ঠাকুরগাঁওয়ে গম বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

আনুষ্ঠানিকভাবে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সারাদেশে ২৮ টাকা কেজি দরে গম ক্রয়ের ঘোষণা দিলেও গম বিক্রি নিয়ে এখনো শঙ্কায় ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা।

মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সারাদেশে ২ লাখ মে. ট. গম ক্রয় করার কথা কৃষকের কাছ থেকে। কিন্তু এমন আশার আলো ক`জন কৃষক দেখবেন তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ঠাকুরগাঁও সদর, হরিপুর, রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ মোট ৫টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৬৮ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে গম আবাদ হয়েছে। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ হাজার হেক্টর জমিতে। সেই তুলনায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। আর এ থেকে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৬৫ মে. ট. গম। যা সারাদেশের খাদ্য চাহিদা পূরণের ৩ ভাগের ১ ভাগ। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া গম চাষে উপযোগী ও খরচ স্বল্প হয় বলেই প্রতি বছর এ জেলায় গমের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে গম উৎপাদনের পর কৃষক মজুত করতে না পারায় তেমন একটা দাম পায় না। 

উল্লেখ্য, গেল বছর ঠাকুরগাঁও জেলার ৫টি উপজেলায় গম কেলেঙ্কারি নিয়ে স্থানীয় কৃষকরা মিছিল মিটিং আন্দোলন করলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেশকিছু প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও তেমন কোন লাভ হয় নি কৃষকের। কর্তৃপক্ষ তাদের মতো করে তালিকা তৈরির মাধ্যমে গম ক্রয় করেছেন। এতে প্রকৃতপক্ষে লাভবান হয়েছেন রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীরা। 

সদর উপজেলার আকচা, নারগুন, শুখানপুখুরি ইউনিয়নের ফারাবাড়ি, ডিহাট ও নারগুন গ্রামের আব্দুল্লাহ, নজরুল ইসলাম, আব্দুল খালেকসহ কয়েকজন কৃষক জানান, আমাদের এক বিঘা জমিতে গম আবাদ করতে খরচ হয়েছে ৮-১০ হাজার টাকা। আর বিঘা প্রতি সর্বোচ্চ গম উৎপাদন হয়েছ ২৫ মণ পর্যন্ত। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ গম বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। এতে গম আবাদ করে তেমন একটা লাভ হচ্ছে না। 
আর প্রতি বছর সরকারিভাবে গম ক্রয় করা হলেও কৃষকরা তেমন একটা লাভবান হতে পারে না। কারণ গেল বছর জেলার ৩ এমপি আর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কর্মকর্তারা তাদের মন মতো তালিকা তৈরির মাধ্যমে বেশির ভাগ মিলারদের কাছে গম ক্রয় করে। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়। এবারও যদি তেমন ঘটনা ঘটে তাহলে কৃষকরা প্রতিবাদ করলেও লাভ হবে না। আমরা আশা করবো, প্রকৃত কৃষক যেন এর সুফল পায়।

মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম। তিনি জানান, আরও ১৫-২০ দিন সময় লাগবে। কৃষক কৃষি কার্ডের মাধ্যমে গম দিবেন খাদ্য গুদামে। আর তখন যদি কৃষকের কাছে গম না থাকে তাহলে ব্যবসায়ীদের কাছেই গম ক্রয় করা হবে।  

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী জানান, এখনো আমাদের কাছে কোনো নির্দেশানা আসেনি। আমি জেলা খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। উনারা জানিয়েছেন, এমপির নির্দেশনা মোতাবেক আপাতত তালিকা তৈরি করতে। সময় হলেই গম কেনা কার্যক্রম শুরু হবে। এতে কৃষক তেমন একটা লাভবান হবেন বলে আমার মনে হয় না। সরকারিভাবে নির্দেশনা মোতাবেক সময় মতো প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে গম সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হলে কৃষক লাভবান হবেন।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment