মাটি ও মানুষের জন্য নিজ গ্রামে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়েছি


আসলে শিকড়ের জন্য কিছু না করতে পারলে মানুষের অস্তিত্ব থাকেনা। এটা সত্যি সবাই শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়তে ঢাকার দিকে ছোটে। সেখানে সুযোগ সুবিধা অনেক ভালো। তবে এলাকার মানুষ হিসেবে মাটি ও মানুষের কাছে দায়বদ্ধতার কারণে আমি যশেরাঞ্চলে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। কেননা নিজ এলাকায় আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে। সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই। কথাগুলো বলছিলেন আফিল গ্রুপের কর্ণধার শেখ আফিল উদ্দিন।  

শেখ আফিল উদ্দিন একজন সফল উদ্যোক্তা। দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সেখ আকিজ উদ্দিনের ছেলে শেখ আফিল উদ্দিন নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন তার বেশিরভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠান। বাবার হাত ধরেই তিনি ২০০০ সালের দিকে ব্যবসায় যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে আফিল গ্রুপে ২৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কৃষিখাতের পাশাপাশি জুট মিল, পেপার মিল, পোলট্রি, বিক্সস, ফিড মিলসসহ অনেক ভারি শিল্পও আছে গ্রুপটিতে। এখানে কাজ করছেন প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারি। যশোর- ১ (শার্শা) আসনের সাংসদও তিনি। 

সফল উদ্যোক্তারা যখন রাজধানীমুখী ব্যবসা পরিচালনা করছেন সেখানে তার আঞ্চলিকতার প্রবণতাই বেশি। এধরনের বিপরীতমুখী স্রোতে থেকে সফল হওয়ার পেছনে কোন বিষয়টি কাজ করছে এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, বিখ্যাত কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিদেশে গিয়েছিলেন বিদেশি ভাষায় কবিতা লিখে খ্যাতি অর্জনের জন্য। কিন্তু তিনি সেখানে সফল হননি। পরে নিজ গ্রামে এসে সেই খ্যাতি লাভ করেছেন।  

তিনি আরো বলেন, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো কৃষিখাত। কেনোনা সোনা, তেলের খনি একদিন শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু কৃষিখাত শেষ হবেনা। কৃষিখাতে আমাদের দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমিষের ঘাটতি পূরণের জন্য আমি কৃষিখাতে বেশি বিনিয়োগ করেছি। এজন্য রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদকও কয়েকবার আমি পেয়েছি। আমাদের কৃষি খাতে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক টেকনোলজি কাজে লাগিয়ে কৃষিখাতকে কিভাবে আরও অগ্রসর করা যায় সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। 

কৃষিখাতকে এগিয়ে নিতে সরকারকে প্রণোদনার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আমাদের দেশে কৃষিখাতে নগদ টাকার বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন নেই। কেনোনা বর্তমান সরকার কৃষিখাতে যে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে তাতে আমাদের দেশ কৃষি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের প্রয়োজন বিদেশি টেকনোলজি। এটাকে কাজে লাগিয়ে কৃষিখাতকে আরও কিভাবে উন্নত করা যায় সেদিকে অগ্রসর হতে হবে।

যশোর ভিক্তিক শিল্প স্থাপনে সরকারের কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, শুধু যশোর বা ঢাকা চট্রগ্রাম ভিত্তিক শিল্প স্থাপন নয়, সরকারের উচিত প্রতিটি উপজেলা ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়তে সহায়তা করা। কারণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলো গ্রাম। গ্রাম্য অর্থনীতি যদি বড় হয় তাহলে এদেশ উন্নত হতে বেশি সময় লাগবেনা। গ্রাম্য অর্থনীতিতে যারা এগিয়ে আসবে তাদেরকে সরকারের সহযোগীতা দিতে হবে। কর মওকুফসহ ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে। গামের্ন্টস শিল্পের উদ্যোক্তারা যদি গ্রামে বিনিয়োগ করেন তাহলে সস্তা শ্রমে তারা বেশি লাভবান হতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, আসলে যশোর অনেক প্রচীন একটি জেলা। ভারতের সঙ্গে সরাসরি এর যোগাযোগ রয়েছে। অনেক আগে জেলাটির উন্নয়ন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু হয়ত সরকারের নজর এখানে পড়েনি। যশোরাঞ্চলের অর্থনৈতিক অঞ্চল হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল, বিমান বন্দর, রেললাইন, নওয়াপাড়ায় নৌবন্দর এবং রয়েছে মংলা সুমদ্র বন্দর। যে কারণে এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে উদ্যোক্তারা অবশ্যই এগিয়ে আসবেন। এছাড়া যশোরে শিগগিরই সফটওয়ার টেকনোলজি পার্ক চালু হতে যাচ্ছে। এখানে টেকনোলজি শিল্প প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠবে। তাছাড়া মংলা বন্দরকে ঘিরে সরকার বাগেরহাটে অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে যাচ্ছে। সেঠা হলে খুলনা বিভাগে আরও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে। 
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment