকে অংশগ্রহণকারীরা গোপনে নিজেদের মধ্যে পাঁচ লাখ দুই হাজার টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার বদলগাছী উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে ওই পুকুরটি প্রকাশ্যে ইজারা ডাকের আয়োজন করা হয়। 

উপজেলা ভূমি অফিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল উপজেলার হলুদবিহার গ্রামে ১৮ বিঘার একটি অর্পিত সম্পত্তির পুকুরসহ তিনটি পুকুরের প্রকাশ্যে ডাকে ইজারার দিন ধার্য ছিল। ওইদিন পুকুর ইজারার ভাগাভাগি নিয়ে ডাকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হুসাইন শওকত পুকুর ইজারা ডাক স্থগিত ঘোষণা করে পুনরায় তারিখ ঘোষণা করেন।  

গত মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) আবার উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে পুকুর ইজারার প্রকাশ্য ডাক অনুষ্ঠিত হয়। এইদিন তিন হাজার টাকা করে জামানত দিয়ে ৯৩ জন ব্যক্তি প্রকাশ্যে পুকুর ইজারা ডাকে অংশ নেন। ইজারার ডাকে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মধ্যে পাঁচ লাখ দুই হাজার টাকায় সমঝোতা করেন। পরে মিঠাপুর গ্রামের নছির উদ্দিনের ছেলে বেলাল হোসেন হলুদবিহার গ্রামের ১৮ বিঘার অর্পিত সম্পত্তির পুকুরটি বাৎসরিক সাড়ে ২৬ হাজার টাকা ডাক দেন। ওই টাকায় তিন বছরের জন্য তাঁকে পুকুরটি  ইজরা দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একাধিক মাছ চাষী জানান, তিন বছরের ওই পুকুরটি ইজারা মূল্য হতো কমপক্ষে সাত লাখ টাকা। তিন বছরের জন্য সাড়ে ২৬ হাজার টাকায় এক বিঘার পুকুর ইজারা পাওয়াও অসম্ভব। 

পুকুরের ইজারাদার বেলাল হোসেন জানান, হলুদবিহার গ্রামের আকতার হোসেন পুকুরটি ইজারা নিয়েছেন। আমাকে দিয়ে শুধু পুকুরটি ডেকে নেয়া হয়েছে। কত টাকা দিয়ে আখতার হোসেন পুকুরটি ইজারা নিয়েছেন তা আমার  জানা নেই। তবে এখনো কোনো টাকা পয়সা হাতে পাইনি। 

আকতার হোসেন জানান, তিনি ৫ লাখ ২ হাজার টাকা দিয়ে পুকুর ডেকে নিয়েছেন।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হুসাইন শওকত জানান, ছয় একর চার শতকের পুকুরটি সর্বোচ্চ বাৎসরিক সাড়ে ২৬ হাজার টাকা ডাকে মিঠাপুর গ্রামের নছির উদ্দীনের ছেলে বেলাল হোসেন তিন বছরের জন্য  ইজারা পেয়েছেন। প্রকাশ্যে ডাকে পুকুরটি ইজারা দেয়া হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, পুকুরটিতে পানি থাকে না। এ কারণেই কেউ মাছ চাষ করতে পারে না। গতবারে ইজারা মূল্য ছিল ২৩ হাজার টাকা। এবার সাড়ে তিন হাজার টাকা বেশি পাওয়া গেছে।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment