হাইব্রিড গাড়িতে সমন্বিত শুল্ক চান ব্যবসায়ীরা

পরিবেশবান্ধব হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে হাইব্রিড প্রযুক্তির রিকন্ডিশন্ড বা পুরোনো গাড়ি আমদানি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। আবার বেশি অর্থ লাগছে বলে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ক্রেতারা। অথচ এই গাড়িগুলো জ্বালানি সাশ্রয় এবং সাধারণ গাড়ির মতো শুল্ক ধার্য করলে সরকারের রাজস্বও কমবে না। ফলে রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির জন্য আলাদা এইচএস কোড ও শুল্কায়নে সাধারণ গাড়ির হার চান এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

নতুন বাজেটে হাইব্রিড গাড়ির জন্য বিশেষ নীতি সহায়তা ও প্যাকেজ চায় বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। সংগঠনটির সভাপতি এম এ হামিদ শরিফ জাগো নিউজকে বলেন, হাইব্রিড গাড়িতে জ্বালানি লাগবে এক তৃতীয়াংশ। পরিবেশ বান্ধব গাড়ি। রাজস্ব ঘাটতিও কমবে না। জ্বালানি জাতীয় সম্পদ। সেটি এভাবে গাড়িতে পুড়ে নষ্ট হতে কেন দিচ্ছি। এটি যাবে উৎপাদনের কাজে।

১৯৮৭ সাল থেকে গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবসায়ী গড়ে তুলেছেন ‘অকোকন গ্রুপ’ নামের একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। তিনি আরো বলেন, সাধারণ গাড়ি ক্রেতাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু ব্যাটারি চালিত হওয়ায় হাইব্রিড গাড়িতে ঝুঁকি কম। তাছাড়া সিলিন্ডার রাখার জায়গাও ব্যবহার হবে।

হামিদ শরিফ বলেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অর্থমন্ত্রীকে গত বছর ভুল বুঝিয়ে হাইব্রিড গাড়ির বিপক্ষে কাজ করেছে। আমরা চাই এবার সেটি আর হবে না।

এছাড়া রিকন্ডিশন্ড গাড়ির অবচয় হার পুন:র্নিধারণ, গাড়ি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ও সিসির স্তর পুনর্বিন্যাস, মাইক্রোবাস আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব তাদের। 

রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির বিষয়ে বারভিডা বলছে, সাধারণ একটি গাড়ির যে মূল্য, তা থেকে হুবহু একই মডেলের হাইব্রিড ইঞ্জিনযুক্ত গাড়ির মূল্য ২১ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি। তাই হাইব্রিড রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ ভর্তুকি মূল্য দিয়ে শুল্কায়ন করলে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি হবে না। উল্টো আমদানি বাড়ানোর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।

ইয়েলো বুকে হাইব্রিড গাড়ির পৃথক মূল্য থাকায় শুল্কায়নে কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। এছাড়া হাইব্রিড গাড়ির জন্য স্বতন্ত্র এইচএস কোড তৈরি ও সম্পূরক শুল্কের নিম্নতম স্তরে এটিকে রাখার দাবি হামিদ শরিফের।

তিনি বলেন, এটা সরকারের জন্য লাভজনক। পৃথিবীর অনেক দেশই এখন হাইব্রিড গাড়িকে উৎসাহিত করছে। ছয় মাসের কম বয়সের পুরোনো গাড়ির জন্য কোনো অবচয় করে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এটিকে পরিবর্তন করে এক বছর বয়সের পুরোনো গাড়ির জন্য ২৫ শতাংশ এবং এক থেকে দুই বছর বয়সের পুরোনো গাড়ির জন্য ৩৫ শতাংশ অবচয় সুবিধা চেয়েছে বারভিডা।

তাদের যুক্তি, ক্রেতারা নতুন গাড়ির সমান শুল্ক দিয়ে দুই বছরের পুরোনো গাড়ি কিনতে চান না। শুধু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি বাক্যের ভুলের কারণে এই অবস্থা।

বর্তমানে ১৫০১ সিসি থেকে ২০০০ সিসির গাড়ি আমদানিতে মোট কর ২১৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। এটিকে পুনর্বিন্যাস করে বারভিডা একই কর ধাপের আওতায় ১৫০১ থেকে ২৫০০ সিসির গাড়ি আমদানির সুযোগ চেয়েছে। সংগঠনটির যুক্তি, সিসির স্তরটি পুনর্বিন্যাস করা হলে ১৫০০ সিসির গাড়ি আমদানির ওপর চাপ কমবে। তখন চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বাড়বে। আর সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে।

এছাড়া বর্তমানে ২০০১ থেকে ২৭৫০ সিসির গাড়ির মোট কর ৩৭৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০০১ থেকে ২৭৫০ সিসির স্তরটি পরিবর্তন করে ২৫০১ থেকে ২৮০০ সিসির স্তর চায় সংগঠনটি। একইসঙ্গে ২৭৫১ থেকে ৪০০০ সিসির স্তরের পরিবর্তে ২৮০১ থেকে ৪০০০ সিসির স্তর চায় বারভিডা। এই স্তরের মোট কর ৬০৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

স্কুল, কলেজ এবং অফিসের কর্মী পরিবহনে ১২ থেকে ১৫ আসনের মাইক্রোবাস ব্যবহৃত হয়। তবে এই মাইক্রোবাস আমদানিতে ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে করে গাড়িগুলো মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মানুষ আগ্রহ পাচ্ছে না। আরোপিত সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের।

তাদের বক্তব্য, এটি প্রত্যাহার হলে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করে মানুষ এই গাড়ি ব্যবহার করবে। একইসঙ্গে রাস্তায় কিছুটা হলেও যানজট কমবে।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪

Post a Comment