হাইওয়ে পুলিশে বাড়ছে জনবল, ফাঁড়ি হচ্ছে থানা


দেশের প্রায় ২১ হাজার কি.মি মহাসড়ক রয়েছে। মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার ও দুর্ঘটনা রোধে ২০০৫ সালের ১৪ জুন গঠন করা হয় হাইওয়ে পুলিশ। 

প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত ১১ হাজার কি.মি মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের ২৮টি স্টেশন (থানা) এবং ৪৪টি ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জনবল রয়েছে মাত্র দুই হাজার ১৯২ জন। রেকার  মাত্র ছয়টি থাকলেও নেই অ্যাম্বুলেন্স।  তবে পুলিশের এ ইউনিট গঠন হলেও দুর্ঘটনা ও মহাসড়কে  অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। হাইওয়ে পুলিশ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব।

মহাসড়কে দুর্ঘটনা, ডাকাতি, তেল চুরি ও চোরাচালনসহ নানা অপরাধ প্রতিরোধে সবগুলো ফাঁড়িকে থানায় রুপান্তর চায় হাইওয়ে পুলিশ। মুলত: মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশের। জনবল অপ্রতুলতার কারণে কোনো অপরাধেই সঠিকভাবে মোকাবেলা করতে পারছে না হাইওয়ে পুলিশ।

জানা গেছে, হাইওয়ে পুলিশ চারটি অঞ্চলে বিভক্ত। এগুলো হচ্ছে- কুমিল্লা, বগুড়া, মাদারীপুর ও গাজীপুর। কুমিল্লা অঞ্চল দাউদকান্দি, কক্সবাজার থেকে পার্বত্য জেলাসহ পুরো চট্টগ্রাম বিভাগ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কিছু অংশ। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ নিয়ে বগুড়া অঞ্চল। খুলনা ও বরিশাল বিভাগসহ বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা নিয়ে মাদারীপুর অঞ্চল। সিলেট বিভাগসহ বৃহত্তর ঢাকা ও ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গাজীপুর অঞ্চল।

এসব অঞ্চলের প্রতিটি থানা ও ফাঁড়ির দূরত্ব ৮০ থেকে ১০০ কি. মি.। প্রতিটি হাইওয়ে থানার জন্য আছে একটি গাড়ি। এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে একবার টহল দিতেই দুই থেকে তিন ঘণ্টা লেগে যায়। এর মধ্যে কোনো নাশকতা বা দুর্ঘটনা ঘটলে তা সহজেই হাইওয়ে পুলিশের নজর এড়িয়ে যায়।

জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতা ও পরবর্তীতে ২০১৫ সালের শুরুর নাশকতায় করা মামলার তদন্ত ক্ষমতা না থাকায় দমরার উপর খাঁড়ার ঘাদ হয়ে উঠেছিল হাইওয়ে পুলিশের জন্য। তবে গত দুই বছর ধরেই হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা জানান, মহাসড়কে কাজ করলেও তাদের আশ্রয় কিংবা বিশ্রামের জন্য নেই বাসস্থান। যেসব থানা ও ফাঁড়ির রয়েছে তাও আবার অনেকগুলোর নেই নিজস্ব জায়গা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থেকে জীবনবাজি রেখেই তারা দায়িত্বপালন করছেন। রেলওয়ে পুলিশের মামলা করা ও তদন্তের ক্ষমতা রাখা হলেও নেই হাইওয়ে পুলিশের। মহাসড়কের বাইরে গ্রেফতারের ক্ষমতাও নেই এ ইউনিটের।  

এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ প্রধান, উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মল্লিক ফকরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, মহাসড়কে নিরাপত্তা দিতে আমরা দিন-রাত কাজ করছি। আমাদের জনবল, যানবাহন, রেকার, অ্যাম্বুলেন্স ও বাসস্থানের সীমাবদ্ধতা আছে। তবে অনেকগুলো উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে জনবল রয়েছে ২১৯২ জন। মঞ্জুরকৃত জনবল ছিল ২৭৬২ জন। সে হিসেবে শূন্য রয়েছে ৫৯২ জন। তবে পুরো নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার নিরাপত্তার জন্য সাত হাজার জনবল দরকার।

হাইওয়ে ডিআইজি আরো বলেন, আমরা সবগুলো ফাঁড়িকে থানায় রুপান্তরের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছি। নতুন করে আরও ৫০টি থানার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ২৯টির কাজ চলছে। প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এব্যাপারে মন্ত্রণালয় আন্তরিক। সক্ষমতা বাড়লে মহাসড়কে নাশকতা, দুর্ঘটনা, ডাকাতি ও অপমৃত্যুর ঘটনার কমে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment