সাপ কি তার শত্রুকে চিনে রাখে?


সাপ মানেই বিষাক্ত, ভয়ঙ্কর আর ভয়াল। এমন ধারণা পোষণ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। অনেকে আবার মনে করেন সাপের ক্ষতি করলে তখন কিছু করতে না পরলেও পরে ঠিকই প্রতিশোধ নেয়। কারণ সে তার শত্রুকে ঠিকই চিনে রাখে। আসলেই কি তাই? 

সাপ মানুষকে তাড়া করে
সাপ কখনোই মানুষের শত্রু নয়। আপনার, আমার থেকে এ প্রাণিটি অনেক শান্ত ও ভিতু। তাছাড়া এটি ক্ষতিকারকও নয়। সাপের সামনে পড়ে গেলে যদি দৌড়ে পালাতে যান বা বেশি লাফালাফি করেন, তাহলে সাপ আত্মরক্ষার্থে তেড়ে আসতে পারে। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকুন। দেখবেন, সাপ আপনাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে।

দাঁড়াশ সাপের লেজে বিষ
দাঁড়াশ সাপে কোনো বিষ থাকে না। অনেকে আবার মনে করেন এ সাপের লেজে বিষ রয়েছে। আর তা দিয়েই সে শত্রুকে ঘায়েল করে। কিন্তু লেজ তো দূরের কথা এর বিষদাঁতই নেই। মূলত ইঁদুর এবং ছোট পাখি ধরে খায়। তার থেকেও বড় কথা, ছোটখাটো বিষাক্ত সাপও এরা খেয়ে ফেলে।

সাপ বিষ ছুড়ে
এটা সত্য। কিন্তু সেই সাপের নাম স্পিটিং কোবরা। যা এই ভারত উপমহাদেশে নেই। এই সাপ মূলত আফ্রিকা এবং দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকার কিছু অংশে পাওয়া যায়।

সাপ তার শত্রুকে চিনে রাখে
এটা অবশ্যই সম্ভব! তা আপনি দেখতেও পারবেন কোনো সস্তা সিনেমা বা অতি ফালতু সিরিয়ালে। বাস্তবে তা সম্ভব নয়, কারণ সাপের স্মৃতিশক্তি বা বুদ্ধি নেই। তারা শুধু এটুকুই জানে, বাঁচতে গেলে খেতে হয়, আর খেতে হলে হত্যা করতে হয়। 

সাপে দুধ পান করে
মনে রাখবেন, সাপ শীতল রক্তের প্রাণী, মাংসাশী এবং স্তন্যপায়ী নয়। ফলে সাপের পক্ষে দুধ হজম করা অত্যন্ত কঠিন। তাছাড়া দুধ সাপের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকরও। দুধ পান করলে সাপ মারাও যেতে পারে। 

যেসব সাপকে দুধ খেতে দেখেন, তারা মূলত সাপুড়েদের সাপ। নাগপঞ্চমীর আগে সাপগুলোকে নাগাড়ে মাসখানেক প্রায় পানি পান না করিয়ে রাখা হয়। তারপর মুখের সামনে দুধ ধরা হয়। বাধ্য হয়েই ওই সাপগুলো সেই দুধ পান করে।

বীণ শুনে সাপে নাচে
সিনেমায় দেখা যায়, সাপুড়ে তার বীণ বাজাচ্ছে আর সাপ তা শুনে তার কাছে ছুটে আসছে। সেই সঙ্গে তার বীণের তালে তালে নাচছে। অথচ সাপের কানই নেই। এমনকি দৃষ্টিশক্তিও প্রখর নয়। এখন হয়তো ভাবছেন, তাহলে বীণ শুনে কি করে সাপ নাচে? আসলে শুনে নয় বীণ দেখেই সাপ নাচে! মূলত সাপুড়েরা বীণটি সাপের মুখের সামনে দোলাতে থাকেন। সাপও চোখের সামনে দুলুনি দেখে মাথা দোলাতে থাকে।

বুড়ো হলে সাপের গোঁফ-দাড়ি গজায়
অনেকই সময় গল্প করতে শোনা যায়, বুড়ো হয়ে গেলে সাপের গোঁফ-দাড়ি গজায়। এটা শুধু গল্পেই বলা যায়, কারণ সাপের গায়ে তো লোমই নেই। তাহলে হোঁফ-দাড়ি আসবে কোত্থেকে? 

সাপে সাপে শঙ্খ লাগে
দুই সাপকে এক সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে দেখে কেউ বলেন এটা সাপের খেলা, কেউ বলেন এখনই বৃষ্টি নামবে, কেউ আবার বলেন ঈশ্বরের মায়া। আর এটাকেই সাপের শঙ্খ লাগা বলা হয়। কিন্তু সেটা আসলে সাপের যৌনসঙ্গম।
সূত্র : বাংলামেইল২৪

Post a Comment