হবিগঞ্জে চার শিশু হত্যা : ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট


হবিগঞ্জের বাহুবলে চার শিশু হত্যা মামলায় পঞ্চায়েত সরদার আব্দুল আলী বাগালকে প্রধান করে ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুকতাদির হোসেন মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউসার আলমের আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 

মামলার ৪৮ দিনের মাথায় ৪২৭ পাতার পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্রে আব্দুল আলী বাগাল, তার ছেলে জুয়েল মিয়া, রুবেল মিয়া ও বেলাল মিয়া, সাহেদ, সালেহ আহমেদ, আরজু, উস্তার মিয়া, বাবুল মিয়া ও বাচ্চুকে অভিযুক্ত করা হয়। 

এদের মধ্যে বাচ্চু র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়েছে। আর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন জুয়েল মিয়া, রুবেল মিয়া, আরজু মিয়া ও সাহেদ। পলাতক রয়েছেন উস্তার মিয়া, তার ভাই বাবুল মিয়া ও বেলাল। 

এছাড়া উক্ত ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতারকৃত সালেহ আহমেদ ও বশির মিয়ার কোনো সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে তাদেরকেও মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন দেয়া হয়েছে। এদিকে অভিযোগপত্র দেয়ার পর পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম। 

তিনি জানান, ডাক্তার, এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণির ৫৭ জন সাক্ষির সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। মরদেহ বহনে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশা, মাটি চাপায় ব্যবহৃত সাবল, কুদাল, নিহত শিশুর রক্তমাখা পাঞ্জাবি, হাফহাতা গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়েছে। চার্জশিট তৈরিতে মোট ৪৮ দিন অর্থাৎ ৩২ কার্যদিবস সময় লেগেছে। অভিযোগপত্রে ঘটনার মূল নায়ক যার তত্ত্বাবধানে অপহরণ থেকে শুরু করে হত্যা, মাটি চাপাসহ সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে সেই আব্দুল আলী বাগালকেই প্রধান আসামি করা হয়েছে। তার উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের হত্যার মাধ্যমে মাস্টার আব্দুল খালেকের পরিবারকে নিঃবংশ করে দেয়া।

অভিযোপত্রে উল্লেখ করা হয়, র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত বাচ্চুর অটোরিকশায় করে চার শিশুকে তুলে নেয়া হয়। পথে তাদের চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করে নেয়া হয় আব্দুল আলী বাগালের লেবু বাগানে। তাদেরকে হত্যার পর সেখানে রাখা হয়। রাত গভীর হলে তাদের মরদেহ গ্রামের পার্শ্ববর্তী বালু মহালে নিয়ে মাটি চাপা দেয়া হয়। 

হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিল আলীর দুই ছেলে রুবেল মিয়া ও জুয়েল মিয়া, তার ভাতিজা সাহেদ আলী ওরফে সায়েদ ও অন্যতম সহযোগি আরজু মিয়া। ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তদারকি করে আব্দুল আলী বাগাল। আর মরদেহ বহনে ছিল বন্দুকযুদ্ধে নিহত বাচ্চু, পলাতক বেলাল ও উস্তার মিয়া। তাদের সিএনজি অটোরিকশায় করেই মরদেহগুলো বহন করা হয়।

আর হত্যার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ দিন ধরে আব্দুল আলীর সঙ্গে মাস্টার আব্দুল খালেকের গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব। আব্দুল আলী গ্রামে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। পঞ্চায়েতের নেতৃত্ব নিয়ে তাদের মাঝে দ্বন্দ্ব লেগেই ছিল। সর্বশেষ বড়ই গাছের ডাল কাটার একটি সালিশে আলী লাঞ্ছিত হয়। এনিয়ে তাদের মাঝে হামলা, সংঘর্ষের ঘটনা পর্যন্ত ঘটে। কোনো অবস্থায়তেই আব্দুল খালেকের পঞ্চায়েতের সঙ্গে পেরে না উঠায় শিশুদের হত্যার মাধ্যমে তার গোষ্ঠীকে নিঃবংশ করে দেয়ার পরিকল্পনা নেয় আব্দুল আলী। এমন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নারকিয় এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
সুত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment