ইকুয়েডরে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭২


ইকুয়েডরে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২শ ৭২। শনিবার রাতে আঘাত হানা ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। বিগত কয়েক দশকের মধ্যে এই ভূমিকম্পকে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর রয়টার্সের। 

ভয়াবহ ওই ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল রাজধানী কুইটো থেকে ১শ’ ৬০ কিলোমিটার দূরে মুইসনি শহরে। যার গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের আঘাতে দেশটিতে বহু ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। অনেক বাড়ি-ঘর, বহুতল ভবন, ব্রিজ এবং রাস্তা-ঘাট ভূমিকম্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

ভূমিকম্পের পর প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরিয়া তার ইতালি সফর বাতিল করে দ্রুত দেশে ফিরে এসেছেন। তিনি বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। এক টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট বলেন, ভূমিকম্পের পর সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে ধ্বংসস্তূপ থেকে লোকজনকে উদ্ধার করা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সব কিছুই পুণরায় গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু কারো জীবন ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। আর এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২শ ৭২টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত  আহত হয়েছে আড়াই হাজার মানুষ। 

ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের কাছে অবস্থিত এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে পেডেরনালস এলাকায় বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পর্যটনের জন্য জনপ্রিয় ওই এলাকায় ভূমিকম্পের পরও ১শ ৬০ বার মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। ওই এলাকার বিচ এবং পাম গাছের সারিগুলো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভূমিকম্পে ওই এলাকার ৯১ জন প্রাণ হারিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মিলটন জারাতে জানিয়েছেন, ওই এলাকার প্রায় ৬০ ভাগ বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

ভূমিকম্পের পর ছয়টি প্রদেশে ভূমিকম্প সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment