কর্মকতা-কর্মচারীদের দখলে কাছারি বাড়ির নীলকুঠি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে অবস্থিত নীলকুঠি ভবনটি এখন কাছারি বাড়ির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে দেশ বিদেশ থেকে আসা রবীন্দ্র অনুরাগীরা নীলকুঠি ভবনের ভিতরে পরিদর্শন করতে পারছেন না। 

এছাড়াও কাছারি বাড়ি চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এর ভেতর বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আগামী ২৫ বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জন্মবার্ষিকীর আগেই এই ভবন সকলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন রবীন্দ্র ভক্তরা।

এলাকাবাসী ও আগত রবীন্দ্র ভক্তদের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, এই নীলকুঠি ভবন তৎকালিন বৃটিশ আমলে নির্মিত। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারির দায়িত্ব পাওয়ার পর এই কুঠিতে খাজনা আদায় করতেন। এখানে অনেক ধরনের আসবাবপত্র ও সুসজ্জিত অবকাঠামো রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ দায়িত্ব বুঝে নেয়ায় পর সবকিছু সংষ্কার করে। প্রথম দিকে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উমুক্ত করা হলেও পরবর্তিতে কাছারি বাড়ির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এই ভবনটি আবাস স্থল হিসেবে গড়ে তোলেন। প্রায় ৫ বছর যাবত এই ভবনটি তাদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে রবীন্দ্র ভক্তরা এই ভবনের ভিতরে প্রবেশ করতে না পারায় তারা কবির অনেক স্মৃতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বুধবার বিকেলে ঢাকা থেকে আসা ইনডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী তনিমা খাতুন জানান, জাদুঘর পরিদর্শন করলেও তিনি নীলকুঠি ভবনটি পরিদর্শন করতে পারনেনি। রবীন্দ্রনাথের খাজনা আদায় করার ঘর হিসেবে এই নীল কুঠি ব্যবহৃত হতো। বইতে পড়ে এ বিষয়টি তিনি অবগত হলেও বাস্তবে এসে তা না দেখতে পেয়ে হতাশ হয়েছেন বলে জানালেন।

স্থানীয় রবীন্দ্র ভক্তরা অভিযোগ করে বলেন, ২৫শে বৈশাখ রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে অনেক দর্শনার্থীর সমাগম হবে। এই দিনের আগেই এই নীলকুঠি ভবন উম্মুক্ত করে দিলে বাইরের দর্শনার্থীরা দেখতে পাবে। এ ছাড়াও স্কুল কলেজের বেশকিছু শিক্ষার্থীরা বিকেলে ও সন্ধ্যার দিকে এখানে আপত্তিকর অবস্থায় চলাফেরা করে। মাঝে মধ্যে কিছু অসামাজিক ঘটনাও ঘটে। এ বিষয়ে কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

এ ব্যাপারে দায়িত্বরত কাস্টডিয়ান হালিমা আফরোজ জানান, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক ভবন না থাকায় এখানে দায়িত্বরত ৯টি পরিবার এই নীলকুঠি ভবনের মধ্যেই বসবাস করে আসছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের লিখিত অনুমতি না থাকলেও মৌখিক অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে এ ভবনটি। ভবিষ্যতে কোনো জমি অধিগ্রহণ করা হলে এখানকার বসবাসকারীরা সেখানে চলে যাবে। জায়গা অধিগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর বরাবর আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নিয়ন্ত্রণে। তারাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এটি উন্মুক্ত করার ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মহাপরিচালক আলতাফ হোসেন জানান, নীলকুঠির মধ্যে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বসবাসের বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment