সাপাহারে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট

নওগাঁর সাপাহার উপজেলা সদরের মানিকুড়া দিঘীপাড়া গ্রামে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অত্যধিক নিচে নেমে যাওয়ায় প্রতি বছরের মত এ বছরও একই সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে গ্রামের প্রায় ৮০টি পরিবার পুকুর ও ডোবার ময়লা পানি দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করছে। এতে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। 

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও এখন পর্যন্ত পানীয় জলের সমস্যা ও পুকুর খননের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

জানা গেছে, ঠাঁঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল নামে খ্যাত নওগাঁর সাপাহার, পোরশা, পত্নীতলা ও নিয়ামতপুর এলাকা। এসব এলাকায় এমনিতেই পানির সঙ্কট। এর উপর আশির দশকের দিকে বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানি উত্তোলন করে ধান চাষ শুরু হয়। প্রতি বছর হাজার হাজার বিঘা ধান চাষ করায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর/লেয়ার অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে। আর এ কারণেই বর্তমানে এই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে হঠাৎ করে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিচ্ছে।

মানিকুড়া দিঘীপাড়া গ্রামের বয়োজেষ্ঠ রামপদ সরকার জানান, আগে পানির  তেমন সঙ্কট ছিল না। উপজেলায় গভীর নলূকুপ স্থাপনের মাধ্যমে প্রতি বছর ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বছরের মাঘ মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত এলাকার শত শত পুকুর-ডোবা শুকিয়ে যায়। গ্রামের অনেকের বাড়িতে টিউবওয়েল আছে সেগুলো অকেজো হয়ে যায়। এতে তীব্র পানীয় জলের অভাব দেখা দেয়। দু-একটি পুকুর-ডোবায় সামান্য পানি থাকলেও তা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যায়। 

মানিকুড়া দিঘীপাড়া গ্রামের অনিমা রাণী ও রুপালি সরকার জানান, মানুষ বাধ্য হয়ে গ্রামের পুকুর-ডোবার দূষিত পানিতে গোসল, বাড়ির থালা-বাসন, জামা-কাপড় পরিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় কাজ করেন। এতে অনেকের পরিবারে এ সময় অসুখ লেগেই থাকে। 

বিউটি রাণী ও কমলা সরকার জানান, বাড়ির পুরুষ মানুষ বিভিন্ন কাজে বাইরে থাকায় তাদের এক-দেড় কিলোমিটার দূরের গ্রাম থেকে বালতি বা কলসে করে পানি নিয়ে আসতে হয়। এতে তাদের ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়। 

রাম সরকার জানান, গ্রামে প্রায় ৮০টি পরিবারে সাড়ে ৪০০ জনের মত লোক বসবাস করে। গ্রামে বেশ কয়েকটি টিউবওয়েল থাকলেও খরার এই ৫ মাস পানি না উঠার কারণে অকেজো হয়ে থাকে। গ্রামে একটি পাতকুয়া থাকলেও প্রায় ৬০/৬৫ ফিট নিচে যাওয়ায় বালতি দিয়ে পানি তুলতে অসুবিধা হয়। উপরন্তু সেখানের পানীয় জল ঘোলা। অনেক সময় রাখার পর পানি খাওয়ার উপযোগী হয়। সকাল থেকে নারী, শিশুর পাশাপাশি পুরুষরাও পানি নেয়ার জন্যে ভিড় করে। 

রঞ্জন সরকার জানান, প্রতিদিন এতে পানির চাহিদা মেটাতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের হিমশিম খেতে হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এ ব্যাপারে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। দ্রুত পুকুর ও গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের দাবি জানান।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, ওই পানীয় জলের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্যে পরিষদ থেকে ইতোপূর্বে দুটি টিউবওয়েল বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পানির লেয়ার না পাওয়ায় টিউবওয়েল স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি  প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিরুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, ওই গ্রামে পানীয় জলের তীব্র সমস্যার কথা জানতে পেয়ে ইতোমধ্যে দুটি সাব-মার্সিবল স্থাপনের জন্যে ঊধ্বর্তন মহলের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ এলেই দ্রুত স্থাপন করা হবে। তিনি আরও বলেন, গ্রামে যে খাস পুকুরটি আছে তা সরকারের পক্ষ থেকে খনন করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে। 
সূত্র :জাগোনিউজ২৪

Post a Comment