শ্যাওলা থেকে জ্বালানি


একটি সাধারণ পুকুর এবং বট্রোকোক্কাস নামের ক্ষুদ্র শ্যাওলা বৃহৎ আকারে তরল হাইড্রোকার্বন তৈরি করতে পারে যা  জৈব জ্বালানি উৎপন্ন করতে ব্যবহার করা যাবে। সমস্যা হল, আমরা এগুলোকে উৎস হিসেবে গণ্য করতে পারি না কারণ এই শৈবালগুলো খুব ধীর গতিতে বেড়ে উঠে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এ অ্যান্ড এম এগ্রি লাইফ রিসার্চ সেন্টারের একদল গবেষক দেখেছেন, যে জিন দ্বারা এনজাইম উৎপাদিত হয় সে জিন দিয়ে জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব। 

বিজ্ঞানী দল তেল উৎপাদনের এই ক্ষমতার প্রতিলিপি বড় পরিসরে পরীক্ষা করতে চায়। যেখানে বেশি পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব। তারা ধারণা করছেন, যে পদ্ধতিতে এনজাইম জিন উৎপন্ন করে তেল উৎপাদিত হয় সেভাবে অন্য জীবের ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে দ্রুত বর্ধনশীল শ্যাওলা।

গবেষক দলের প্রধান বিজ্ঞানী ড. টিম ডেভারেননি বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো বট্রোকোক্কাস নামের ক্ষুদ্র শ্যাওলাগুলো খুব ধীর গতিতে বৃদ্ধি পায়। এখান থেকে প্রচুর পরিমাণ জৈব জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব নয় এবং বাণিজ্যিকভাবে এই শ্যাওলাগুলো ব্যবহারে তেমন কোন উপকার পাওয়া যাবে না। একটি ক্ষুদ্র শ্যাওলা দ্বিগুণ হতে সময় নেয় এক সপ্তাহের মতো। যেখানে একটি বর্ধনশীল শ্যাওলার (যদিও এখন পর্যন্ত এই শ্যাওলাগুলো থেকে জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হয় নি) দ্বিগুণ হতে সময় লাগে মাত্র ৬ ঘন্টা। আমরা যদি এই প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত বর্ধনশীল কোন উদ্ভিদের ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারি এবং বৃহৎভাবে উৎপাদন করতে পারি তাহলে আমরা প্রচুর পরিমাণ জৈব জ্বালানি উৎপন্ন করতে সক্ষম হবো। আমাদের তেল উৎপাদনে চেষ্টা করে যেতে হবে।’ 

অবশ্যই সূর্য এবং বাতাসের শক্তি শক্তির উৎসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্বচ্ছ। কিন্তু যদি বিজ্ঞানীরা দ্রুত বর্ধনশীল শ্যাওলার মধ্য থেকে জৈব জ্বালানি উৎপন্ন করতে পারে তাহলে এটি হবে যুগান্তকারী আবিষ্কার এবং এতে খাদ্যের অভাব পূর্ণ হবে। 

ডেভারেননির দল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কবে নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে জৈব জ্বালানি বা তেল উৎপন্ন করা সম্ভব, এ সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে পারেনি গবেষক দল। 
সূত্র : বাংলামেইল২৪

Post a Comment