কে হচ্ছেন জাতিসংঘের মহাসচিব?


একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট, সাবেক তিন প্রধানমন্ত্রী, তিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও একজন খণ্ডকালীন কবি এ বছর জাতিসংঘ মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক এ সংগঠনের মহাসচিব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এই প্রথমবারের মতো পূর্ব ইউরোপ থেকে সম্ভবত একজন নারী জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক মহাসচিব পদে প্রতিযোগিতায় নামা আট প্রার্থীর প্রাথমিক পরিচিতি...

ইরিনা বোকোভা
ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী (১৯৯৬-১৯৯৭ সাল) জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ২০০৯ সাল থেকে। এর আগে তিনি ফ্রান্স ও মোনাকোতে বুলগেরিয়ার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। 

রাশিয়াপন্থী পূর্ব-ইউরোপের ৬৩ বছর বয়সী বোকোভা জাতিসংঘ মহাসচিব পদের শক্তিশালী প্রার্থী। সোভিয়েত আমলে তার বাবা বুলগেরিয়া কমিউনিস্ট পার্টির একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন।

হেলেন ক্লার্ক
২০০৯ সাল থেকে জাতিসংঘের উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ইউএনডিপি তার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘের কোনো সংস্থার সর্বোচ্চ পদে নারী হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। ৬৬ বছর বয়সী সাবেক এই শিক্ষক নিউজিল্যাণ্ডে দীর্ঘসময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্বেই দেশটিতে তিন মেয়াদে সরকার গঠন করে ক্লার্কের দল। তবে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পদে তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। কেননা অনেক কূটনীতিক নিউজিল্যান্ডের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পশ্চিমাবিরোধী বলে প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে।

নাতালিয়া ঘেরম্যান
মোলদাভিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমঝোতা করে তার দেশ পরিচালনা করেছেন। ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। অস্ট্রিয়া, সুইডেন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন এ প্রতিযোগী। মলদোভার স্বাধীনতার জনক ও প্রথম প্রেসিডেন্ট মিরসিয়া স্নেগারের মেয়ে ঘেরম্যান ইংলিশ, রাশিয়ান ও জার্মান ভাষায় কথা বলতে পারেন।

অ্যান্টোনিও গাটেররেস
জাতিসংঘের সাবেক শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হাই কমিশনার ইউরোপের শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী অ্যান্টোনিওকে মহাসচিব পদে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভাবা হচ্ছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ বছর ধরে ইউএনএইচসিআরে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৫ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি।

সার্জজান কেরিম
মেসিডোনিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের বলকান রাষ্ট্রদূত হিসেবেও পরিচিত মহাসচিব পদের এই প্রতিদ্বন্দ্বী ২০০৭-০৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাকে হেভিওয়েট প্রতিযোগী হিসেবে দেখছেন না কূটনীতিকরা। ৯ ভাষায় কথা বলতে পারেন কেরিম।

ইগোর লুসিক
২০১২ সাল থেকে মন্টিনিগ্রোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী লুসিক দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। মাত্র ৩৯ বছর বয়সে জাতিসংঘের মহাসচিব পদে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে তিনি সর্বকনিষ্ট প্রতিযোগীর খাতায় নাম অন্তর্ভূক্ত করেছেন।

ভেনসা পুসিক
গত জানুয়ারি পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ করেছেন ৬২ বছর বয়সী ক্রোয়েশিয়ার এই প্রতিযোগী। সমাজবিজ্ঞানী পুসিক লিঙ্গ সমতা ও সমকামীদের অধিকারের ব্যাপারে সবসময় তার সমর্থনের কথা জানিয়ে আসছেন। ইংলিশ ও জার্মান ভাষায় রয়েছে তার দক্ষতা।

ড্যানিলো তুর্ক
স্লোভেনিয়ার সাবেক এই রাষ্ট্রপতি দেশের প্রথম কোনো ব্যক্তি হিসেবে ১৯৯২ সালে জাতিসংঘ দূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। লিউব্লিয়ানার দূত হিসেবে পোস্টিংয়ের পর জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক সহকারী সচিব নিযুক্ত করা হয়েছিল তাকে। স্লোভেনিয়ায় ফেরার আগে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের পদে এবারের নির্বাচনে একমাত্র তুর্কই সবচেয়ে অভিজ্ঞ প্রতিদ্বন্দ্বী। সার্বো-ক্রোয়েটসহ অনর্গল কথা বলতে পারে ফ্রেন্স, ইংলিশ ও জার্মান ভাষায়।

Source : jagonewws24

Post a Comment