**TRY FREE HUMAN READABLE ARTICLE SPINNER/ARTICLE REWRITER**

ঝালকাঠিতে বসছে বোম্বাই মরিচের হাট


অনেক হাটের কথা শোনা গেলেও বোম্বাই মরিচের হাটের কথা সচরাচর শোনা যায় না। কিন্তু ঝালকাঠি সদর উপজেলার পাঁজিপুথি পাড়া, শতদশকাঠি ও ভীমরুলীতে প্রতি সপ্তাহে বসে বোম্বাই মরিচের হাট। বৃহস্পতিবার ও রোববারে হাট বসে পাঁজিপুথি পাড়ায়। শতদশকাঠিতে হাট হয় শনিবার ও বুধবার। আর ভীমরুলী বাজারে হাট ছাড়া প্রতিদিনই বিক্রি হয়। 

জানা গেছে, এসব হাটে বোম্বাই মরিচের পসরা সাজিয়ে বসে পাইকাররা। পাইকাররা আবার এই মরিচ পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাগানগুলো থেকে কিনে আনেন। 

পাঁজিপুথি পাড়া হাটের মরিচের পাইকার মতিন হাওলাদার জানান, তারা ১ হাজার বোম্বাই মরিচ ৩০০ টাকায় পাইকারি কিনে সুবিধাজনক দামে আবার ঝালকাঠির বাইরে থেকে আসা পাইকারদের কাছে পাইকারি বিক্রি করেন। 

তিনি জানান, এই বোম্বাই মরিচের বড় চালানটাই যায় ঢাকার কারওয়ান বাজারে। এছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট ও ইন্ডিয়ায়ও এখান থেকে বোম্বাই মরিচের পাইকারি চালান হয়। 

শতদশকাঠি বোম্বাই মরিচ চাষীরা জানিয়েছেন, শতদশকাঠি, পাঁজিপুথিপাড়ায় ও ভীমরুলী বাজারে  প্রতি হাটে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকার বোম্বাই মরিচ বেচা কেনা হয়। কোন কোন সময় ফলন বেশি ভালো হলে লক্ষাধিক টাকাও কেনা বেচা হয়। 

ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৯টি গ্রামে চাষ হয় বোম্বাই মরিচের। গ্রামগুলো হলো জগদীশপুর, শতদশকাঠি, শাখাকাচি, কাপড়কাঠি, খাজুরা, ভীমরুলী, ডুমুরিয়া, মীরাকাঠি ও গইওর। এসব গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক বোম্বাই মরিচ চাষের সঙ্গে জড়িত। এসব গ্রামের চাষিরা ধানী জমিতে কাঁদি কেটে চাষ করেন বোম্বাই মরিচের। একটি গ্রামে ধানের চাষ হয় না বললেই চলে। 

শতদশকাঠি গ্রামের বোম্বাই মরিচ চাষী রিপন বড়াল জানান, কার্তিক মাসে তারা গাছ লাগান এবং ফসল তোলেন চৈত্র/বৈশাখ মাসে। ইংরেজি মার্চ এবং এপ্রিল মাসে বেশি ফলন হয়। এবার তিনি ১ বিঘা জমিতে বোম্বাই মরিচের চাষ করেছেন। কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হলে এবার আরও বাম্পার ফলন হতো বলে তিনি দাবি করেন। 

একই গ্রামের বোম্বাই মরিচ চাষী নারায়ণ হাওলাদার জানান, তিনি ২৬ শতাংশ জমিতে এ বছর বোম্বাই মরিচ লাগিয়েছেন। তিনি জানান, এ অঞ্চলের ৯টি গ্রামের বোম্বাই মরিচের ফলনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হাটগুলো আস্তে আস্তে প্রসারিত হচ্ছে। প্রতি বছরই বিক্রি বাড়ছে তাদের। 

তবে নারায়ণ হাওলাদারসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য বোম্বাই মরিচ চাষী ও এর পাইকারি বিক্রেতারা মনে করেন, আরও বেশি প্রচার হলে দক্ষিণাঞ্চলের এই ব্যতিক্রমধর্মী হাটে সারাদেশ থেকে আসা ক্রেতার সংখ্যা বাড়তো। তাই এসব গ্রামের বোম্বাই মরিচ চাষী ও পাইকারি বিক্রেতারা এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা ও সহানুভূতি কামনা করেছেন।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment